১
শিরক
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪৭
ভাগ্য গণনা করা শিরক
মানবজাতির মধ্যে অনেকে আছে, যারা অদৃশ্য এবং ভবিষ্যত সম্বন্ধে জ্ঞানের অধিকারী বলে দাবী করে। তারা বিভিন্ন নামে পরিচিত যেমন- গণক, ভবিষ্যৎ-বক্তা, পূর্ব-পরিজ্ঞেয়ক, দৈবজ্ঞ, যাদুকর, পূর্বাভাষদাতা, দৈববাণী প্রকাশক, জ্যোতিষী, হস্তরেখা বিশারদ ইত্যাদি। গণকরা বিভিন্ন পদ্ধতি এবং মাধ্যম ব্যবহার করে তথ্যাদি বের করে আনার দাবী করে, যার মধ্যে রয়েছে- চায়ের পাতা পড়া, রেখা অংকন করা, সংখ্যা লেখা, হস্তরেখা-পড়া, রাশিচক্র পরীক্ষা করা, স্ফটিক বলের প্রতি দৃষ্টিপাত এবং হাড়গোড়, ছড়ি-ছোড়া, লাঠি চালনা, বাটি চালান ইত্যাদি।
গুপ্ত বিদ্যা পেশাজীবিগণ যারা অদৃশ্যের বিষয় প্রকাশ করতে এবং ভবিষ্যদ্বাণী করতে সক্ষম বলে দাবী করে তাদেরকে প্রধানত দুটি শ্রেণিতে ভাগ করা যেতে পারে :
১. যাদের সত্যিকার কোন জ্ঞান বা গুপ্ত বিষয় সম্পর্কে জানা নেই। তারা প্রায়ই অনেকগুলি অর্থহীন আচারানুষ্ঠান করে খরিদ্দারদের ধোঁকা দেয়। তারপর তারা পরিকল্পিতভাবে সাধারণ অনুমানগুলিই বলে। তাদের কিছু কিছু অনুমান সাধারণতার কারণে সচরাচর সত্য হয়ে যায়। বেশীর ভাগ লোকের গুটিকয়েক ভবিষ্যদ্বাণী, যা সত্য হয় সেগুলি স্মরণ রাখার প্রবণতা দেখা যায় এবং যেগুলি সত্য হয় না তার বেশীরভাগই তাড়াতাড়ি ভুলে যায়।
২. দ্বিতীয় দলভুক্ত তারা, যাদের সঙ্গে জ্বীনের যোগাযোগ রয়েছে। এই দলটি সবচেয়ে গুরুতর। কারণ এর সঙ্গে সাধারণত শিরক এর মত মারাত্মক গুনাহ জড়িত। যারা এই কাজে জড়িত তাদের তথ্যাদি অতি নির্ভূল হয় এবং এইভাবে মুসলিম এবং অমুসলিম উভয়ের মধ্যে একইভাবে সত্যিকার ফিত্না (প্রলোভন) সৃষ্টি হয়।
অপবিত্র বিশ্বাস জড়িত থাকার কারণে ইসলাম ভাগ্য গণনার প্রতি কঠোর দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছে। যে কোন প্রকারের গণক দর্শন সম্বন্ধে রাসূলুল্লাহ ﷺ পরিস্কারভাবে নীতি নির্ধারণ করে দিয়েছেন। হাদীসে ইরশাদ হয়েছে,
عَنْ صَفِيَّةَ عَنْ بَعْضِ أَزْوَاجِ النَّبِىِّ - عَنِ النَّبِىِّ - قَالَ : مَنْ أَتٰى عَرَّافًا فَسَأَلَهٗ عَنْ شَىْءٍ لَمْ تُقْبَلْ لَهٗ صَلَاةٌ أَرْبَعِيْنَ لَيْلَةً
সাফিয়্যা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ ﷺ এর কতক স্ত্রী থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন, যদি কেউ গণকের কাছে যায় এবং তাকে কিছু জিজ্ঞেস করে, তাহলে ৪০ দিন রাত পর্যন্ত তার সালাত গৃহীত হবে না।
(সহীহ মুসলিম ৫৯৫৭; মুসনাদে আহমদ ১৬৬৩৮)
এই হাদীসের বর্ণিত শাস্তি শুধুমাত্র গণকের কাছে যাওয়ার এবং তাকে কৌতুহলবশত কোন কিছু জিজ্ঞেস করার করণেই।
আর গণক অদৃশ্য এবং ভবিষ্যতের খবর জানে এই বিশ্বাস নিয়ে যে কেউ গণকের কাছে যায় সে কুফরি করলো। হাদীসে ইরশাদ হয়েছে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَالْحَسَنِ عَنْ النَّبِيِّ قَالَ مَنْ أَتٰى كَاهِنًا أَوْ عَرَّافًا فَصَدَّقَهٗ بِمَا يَقُوْلُ فَقَدْ كَفَرَ بِمَا أُنْزِلَ عَلٰى مُحَمَّدٍ
আবু হুরায়রা এবং হাসান (রাঃ) নবী ﷺ থেকে বর্ণনা করেন, যে গণকের নিকট যায় এবং সে যা বলে তা বিশ্বাস করে সে মুহাম্মদ এর উপর যা নাজিল হয়েছে তা অবিশ্বাস করল। (মুসনাদে আহমদ ৯৫৩৬; সুনানে ইবনে মাজাহ ৬৩৯;)
এই ধরণের বিশ্বাস আল্লাহর অদৃশ্য এবং ভবিষ্যৎ সম্বন্ধীয় জ্ঞানকে সৃষ্টির উপর আরোপ করে। ফলে এটি ‘তাওহীদুল আসমাই ওয়াস সিফাত’কে ধ্বংস করে। আর এটি তাওহীদের ক্ষেত্রে এক ধরণের শিরকের বাস্তব নমুনা। গণকদের লেখা জিনিস (বই, পত্রিকা ইত্যাদি) পড়া এবং তাদের কথা রেডিওতে শোনা অথবা টেলিভিশনে দেখাটাও কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তা‘আলা স্পষ্টভাবে কুরআনে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ছাড়া অন্য কেউ অদৃশ্য সম্পর্কে জানে না, এমনকি রাসূলুল্লাহ ﷺ-ও না। ইরশাদ হচ্ছে:
﴿وَعِنْدَهٗ مَفَاتِحُ الْغَيْبِ لَا يَعْلَمُهَا إِلَّا هُوَ ﴾
অদৃশ্যের কুঞ্জি (চাবিসমূহ) তাঁরই নিকট রয়েছে, তিনি ব্যতীত অন্য কেউ তা জানে না। (সূরা আন‘আম ৬:৫৯)
অপর আয়াতে ইরশাদ হয়েছে,
﴿قُلْ لَا أَمْلِكُ لِنَفْسِيْ نَفْعًا وَّلَا ضَرًّا إِلَّا مَا شَاءَ اللهُ وَلَوْ كُنْتُ أَعْلَمُ الْغَيْبَ لَاسْتَكْثَرْتُ مِنَ الْخَيْرِ وَمَا مَسَّنِيَ السُّوْءُ إِنْ أَنَا إِلَّا نَذِيْرٌ وَّبَشِيْرٌ لِقَوْمٍ يُّؤْمِنُوْنَ﴾
বল! আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তা ব্যতীত আমার নিজস্ব ভালমন্দের উপরও আমার কোন অধিকার নাই। আমি যদি অদৃশ্যের খবর জানতাম তবে তো আমি প্রভূর কল্যাণই লাভ করতাম এবং কোন অকল্যাণই আমাকে স্পর্শ করত না। তবে আমি তো মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য কেবল ভয়প্রদর্শনকারী ও সুসংবাদ প্রদানকারী মাত্র। (সূরা আ’রাফ ৭:১৮৮)
গুপ্ত বিদ্যা পেশাজীবিগণ যারা অদৃশ্যের বিষয় প্রকাশ করতে এবং ভবিষ্যদ্বাণী করতে সক্ষম বলে দাবী করে তাদেরকে প্রধানত দুটি শ্রেণিতে ভাগ করা যেতে পারে :
১. যাদের সত্যিকার কোন জ্ঞান বা গুপ্ত বিষয় সম্পর্কে জানা নেই। তারা প্রায়ই অনেকগুলি অর্থহীন আচারানুষ্ঠান করে খরিদ্দারদের ধোঁকা দেয়। তারপর তারা পরিকল্পিতভাবে সাধারণ অনুমানগুলিই বলে। তাদের কিছু কিছু অনুমান সাধারণতার কারণে সচরাচর সত্য হয়ে যায়। বেশীর ভাগ লোকের গুটিকয়েক ভবিষ্যদ্বাণী, যা সত্য হয় সেগুলি স্মরণ রাখার প্রবণতা দেখা যায় এবং যেগুলি সত্য হয় না তার বেশীরভাগই তাড়াতাড়ি ভুলে যায়।
২. দ্বিতীয় দলভুক্ত তারা, যাদের সঙ্গে জ্বীনের যোগাযোগ রয়েছে। এই দলটি সবচেয়ে গুরুতর। কারণ এর সঙ্গে সাধারণত শিরক এর মত মারাত্মক গুনাহ জড়িত। যারা এই কাজে জড়িত তাদের তথ্যাদি অতি নির্ভূল হয় এবং এইভাবে মুসলিম এবং অমুসলিম উভয়ের মধ্যে একইভাবে সত্যিকার ফিত্না (প্রলোভন) সৃষ্টি হয়।
অপবিত্র বিশ্বাস জড়িত থাকার কারণে ইসলাম ভাগ্য গণনার প্রতি কঠোর দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছে। যে কোন প্রকারের গণক দর্শন সম্বন্ধে রাসূলুল্লাহ ﷺ পরিস্কারভাবে নীতি নির্ধারণ করে দিয়েছেন। হাদীসে ইরশাদ হয়েছে,
عَنْ صَفِيَّةَ عَنْ بَعْضِ أَزْوَاجِ النَّبِىِّ - عَنِ النَّبِىِّ - قَالَ : مَنْ أَتٰى عَرَّافًا فَسَأَلَهٗ عَنْ شَىْءٍ لَمْ تُقْبَلْ لَهٗ صَلَاةٌ أَرْبَعِيْنَ لَيْلَةً
সাফিয়্যা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ ﷺ এর কতক স্ত্রী থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন, যদি কেউ গণকের কাছে যায় এবং তাকে কিছু জিজ্ঞেস করে, তাহলে ৪০ দিন রাত পর্যন্ত তার সালাত গৃহীত হবে না।
(সহীহ মুসলিম ৫৯৫৭; মুসনাদে আহমদ ১৬৬৩৮)
এই হাদীসের বর্ণিত শাস্তি শুধুমাত্র গণকের কাছে যাওয়ার এবং তাকে কৌতুহলবশত কোন কিছু জিজ্ঞেস করার করণেই।
আর গণক অদৃশ্য এবং ভবিষ্যতের খবর জানে এই বিশ্বাস নিয়ে যে কেউ গণকের কাছে যায় সে কুফরি করলো। হাদীসে ইরশাদ হয়েছে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَالْحَسَنِ عَنْ النَّبِيِّ قَالَ مَنْ أَتٰى كَاهِنًا أَوْ عَرَّافًا فَصَدَّقَهٗ بِمَا يَقُوْلُ فَقَدْ كَفَرَ بِمَا أُنْزِلَ عَلٰى مُحَمَّدٍ
আবু হুরায়রা এবং হাসান (রাঃ) নবী ﷺ থেকে বর্ণনা করেন, যে গণকের নিকট যায় এবং সে যা বলে তা বিশ্বাস করে সে মুহাম্মদ এর উপর যা নাজিল হয়েছে তা অবিশ্বাস করল। (মুসনাদে আহমদ ৯৫৩৬; সুনানে ইবনে মাজাহ ৬৩৯;)
এই ধরণের বিশ্বাস আল্লাহর অদৃশ্য এবং ভবিষ্যৎ সম্বন্ধীয় জ্ঞানকে সৃষ্টির উপর আরোপ করে। ফলে এটি ‘তাওহীদুল আসমাই ওয়াস সিফাত’কে ধ্বংস করে। আর এটি তাওহীদের ক্ষেত্রে এক ধরণের শিরকের বাস্তব নমুনা। গণকদের লেখা জিনিস (বই, পত্রিকা ইত্যাদি) পড়া এবং তাদের কথা রেডিওতে শোনা অথবা টেলিভিশনে দেখাটাও কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তা‘আলা স্পষ্টভাবে কুরআনে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ছাড়া অন্য কেউ অদৃশ্য সম্পর্কে জানে না, এমনকি রাসূলুল্লাহ ﷺ-ও না। ইরশাদ হচ্ছে:
﴿وَعِنْدَهٗ مَفَاتِحُ الْغَيْبِ لَا يَعْلَمُهَا إِلَّا هُوَ ﴾
অদৃশ্যের কুঞ্জি (চাবিসমূহ) তাঁরই নিকট রয়েছে, তিনি ব্যতীত অন্য কেউ তা জানে না। (সূরা আন‘আম ৬:৫৯)
অপর আয়াতে ইরশাদ হয়েছে,
﴿قُلْ لَا أَمْلِكُ لِنَفْسِيْ نَفْعًا وَّلَا ضَرًّا إِلَّا مَا شَاءَ اللهُ وَلَوْ كُنْتُ أَعْلَمُ الْغَيْبَ لَاسْتَكْثَرْتُ مِنَ الْخَيْرِ وَمَا مَسَّنِيَ السُّوْءُ إِنْ أَنَا إِلَّا نَذِيْرٌ وَّبَشِيْرٌ لِقَوْمٍ يُّؤْمِنُوْنَ﴾
বল! আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তা ব্যতীত আমার নিজস্ব ভালমন্দের উপরও আমার কোন অধিকার নাই। আমি যদি অদৃশ্যের খবর জানতাম তবে তো আমি প্রভূর কল্যাণই লাভ করতাম এবং কোন অকল্যাণই আমাকে স্পর্শ করত না। তবে আমি তো মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য কেবল ভয়প্রদর্শনকারী ও সুসংবাদ প্রদানকারী মাত্র। (সূরা আ’রাফ ৭:১৮৮)