hadith book logo

শিরক

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৯

শিরক কয় প্রকার ও কি কি?

শিরকে বেশ কয়েকটি দিক থেকে বিভক্ত করা যেতে পারে। যেমন-

১. ক্ষেত্র হিসেবে শিরকের প্রকারভেদ :

যেসব ক্ষেত্রে শিরক সংঘটিত হয়, সেগুলো নিমেণাক্ত তিন প্রকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ :

(ক) اَلشِّرْكُ فِى الرُّبُوْبِيَّةِ (আশ্শিরকু ফির-রুবূবিয়্যাহ) :

শিরক ফির রুবুবিয়্যাহ হচ্ছে আল্লাহর কর্তৃত্ব, ক্ষমতা এবং সার্বভৌমত্বে কাউকে তার সমকক্ষ করা। এই প্রকারের প্রচলিত শিরকগুলো হচ্ছে- আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে বিধানদাতা হিসেবে মানা, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভোটদানের মাধ্যমে কাউকে বিধানদাতা নির্বাচন করা, যাদু করা, তাবিজ-কবজ ব্যবহার করা, শুভ-অশুভ সংকেত গ্রহণ করা, কাউকে কল্যাণ-অকল্যাণের মালিক অথবা বিপদাপদ ও রোগ-শোক থেকে মুক্তিদাতা অথবা সন্তান দিতে পারে বলে মনে করা, আল্লাহর স্ত্রী বা সন্তান আছে বলে মনে করা ইত্যাদি।

(খ) اَلشِّرْكُ فِى الْاَسْمَاءِ وَالصِّفَاتِ (আশ্শিরকু ফিল আসমাই ওয়াস সিফাত) :

তা হচ্ছে আল্লাহর নাম এবং গুণাবলীর ক্ষেত্রে শিরক করা। আল্লাহর গুণাবলীর সাথে সৃষ্টির গুণাবলীর তুলনা করা। যেমন একথা বলা যে, আল্লাহর হাত আমাদের হাতের মত। তাছাড়া আল্লাহর গুণ ও বৈশিষ্ট্য সৃষ্টির আছে বলে বিশ্বাস করা। যেমন- ভাগ্য গণনা, রাশিচক্রে বিশ্বাস, আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ ইলমুল গায়েব বা অদৃশ্য জানে বলে বিশ্বাস করা।

(গ) اَلشِّرْكُ فِى الْاُلُوْهِيَّةِ (আশ্শিরকু ফিল উলূহিয়্যাহ) :

তা হচ্ছে আল্লাহর ইবাদতের ক্ষেত্রে কাউকে শরীক করা। যেমন- আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে দু‘আ করা, সিজদা করা, অন্যের নামে নজর মানা, অন্যকে আল্লাহর মত ভয় করা, ভালোবাসা, আল্লাহর আইন ব্যতীত অন্য আইনের কাছে বিচার চাওয়া ইত্যাদি।

২. স্তর হিসেবে শিরকের প্রকারভেদ :

স্তর হিসেবে শিরক সাধারণত দুই প্রকার। যেমন-

(ক) اَلشِّرْكُ الْاَكْبَرِ (আশ্শিরকুল আকবার) বড় শিরক :

এটা হলো, আল্লাহর সাথে কাউকে সমকক্ষ স্থির করে আল্লাহর মতো তার ইবাদাত করা ও আনুগত্য করা। এ প্রকার শিরক যে কাউকে ইসলাম থেকে বের করে দেয়।

(খ) اَلشِّرْكُ الْاَصْغَرِ (আশ্শিরকুল আসগার) ছোট শিরক :

এটা হচ্ছে, আমল ও মুখের কথায় গায়রুল্লাহকে আল্লাহর সাথে শরীক করা। এ শিরক অনেক বড় কবীরা গোনাহ, কিন্তু এটি ইসলাম থেকে বের করে দেয় না। এটি মুখের কথার দ্বারা হতে পারে আবার কর্মের দ্বারাও সংঘটিত হতে পারে। যেমন- এরূপ কথা বলা যে, আপনি চাইলে আর আল্লাহ চাইলে এ কাজটি হবে, আল্লাহ আর আপনি ছাড়া আমার আর কেউ নেই, এটি আল্লাহ এবং আপনার দান, আল্লাহ আর আপনার উপর ভরসা করছি ইত্যাদি।

৩. আকৃতিগত দিক থেকে শিরকের প্রকারভেদ :

(ক) اَلشِّرْكُ الْجَلِيْ (আশ্শিরকুল জালী) প্রকাশ্য শিরক :

এটা হচ্ছে প্রকাশ্যভাবে আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করা। যেমন- মূর্তিপূজা করা, চন্দ্র অথবা সূর্যের ইবাদাত করা ইত্যাদি। এটি সর্বদা বড় শিরকের অন্তর্ভুক্ত। এর মাধ্যমে ব্যক্তি ইসলাম থেকে বের হয়ে যায়।

(খ) اَلشِّرْكُ الْخَفِيْ (আশ্শিরকুল খফী) গোপন শিরক :

এটা হচ্ছে, হৃদয়ের এমন গোপন ইচ্ছা ও মুখের এমন অসতর্কমূলক কথা, যার মাধ্যমে আল্লাহকেও গায়রুল্লাহর সমান করা হয়। এটি কখনো বড় শিরক আবার কখনো ছোট শিরক হতে পারে। গোপনীয়তার কারণে এ শিরকে লিপ্ত ব্যক্তি সঠিকভাবে তা নির্ণয় করতে পারে না। নবী ﷺ বলেন,

اَلشِّرْكُ أَخْفٰى مِنْ دَبِيْبِ النَّمَلِ عَلَى الصَّخْرَةِ السَّوْدَاءِ فِي اللَّيْلَةِ الظُّلْمَاءِ

অন্ধকার রাতে কালো পাথরে যেভাবে পিপিলিকার অবস্থান গোপন থাকে, শিরক তোমাদের মধ্যে ঐভাবে গোপন থাকে। [মুসনাদে রাবী‘ ইবনে হাবীব, হা/৮৭৯।]