hadith book logo

শিরক

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৮

‘রিয়া’ এর ধরনসমূহ

‘রিয়া’ কোন আমল করার পূর্বে, করার সময় এবং করার পরে সংঘটিত হতে পারে। প্রত্যেক পর্যায়ে, শয়তান সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যে, কোন কল্যাণময় নেক আমলকে ‘রিয়া’র মাধ্যমে যেন ধ্বংস করে দেয়া যায়।

কৃত আমলের পূর্বে :

প্রশংসা পাওয়ার জন্য একটি নেক আমল করার মনস্থ করা। নিঃসন্দেহে এটা রিয়ার সবচেয়ে জঘন্যতম অবস্থা। এ ধরনের নেক আমল আল্লাহ তা‘আলা কাছে গ্রহণযোগ্য নয়, বরং এটা মুনাফিকী নামক আত্মিক রোগের একটি শক্ত পূর্ব লক্ষণ।

যখন আমলটি করা হয় :

এমতাবস্থায়, একজন ব্যক্তি আন্তরিকভাবে শুধু আল্লাহর জন্য আমল শুরু করে; কিন্তু যখন সে খেয়াল করে যে, লোকজন তাকে দেখছে তখন সে অধিক ধার্মিক হিসেবে প্রমাণ করার উদ্দেশ্যে আমলগুলো আকর্ষণীয় করে তোলার চেষ্টা করে। যেমন- কোন ব্যক্তি মসজিদে কুরআন তিলাওয়াত করা শুরু করেছে। অতঃপর যখন সে জানতে পারল যে, লোকজন তার দিকে মনোযোগ দিয়েছে, তখন সে তাদের জন্য তার কণ্ঠকে সুন্দর করবে এবং খুবই আবেগ দেখানোর চেষ্টা করে।

আমলটি করার পর :

এ ধরনের ‘রিয়া’ সর্বশেষ পর্যায়ে ঘটে- যখন একজন ব্যক্তি আন্তরিকভাবে আল্লাহ তা‘আলার উদ্দেশ্যে ইবাদত করে, তখন লোকজন এটার জন্য তার প্রশংসা করা শুরু করে। সে তখন এই আমলের জন্য গর্ব অনুভব করতে শুরু করে এবং প্রশংসা পেয়ে খুশী হয়, যা মানুষদের থেকে পায়। কতিপয় আলেম লিখেছেন- এটা সম্ভব যে, একজন আবেদ ‘রিয়া’কে এড়িয়ে থাকতে চেষ্টা করে, কিন্তু যখন অন্যান্য লোকজন তার আমলকে উল্লেখ করে এবং তার প্রশংসা করে, এ ধরনের প্রশংসার ক্ষেত্রে সে অস্বস্তি এবং অপছন্দ সূচক কোন প্রতিক্রিয়া দেখায় না। বরং খুশী হয় এবং ভাবে যে, এ ধরণের প্রশংসা তার জন্য তার ইবাদাতকে সহজ করে দিবে। এই অনুভূতি লুকানো শিরকের খুবই সুক্ষ অভিব্যক্তি।