hadith book logo

শিরক

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪৫

আল্লাহ তা‘আলা তো নিরাকার, তিনি আরশে সমাসীন হন কিভাবে?

আল্লাহ তা‘আলা নিরাকার এ কথাটি নাস্তিকতার নামান্তর। তিনি নিরাকার নন; বরং তিনি অজানা আকারবিশিষ্ট। তাঁর চেহারা, হাত, পা, চোখ, আঙ্গুল ইত্যাদি আছে। তবে এগুলো তার বিশেষণ। তাঁর সত্তার রূপরেখা কেমন এটা যেমন তিনি ছাড়া আর কেউ জানে না; তেমনি তার চেহারা, হাত, পা, চোখ, আঙ্গুল কেমন তাও তিনি ছাড়া অন্য কেউ জানেন না। তাঁর সত্তার আকৃতি জানা থাকলে তাঁর বিশেষণ জানা সম্ভব হতো। তাঁর সত্তার রূপ যেহেতু তিনি ছাড়া আর কারো জানা নেই, সেহেতু তাঁর বিশেষণের আভিধানিক অর্থ ব্যতীত এর কোন রূপরেখা তিনি ছাড়া আর কারো জানা নেই। এগুলোর রূপরেখা জানা সৃষ্টির ক্ষুদ্র জ্ঞানের বহু-বহু উর্ধ্বে।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَلَا يُحِيطُوْنَ بِهٖ عِلْمًا﴾

তারা তাকে জ্ঞান দ্বারা আয়ত্ব করতে পারে না। (সূরা ত্বহা ২০:১১০)

এগুলো কুরআন ও সুন্নাহতে আল্লাহ তা‘আলা যেভাবে বর্ণনা করেছেন ঠিক সেভাবে বিশ্বাস করতে হবে। এগুলোর কোন আকৃতি-প্রকৃতি বর্ণনা করা যাবে না। সৃষ্টি জগতের কোন কিছুর সাথে কিছুতেই তুলনা করা যাবে না। এগুলোর আভিধানিক অর্থের বাইরে কোনরূপ অর্থগত বা শব্দগত বিকৃতি করা যাবে না। এগুলোকে অর্থহীনও করা চলবে না। কুরআন ও সুন্নাহতে এগুলো যেভাবে বর্ণিত হয়েছে, এগুলোর উপর ঠিক সেভাবেই ঈমান আনা ফরজ। এগুলো কেমন সে প্রশ্ন করা বিদআত ও ভ্রান্তিকর। আক্বিদার কিতাবসমূহে এ ব্যাপারে বলা হয়েছে:

اِسْتِوَائُهٗ مَعْلُوْمٌ وَكَيْفِيَتُهٗ مَجْهُوْلٌ وَالْاِيْمَانُ بِهٖ وَاجِبٌ وَالسُّوَالُ عَنْهُ بِدْعَةٌ

অর্থাৎ আল্লাহর আরশে সামসীন হওয়া, এমনিভাবে আরশ থেকে প্রথম আসমানে অবতরন করা, আল্লাহর হাত, পা, চোখ, চেহারা ইত্যাদি কুরআন ও সুন্নাহ থেকে জানা, এগুলোর ধরণ-ধারণ ও রূপরেখা অজানা, এগুলোর উপর ঈমান রাখা ফরজ, প্রশ্ন করা বিদআত ও বিভ্রান্তি। **