১
শিরক
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১১
ছোট শিরকের প্রকারভেদ
শিরকে আসগার বা ছোট শিরককে নিম্নোক্ত প্রকারসমূহে ভাগ করা যায়। যথা-
১. اَلشِّرْكُ الْاَصْغَرُ الْقَوْلِيُّ তথা কথাগত ছোট শিরক :
যা মুখের কথার দ্বারা সংগঠিত হয়ে থাকে। যেমন- গায়রুল্লাহর (আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর) নামে শপথ করা, আপনি চাইলে আর আল্লাহ চাইলে এ কাজটি হবে, আমি আল্লাহ এবং আপনার উপর ভরসা করছি, আমি আল্লাহ এবং আপনার হেফাজতে রয়েছি, আল্লাহ আর আপনি ছাড়া আমার আর কেউ নেই, এটি আল্লাহ এবং আপনার দান, কুকুরটি না হলে আজ ঘরে চোর ঢুকত, মাঝি বড় দক্ষ ছিল তাই আজ জীবন রক্ষা পেল, ড্রাইভারের দক্ষতায় বাসটি রক্ষা পেল, যেমন সার দিয়েছি তেমন ধান হয়েছে ইত্যাদি। হাদীসে ইরশাদ হয়েছে:
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ إِذَا حَلَفَ أَحَدُكُمْ فَلَا يَقُلْ مَا شَاءَ اللهُ وَشِئْتَ . وَلٰكِنْ لِيَقُلْ مَا شَاءَ اللهُ ثُمَّ شِئْتَ
ইবনে আববাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, তোমাদের মধ্যে কেউ যখন শপথ করবে, তখন সে যে ‘‘আল্লাহ এবং আপনি যা চান’’ (বাক্যটি) না বলে; বরং সে যেন বলে- ‘‘আল্লাহ যা চান, তারপর তুমি যা চাও’’। (সুনানে ইবনে মাজাহ ২১১৭; সুনানে নাসায়ী ৩৭৮২)
২. اَلشِّرْكُ الْاَصْغَرُ الْعَمَلِيُّ তথা কার্যগত ছোট শিরক :
অর্থাৎ এমন ছোট শিরক, যা কর্মের দ্বারা সংঘঠিত হয়। যেমন- যাত্রাকালে ঘরের দুয়ারে ভিখারী দেখে তাকে কুলক্ষণ মনে করা, কাক মাথার উপর উড়ে যাওয়াকে কোন অকল্যাণের পূর্বাভাস মনে করা, ভুতুম পেঁচার ডাককে কোন বিপদ বা মৃত্যুর দুঃসংবাদ মনে করা, ভাগ্য গণনার উদ্দেশ্যে গণকের কাছে যাওয়া, চোর ধরার জন্য বাটি, লাঠি ও বাঁশ চালান দেয়া, হারানো বস্ত্তর সন্ধান লাভে মাটিতে রেখা অংকন, আয়না ও তৈল পড়াতে বিশ্বাস করা, চোর সনাক্ত করার জন্য রুটি পড়া বা চাল পড়া খাওয়ানো, হারানো বস্ত্তর সন্ধান লাভের জন্য পীর-ফকির, দরবেশ, জ্বীন ও খনারের কাছে যাওয়া- এ ধরণের আরো অন্যান্য প্রচলিত কার্যাবলী শিরকের অন্তর্ভুক্ত। হাদীসে এসেছে,
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ عَنْ رَسُوْلِ اللهِ - - قَالَ : اَلطِّيَرَةُ شِرْكٌ الطِّيَرَةُ شِرْكٌ . ثَلَاثًا
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণনা করে বলেন, কুলক্ষন গ্রহণ করা শিরক। এ কথা তিনি তিনবার বললেন। (সুনানে আবু দাউদ ৩৯১২ )
৩. اَلشِّرْكُ الْقَلْبِيُّ তথা হৃদয়গত শিরক :
যেমন- লৌকিকতা, সুনাম ও যশ লাভের আশা, কোন আমল করে তার দ্বারা শুধু দুনিয়া কামনা করা। যথা:
* সক্ষম হওয়া সত্বেও বুজুর্গী প্রকাশের উদ্দেশ্যে দূর্বল ভঙ্গিমায় চলা, লম্বা তাসবীহ সারা দিন হাতে রাখা, তালিওয়ালা ও ছেড়া-ফাড়া পোশাক পরিধান করা।
* ক্রেতার কাছে বিশ্বস্ত ব্যবসায়ী হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করার জন্য দোকানে বসে উচ্চঃস্বরে ‘সুবহানাল্লাহ’, ‘আলহামদুলিল্লাহ’ ইত্যাদি ঘন ঘন পাঠ করা। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
مَنْ صَامَ رِيَاءً فَقَدْ أَشْرَكَ ، وَمَنْ تَصَدَّقَ رِيَاءً فَقَدْ أَشْرَكَ ، وَمَنْ صَلَّى رِيَاءً فَقَدْ أَشْرَكَ
যে ব্যক্তি অপরকে দেখানোর উদ্দেশ্যে সিয়াম পালন করলো সে শিরক করল, যে ব্যক্তি অপরকে দেখানোর জন্য দান করল সে শিরক করল, যে ব্যক্তি অপরকে দেখানোর জন্য সালাত আদায় করলো সে শিরক করল।
(মুসনাদে বায্যাজ ২৬৬৩)
১. اَلشِّرْكُ الْاَصْغَرُ الْقَوْلِيُّ তথা কথাগত ছোট শিরক :
যা মুখের কথার দ্বারা সংগঠিত হয়ে থাকে। যেমন- গায়রুল্লাহর (আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর) নামে শপথ করা, আপনি চাইলে আর আল্লাহ চাইলে এ কাজটি হবে, আমি আল্লাহ এবং আপনার উপর ভরসা করছি, আমি আল্লাহ এবং আপনার হেফাজতে রয়েছি, আল্লাহ আর আপনি ছাড়া আমার আর কেউ নেই, এটি আল্লাহ এবং আপনার দান, কুকুরটি না হলে আজ ঘরে চোর ঢুকত, মাঝি বড় দক্ষ ছিল তাই আজ জীবন রক্ষা পেল, ড্রাইভারের দক্ষতায় বাসটি রক্ষা পেল, যেমন সার দিয়েছি তেমন ধান হয়েছে ইত্যাদি। হাদীসে ইরশাদ হয়েছে:
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ إِذَا حَلَفَ أَحَدُكُمْ فَلَا يَقُلْ مَا شَاءَ اللهُ وَشِئْتَ . وَلٰكِنْ لِيَقُلْ مَا شَاءَ اللهُ ثُمَّ شِئْتَ
ইবনে আববাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, তোমাদের মধ্যে কেউ যখন শপথ করবে, তখন সে যে ‘‘আল্লাহ এবং আপনি যা চান’’ (বাক্যটি) না বলে; বরং সে যেন বলে- ‘‘আল্লাহ যা চান, তারপর তুমি যা চাও’’। (সুনানে ইবনে মাজাহ ২১১৭; সুনানে নাসায়ী ৩৭৮২)
২. اَلشِّرْكُ الْاَصْغَرُ الْعَمَلِيُّ তথা কার্যগত ছোট শিরক :
অর্থাৎ এমন ছোট শিরক, যা কর্মের দ্বারা সংঘঠিত হয়। যেমন- যাত্রাকালে ঘরের দুয়ারে ভিখারী দেখে তাকে কুলক্ষণ মনে করা, কাক মাথার উপর উড়ে যাওয়াকে কোন অকল্যাণের পূর্বাভাস মনে করা, ভুতুম পেঁচার ডাককে কোন বিপদ বা মৃত্যুর দুঃসংবাদ মনে করা, ভাগ্য গণনার উদ্দেশ্যে গণকের কাছে যাওয়া, চোর ধরার জন্য বাটি, লাঠি ও বাঁশ চালান দেয়া, হারানো বস্ত্তর সন্ধান লাভে মাটিতে রেখা অংকন, আয়না ও তৈল পড়াতে বিশ্বাস করা, চোর সনাক্ত করার জন্য রুটি পড়া বা চাল পড়া খাওয়ানো, হারানো বস্ত্তর সন্ধান লাভের জন্য পীর-ফকির, দরবেশ, জ্বীন ও খনারের কাছে যাওয়া- এ ধরণের আরো অন্যান্য প্রচলিত কার্যাবলী শিরকের অন্তর্ভুক্ত। হাদীসে এসেছে,
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ عَنْ رَسُوْلِ اللهِ - - قَالَ : اَلطِّيَرَةُ شِرْكٌ الطِّيَرَةُ شِرْكٌ . ثَلَاثًا
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণনা করে বলেন, কুলক্ষন গ্রহণ করা শিরক। এ কথা তিনি তিনবার বললেন। (সুনানে আবু দাউদ ৩৯১২ )
৩. اَلشِّرْكُ الْقَلْبِيُّ তথা হৃদয়গত শিরক :
যেমন- লৌকিকতা, সুনাম ও যশ লাভের আশা, কোন আমল করে তার দ্বারা শুধু দুনিয়া কামনা করা। যথা:
* সক্ষম হওয়া সত্বেও বুজুর্গী প্রকাশের উদ্দেশ্যে দূর্বল ভঙ্গিমায় চলা, লম্বা তাসবীহ সারা দিন হাতে রাখা, তালিওয়ালা ও ছেড়া-ফাড়া পোশাক পরিধান করা।
* ক্রেতার কাছে বিশ্বস্ত ব্যবসায়ী হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করার জন্য দোকানে বসে উচ্চঃস্বরে ‘সুবহানাল্লাহ’, ‘আলহামদুলিল্লাহ’ ইত্যাদি ঘন ঘন পাঠ করা। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
مَنْ صَامَ رِيَاءً فَقَدْ أَشْرَكَ ، وَمَنْ تَصَدَّقَ رِيَاءً فَقَدْ أَشْرَكَ ، وَمَنْ صَلَّى رِيَاءً فَقَدْ أَشْرَكَ
যে ব্যক্তি অপরকে দেখানোর উদ্দেশ্যে সিয়াম পালন করলো সে শিরক করল, যে ব্যক্তি অপরকে দেখানোর জন্য দান করল সে শিরক করল, যে ব্যক্তি অপরকে দেখানোর জন্য সালাত আদায় করলো সে শিরক করল।
(মুসনাদে বায্যাজ ২৬৬৩)