১
গীবত থেকে বাঁচার উপায়
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩৭
আল্লাহ যাদেরকে বেশি বেশি ক্ষমা করেন
মহান আল্লাহর ক্ষমার হাত সকলের জন্য প্রসারিত থাকার পরও কিছু কিছু বিশেষ ব্যক্তি আছেন যাদের তওবা আল্লাহ তা‘আলা আরো বেশি এবং খুব দ্রুত কবুল করে থাকেন। নিম্নে সে সম্পর্কে আলোকপাত করা হল :
যারা গুনাহের পর দ্রুত ক্ষমা চায় :
وَمَنْ يَّعْمَلْ سُوْءًا اَوْ يَظْلِمْ نَفْسَهٗ ثُمَّ يَسْتَغْفِرِ اللهَ يَجِدِ اللهَ غَفُوْرًا رَّحِيْمًا
‘‘কেউ কোন মন্দকাজ করে অথবা নিজের প্রতি যুলুম করে পরে আল্লাহর নিকট ক্ষমাপ্রার্থনা করলে আল্লাহকে সে ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু হিসেবেই পাবে।’’ (সূরা নিসা- ১১০)
যারা মুর্খতাবশত পাপ করে বসে তারপর তওবা করে নেয় :
مَنْ عَمِلَ مِنْكُمْ سُوْءًا بِجَهَالَةٍ ثُمَّ تَابَ مِنْ بَعْدِهٖ وَاَصْلَحَ فَاَنَّهٗ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ
‘‘তোমাদের মধ্যে কেউ অজ্ঞতাবশত মন্দ কাজ করে, অতঃপর তওবা করে এবং সংশোধন করে তবে তো আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।’’
(সূরা আন‘আম- ৫৪)
فَمَنْ تَابَ مِنْ بَعْدِ ظُلْمِهٖ وَاَصْلَحَ فَاِنَّ اللهَ يَتُوْبُ عَلَيْهِ اِنَّ اللهَ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ
‘‘নিজের প্রতি অত্যাচার করার পর যে তওবা করে নেয় এবং নিজেকে সংশোধন করে নেয়, নিশ্চয় আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন। আল্লাহ তো অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।’’ (সূরা মায়িদা- ৩৯)
যারা পাপ থেকে বিরত থাকে :
فَاِنِ انْتَهَوْا فَاِنَّ اللهَ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ
‘‘অতঃপর যদি তারা (পাপ থেকে) বিরত হয় তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল ও করুণাময়।’’ (সূরা বাকারা- ১৯২)
যারা নিজেদেরকে সংশোধন করে নেয় :
اِلَّا الَّذِيْنَ تَابُوْا مِنْ بَعْدِ ذٰلِكَ وَاَصْلَحُوْا فَاِنَّ اللهَ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ
‘‘তবে যারা পাপ করার পর তওবা করে এবং নিজেদেরকে সংশোধন করে নেয়, তাদের ক্ষেত্রে নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াময়।’’ (সূরা আলে ইমরান- ৮৯)
যারা পাপ ছেড়ে নেক আমল শুরু করে দেয় :
اِلَّا مَنْ ظَلَمَ ثُمَّ بَدَّلَ حُسْنًا بَعْدَ سُوْءٍ فَاِنِّيْ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ
‘‘তবে যারা যুলুম করার পর মন্দকর্মের পরিবর্তে সৎকর্ম করে, তাদের প্রতি আমি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।’’ (সূরা নামল- ১১)
وَاِنِّيْ لَغَفَّارٌ لِمَنْ تَابَ وَاٰمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا ثُمَّ اهْتَدٰى
‘‘আমি অবশ্যই ক্ষমাশীল তার প্রতি, যে তওবা করে, ঈমান আনে, সৎকর্ম করে ও সৎপথে অবিচল থাকে।’’ (সূরা ত্বা-হা- ৮২)
যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে :
فَالَّذِيْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوْا الصَّالِحَاتِ لَهُمْ مَغْفِرَةٌ وَرِزْقٌ كَرِيْمٌ
‘‘যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাদের জন্য আছে ক্ষমা ও সম্মানজনক জীবিকা।’’ (সূরা হাজ্জ- ৫০)
وَاَقِمِ الصَّلَاةَ طَرَفَيِ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِّنَ اللَّيْلِ اِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ذٰلِكَ ذِكْرٰى لِلذَّاكِرِيْنَ
‘‘তুমি সালাত কায়েম কর দিনের দু’প্রামত্মভাগে ও রাতের প্রথমাংশে। সৎকর্ম অবশ্যই অসৎকর্ম মিটিয়ে দেয়। যারা উপদেশ গ্রহণ করে, এটা তাদের জন্য এক উপদেশ।’’ (সূরা হূদ- ১১৪)
যাদের মধ্যে তাকওয়া আছে :
يَا اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا اتَّقُوْا اللهَ وَاٰمِنُوْا بِرَسُوْلِهٖ يُؤْتِكُمْ كِفْلَيْنِ مِنْ رَّحْمَتِهٖ وَيَجْعَلْ لَكُمْ نُوْرًا تَمْشُوْنَ بِهٖ وَيَغْفِرْ لَكُمْ وَاللهُ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ
‘‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং তার রাসূল ﷺ এর প্রতি ঈমান আন, তিনি তার অনুগ্রহে তোমাদেরকে দ্বিগুণ পুরস্কার দেবেন এবং তিনি তোমাদেরকে দেবেন আলো, যার সাহায্যে তোমরা চলবে এবং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’’ (সূরা হাদীদ- ২৮)
يَا اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا اِنْ تَتَّقُوا اللهَ يَجْعَلْ لَكُمْ فُرْقَانًا وَّيُكَفِّرْ عَنْكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ وَاللهُ ذُوْ الْفَضْلِ الْعَظِيْمِ
‘‘হে মুমিনগণ! যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর তবে আল্লাহ তোমাদেরকে ন্যায়-অন্যায় পার্থক্য করার শক্তি দেবেন, তোমাদের পাপ মোচন করবেন এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন, আর আল্লাহ অতিশয় মঙ্গলময়।’’
(সূরা আনফাল- ২৯)
যারা উপদেশ মেনে চলে :
اِنَّمَا تُنْذِرُ مَنِ اتَّبَعَ الذِّكْرَ وَخَشِيَ الرَّحْمٰنَ بِالْغَيْبِ فَبَشِّرْهُ بِمَغْفِرَةٍ وَّاَجْرٍ كَرِيْمٍ
‘‘আপনি কেবল তাকেই সতর্ক করতে পারেন, যে উপদেশ মেনে চলে এবং না দেখে দয়াময় আল্লাহকে ভয় করে। অতএব আপনি তাকে সুসংবাদ শুনিয়ে দিন ক্ষমা ও উত্তম পুরস্কারের।’’ (সূরা ইয়াসীন- ১১)
যারা জান-মাল দিয়ে জিহাদ করে :
فَالَّذِيْنَ هَاجَرُوْا وَاُخْرِجُوْا مِنْ دِيْارِهِمْ وَاُوذُوْا فِي سَبِيْلِيْ وَقَاتَلُوْا وَقُتِلُوْا لَاُكَفِّرَنَّ عَنْهُمْ سَيِّئَاتِهِمْ وَلَاُدْخِلَنَّهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِيْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهَارُ ثَوَابًا مِنْ عِنْدِ اللهِ وَاللهُ عِنْدَهٗ حُسْنُ الثَّوَابِ
‘‘যারা হিজরত করেছে ও তাদের ঘর-বাড়ি হতে বিতাড়িত হয়েছে, আমার পথে নির্যাতিত হয়েছে এবং হত্যা করেছে ও নিহত হয়েছে, নিশ্চয় আমি তাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করব এবং তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাব যার নিচ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত। এটা আল্লাহর নিকট হতে প্রতিদান এবং আল্লাহর নিকট উত্তম প্রতিদান রয়েছে।’’ (সূরা আলে ইমরান- ১৯৫)
تُؤْمِنُوْنَ بِاللهِ وَرَسُوْلِهٖ وَتُجَاهِدُوْنَ فِي سَبِيْلِ اللهِ بِاَمْوَالِكُمْ وَاَنْفُسِكُمْ ذٰلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ اِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ - يَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوْبَكُمْ وَيُدْخِلْكُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِيْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهَارُ وَمَسَاكِنَ طَيِّبَةً فِيْ جَنَّاتِ عَدْنٍ ذٰلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيْمُ
‘‘তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে এবং তোমাদের ধন-সম্পদ ও জীবন দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদ করবে। এটাই তোমাদের জন্য শ্রেষ্ঠতম যদি তোমরা জানতে! (আললাহ) তোমাদের পাপ রাশি ক্ষমা করে দেবেন এবং তোমাদেরকে প্রবেশ করাবেন এমন জান্নাতে যার তলদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত এবং স্থায়ী জান্নাতের উত্তম বাসগৃহে। এটাই হচ্ছে মহাসাফল্য।’’ (সূরা সাফ- ১১,১২)
যারা আল্লাহর পথে দান করে :
اِنْ تُقْرِصُوْا اللهَ قَرْضًا حَسَنًا يُضَاعِفْهُ لَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ وَاللهُ شَكُوْرٌ حَلِيْمٌ
‘‘যদি তোমরা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দান কর, তবে তিনি তোমাদের জন্য এটা বহু গুণে বৃদ্ধি করবেন এবং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন। আল্লাহ গুণগ্রাহী ও সহনশীল।’’ (সূরা তাগাবুন- ১৭)
যারা নবী ﷺ এর অনুসরণ করে :
قُلْ اِنْ كُنْتُمْ تُحِبُوْنَ اللهَ فَاتَّبِعُوْنِيْ يُحْبِبْكُمُ اللهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوْبَكُمْ وَاللهُ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ
‘‘তুমি বলে দাও, যদি তোমরা আল্লাহর ভালবাসা পেতে চাও তবে আমার অনুসরণ কর, তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করবেন। আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’’
(সূরা আলে ইমরান- ৩১)
যারা সত্য ও সঠিক কথা বলে :
يَا اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا اتَّقُوْا اللهَ وَقُوْلُوْا قَوْلًا سَدِيْدًا - يُصْلِحْ لَكُمْ اَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوْبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللهَ وَرَسُوْلَهٗ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيْمًا
‘‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল। আল্লাহ তোমাদের ‘আমলগুলোকে সংশোধন করবেন এবং তোমাদের গুনাহ সমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে তো মহাসাফল্য লাভ করবে।’’ (সূরা আহ্যাব- ৭০,৭১)
যারা মানুষের ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে দেয় :
وَلْيَعْفُوْا وَلْيَصْفَحُوا اَ لَا تُحِبُوْنَ اَنْ يَغْفِرَ اللهُ لَكُمْ وَاللهُ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ
‘‘মানুষকে ক্ষমা কর এবং তাদের দোষ-ত্রুটি উপেক্ষা করে। তোমরা কি চাও না যে, আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করুন? আর আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।’’ (সূরা নূর- ২২)
যারা কবীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে :
اِنْ تَجْتَنِبُوْا كَبَائِرَ مَا تُنْهَوْنَ عَنْهُ نُكَفِّرْ عَنْكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَنُدْخِلْكُمْ مُدْخَلًا كَرِيْمًا
‘‘তোমাদেরকে যে সকল কবীরা গুনাহ হতে নিষেধ করা হয়েছে তা থেকে বিরত থাকলে আমি তোমাদের (অতীতের) গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেব এবং তোমাদেরকে সম্মানজনক স্থানে প্রবেশ করাব।’’ (সূরা নিসা- ৩১)
যারা গুনাহের পর দ্রুত ক্ষমা চায় :
وَمَنْ يَّعْمَلْ سُوْءًا اَوْ يَظْلِمْ نَفْسَهٗ ثُمَّ يَسْتَغْفِرِ اللهَ يَجِدِ اللهَ غَفُوْرًا رَّحِيْمًا
‘‘কেউ কোন মন্দকাজ করে অথবা নিজের প্রতি যুলুম করে পরে আল্লাহর নিকট ক্ষমাপ্রার্থনা করলে আল্লাহকে সে ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু হিসেবেই পাবে।’’ (সূরা নিসা- ১১০)
যারা মুর্খতাবশত পাপ করে বসে তারপর তওবা করে নেয় :
مَنْ عَمِلَ مِنْكُمْ سُوْءًا بِجَهَالَةٍ ثُمَّ تَابَ مِنْ بَعْدِهٖ وَاَصْلَحَ فَاَنَّهٗ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ
‘‘তোমাদের মধ্যে কেউ অজ্ঞতাবশত মন্দ কাজ করে, অতঃপর তওবা করে এবং সংশোধন করে তবে তো আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।’’
(সূরা আন‘আম- ৫৪)
فَمَنْ تَابَ مِنْ بَعْدِ ظُلْمِهٖ وَاَصْلَحَ فَاِنَّ اللهَ يَتُوْبُ عَلَيْهِ اِنَّ اللهَ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ
‘‘নিজের প্রতি অত্যাচার করার পর যে তওবা করে নেয় এবং নিজেকে সংশোধন করে নেয়, নিশ্চয় আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন। আল্লাহ তো অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।’’ (সূরা মায়িদা- ৩৯)
যারা পাপ থেকে বিরত থাকে :
فَاِنِ انْتَهَوْا فَاِنَّ اللهَ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ
‘‘অতঃপর যদি তারা (পাপ থেকে) বিরত হয় তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল ও করুণাময়।’’ (সূরা বাকারা- ১৯২)
যারা নিজেদেরকে সংশোধন করে নেয় :
اِلَّا الَّذِيْنَ تَابُوْا مِنْ بَعْدِ ذٰلِكَ وَاَصْلَحُوْا فَاِنَّ اللهَ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ
‘‘তবে যারা পাপ করার পর তওবা করে এবং নিজেদেরকে সংশোধন করে নেয়, তাদের ক্ষেত্রে নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াময়।’’ (সূরা আলে ইমরান- ৮৯)
যারা পাপ ছেড়ে নেক আমল শুরু করে দেয় :
اِلَّا مَنْ ظَلَمَ ثُمَّ بَدَّلَ حُسْنًا بَعْدَ سُوْءٍ فَاِنِّيْ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ
‘‘তবে যারা যুলুম করার পর মন্দকর্মের পরিবর্তে সৎকর্ম করে, তাদের প্রতি আমি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।’’ (সূরা নামল- ১১)
وَاِنِّيْ لَغَفَّارٌ لِمَنْ تَابَ وَاٰمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا ثُمَّ اهْتَدٰى
‘‘আমি অবশ্যই ক্ষমাশীল তার প্রতি, যে তওবা করে, ঈমান আনে, সৎকর্ম করে ও সৎপথে অবিচল থাকে।’’ (সূরা ত্বা-হা- ৮২)
যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে :
فَالَّذِيْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوْا الصَّالِحَاتِ لَهُمْ مَغْفِرَةٌ وَرِزْقٌ كَرِيْمٌ
‘‘যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাদের জন্য আছে ক্ষমা ও সম্মানজনক জীবিকা।’’ (সূরা হাজ্জ- ৫০)
وَاَقِمِ الصَّلَاةَ طَرَفَيِ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِّنَ اللَّيْلِ اِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ذٰلِكَ ذِكْرٰى لِلذَّاكِرِيْنَ
‘‘তুমি সালাত কায়েম কর দিনের দু’প্রামত্মভাগে ও রাতের প্রথমাংশে। সৎকর্ম অবশ্যই অসৎকর্ম মিটিয়ে দেয়। যারা উপদেশ গ্রহণ করে, এটা তাদের জন্য এক উপদেশ।’’ (সূরা হূদ- ১১৪)
যাদের মধ্যে তাকওয়া আছে :
يَا اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا اتَّقُوْا اللهَ وَاٰمِنُوْا بِرَسُوْلِهٖ يُؤْتِكُمْ كِفْلَيْنِ مِنْ رَّحْمَتِهٖ وَيَجْعَلْ لَكُمْ نُوْرًا تَمْشُوْنَ بِهٖ وَيَغْفِرْ لَكُمْ وَاللهُ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ
‘‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং তার রাসূল ﷺ এর প্রতি ঈমান আন, তিনি তার অনুগ্রহে তোমাদেরকে দ্বিগুণ পুরস্কার দেবেন এবং তিনি তোমাদেরকে দেবেন আলো, যার সাহায্যে তোমরা চলবে এবং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’’ (সূরা হাদীদ- ২৮)
يَا اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا اِنْ تَتَّقُوا اللهَ يَجْعَلْ لَكُمْ فُرْقَانًا وَّيُكَفِّرْ عَنْكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ وَاللهُ ذُوْ الْفَضْلِ الْعَظِيْمِ
‘‘হে মুমিনগণ! যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর তবে আল্লাহ তোমাদেরকে ন্যায়-অন্যায় পার্থক্য করার শক্তি দেবেন, তোমাদের পাপ মোচন করবেন এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন, আর আল্লাহ অতিশয় মঙ্গলময়।’’
(সূরা আনফাল- ২৯)
যারা উপদেশ মেনে চলে :
اِنَّمَا تُنْذِرُ مَنِ اتَّبَعَ الذِّكْرَ وَخَشِيَ الرَّحْمٰنَ بِالْغَيْبِ فَبَشِّرْهُ بِمَغْفِرَةٍ وَّاَجْرٍ كَرِيْمٍ
‘‘আপনি কেবল তাকেই সতর্ক করতে পারেন, যে উপদেশ মেনে চলে এবং না দেখে দয়াময় আল্লাহকে ভয় করে। অতএব আপনি তাকে সুসংবাদ শুনিয়ে দিন ক্ষমা ও উত্তম পুরস্কারের।’’ (সূরা ইয়াসীন- ১১)
যারা জান-মাল দিয়ে জিহাদ করে :
فَالَّذِيْنَ هَاجَرُوْا وَاُخْرِجُوْا مِنْ دِيْارِهِمْ وَاُوذُوْا فِي سَبِيْلِيْ وَقَاتَلُوْا وَقُتِلُوْا لَاُكَفِّرَنَّ عَنْهُمْ سَيِّئَاتِهِمْ وَلَاُدْخِلَنَّهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِيْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهَارُ ثَوَابًا مِنْ عِنْدِ اللهِ وَاللهُ عِنْدَهٗ حُسْنُ الثَّوَابِ
‘‘যারা হিজরত করেছে ও তাদের ঘর-বাড়ি হতে বিতাড়িত হয়েছে, আমার পথে নির্যাতিত হয়েছে এবং হত্যা করেছে ও নিহত হয়েছে, নিশ্চয় আমি তাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করব এবং তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাব যার নিচ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত। এটা আল্লাহর নিকট হতে প্রতিদান এবং আল্লাহর নিকট উত্তম প্রতিদান রয়েছে।’’ (সূরা আলে ইমরান- ১৯৫)
تُؤْمِنُوْنَ بِاللهِ وَرَسُوْلِهٖ وَتُجَاهِدُوْنَ فِي سَبِيْلِ اللهِ بِاَمْوَالِكُمْ وَاَنْفُسِكُمْ ذٰلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ اِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ - يَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوْبَكُمْ وَيُدْخِلْكُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِيْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهَارُ وَمَسَاكِنَ طَيِّبَةً فِيْ جَنَّاتِ عَدْنٍ ذٰلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيْمُ
‘‘তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে এবং তোমাদের ধন-সম্পদ ও জীবন দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদ করবে। এটাই তোমাদের জন্য শ্রেষ্ঠতম যদি তোমরা জানতে! (আললাহ) তোমাদের পাপ রাশি ক্ষমা করে দেবেন এবং তোমাদেরকে প্রবেশ করাবেন এমন জান্নাতে যার তলদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত এবং স্থায়ী জান্নাতের উত্তম বাসগৃহে। এটাই হচ্ছে মহাসাফল্য।’’ (সূরা সাফ- ১১,১২)
যারা আল্লাহর পথে দান করে :
اِنْ تُقْرِصُوْا اللهَ قَرْضًا حَسَنًا يُضَاعِفْهُ لَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ وَاللهُ شَكُوْرٌ حَلِيْمٌ
‘‘যদি তোমরা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দান কর, তবে তিনি তোমাদের জন্য এটা বহু গুণে বৃদ্ধি করবেন এবং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন। আল্লাহ গুণগ্রাহী ও সহনশীল।’’ (সূরা তাগাবুন- ১৭)
যারা নবী ﷺ এর অনুসরণ করে :
قُلْ اِنْ كُنْتُمْ تُحِبُوْنَ اللهَ فَاتَّبِعُوْنِيْ يُحْبِبْكُمُ اللهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوْبَكُمْ وَاللهُ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ
‘‘তুমি বলে দাও, যদি তোমরা আল্লাহর ভালবাসা পেতে চাও তবে আমার অনুসরণ কর, তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করবেন। আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’’
(সূরা আলে ইমরান- ৩১)
যারা সত্য ও সঠিক কথা বলে :
يَا اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا اتَّقُوْا اللهَ وَقُوْلُوْا قَوْلًا سَدِيْدًا - يُصْلِحْ لَكُمْ اَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوْبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللهَ وَرَسُوْلَهٗ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيْمًا
‘‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল। আল্লাহ তোমাদের ‘আমলগুলোকে সংশোধন করবেন এবং তোমাদের গুনাহ সমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে তো মহাসাফল্য লাভ করবে।’’ (সূরা আহ্যাব- ৭০,৭১)
যারা মানুষের ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে দেয় :
وَلْيَعْفُوْا وَلْيَصْفَحُوا اَ لَا تُحِبُوْنَ اَنْ يَغْفِرَ اللهُ لَكُمْ وَاللهُ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ
‘‘মানুষকে ক্ষমা কর এবং তাদের দোষ-ত্রুটি উপেক্ষা করে। তোমরা কি চাও না যে, আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করুন? আর আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।’’ (সূরা নূর- ২২)
যারা কবীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে :
اِنْ تَجْتَنِبُوْا كَبَائِرَ مَا تُنْهَوْنَ عَنْهُ نُكَفِّرْ عَنْكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَنُدْخِلْكُمْ مُدْخَلًا كَرِيْمًا
‘‘তোমাদেরকে যে সকল কবীরা গুনাহ হতে নিষেধ করা হয়েছে তা থেকে বিরত থাকলে আমি তোমাদের (অতীতের) গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেব এবং তোমাদেরকে সম্মানজনক স্থানে প্রবেশ করাব।’’ (সূরা নিসা- ৩১)