১
শিরক
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৮
শুভ-অশুভ লক্ষণ বা সংকেত গ্রহণ করা
শুভ-অশুভ সংকেত গ্রহণ করা শিরকের অন্তর্ভুক্ত। এর কারণসমূহ হলো :
১) ইবাদতের প্রক্রিয়া যাকে নির্ভরশীলতা (তাওয়াক্কুল) বলা হয় তা আল্লাহ ব্যতীত অন্য দিকে পরিচালিত করা হয়, এবং
২) ভাল ও মন্দ আগমনের ভবিষ্যদ্বাণী করার এবং আল্লাহ প্রদত্ত নিয়তি এড়ানোর ক্ষমতা মানুষের অথবা সৃষ্ট জিনিষের উপর অর্পন করা হয়। হাদীসে বর্ণিত হয়েছে:
عَنِ بْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ قَالَ لَيْسَ مِنَّا مَنْ تَسَحَّرَ اَوْ تَسَحَّرَ لَهٗ أَوْ تَكَهَّنَ أوْ تَكَهَّنَ لَهٗ أَوْ تَطَيَّرَ أَوْ تَطَيَّرَ لَهٗ
ইবনে আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: যে যাদু করলো বা যার জন্য যাদু করা হলো, যে ভবিষ্যৎ বর্ণনা করে এবং যার উদ্দেশ্যে করা হয়, যে তিয়ারা বা অশুভ লক্ষণ গ্রহণ করলো বা যার উদ্দেশ্যে গ্রহণ করলো তারা কেউ আমাদের মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত নয়।
(তাবরানী ৪২৬২; বাইহাকী ১১৭৬)
এখানে ‘‘আমাদের’’ বলতে মুসলিম জনগোষ্ঠী বুঝানো হয়েছে। সুতরাং তিয়ারা এমন একটি কাজ, যার উপর বিশ্বাস স্থাপন করলে উক্ত ব্যক্তিকে ইসলাম থেকে বের করে দেয়। অপর হাদীসে ইরশাদ হয়েছে:
عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ الْحَكَمِ السُّلَمِىِّ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ أُمُوْرًا كُنَّا نَصْنَعُهَا فِى الْجَاهِلِيَّةِ كُنَّا نَأْتِى الْكُهَّانَ . قَالَ ্র فَلاَ تَأْتُوا الْكُهَّانَ গ্ধ. قَالَ قُلْتُ كُنَّا نَتَطَيَّرُ . قَالَ ্র ذَاكَ شَىْءٌ يَجِدُهُ أَحَدُكُمْ فِى نَفْسِهِ فَلاَ يَصُدَّنَّكُمْ গ্ধ.
মুআবিয়া ইবনে হাকাম আস-সুলামী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বললাম, আমরা জাহেলী যুগে কতগুলো কাজ করতাম যেমন গণক, জ্যৌতিষিদের কাছে যেতাম। রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, না- জ্যোতিষীদের কাছে যেও না। আমি বললাম, আমরা পাখি উড়িয়ে শুভ-অশুভ সংকেন নির্ধারণ করতাম। রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন: এটা তোমরা নিজেরাই তৈরী করেছ, এটা যেন তোমাদের কোন কাজ থেকে বিরত না রাখে।
(সহীহ মুসলিম ৫৯৪৯)
অর্থাৎ তুমি যা করতে চাও এটা যেন তোমাকে তা করতে বাধা না দেয়। কারণ এসব সংকেত মানুষের কল্পনাপ্রসূত বানানো গল্প, যার কোন বাস্তবতা নেই।
বর্তমানে কাঠে টোকা দেয়া, লবণ উল্টে পড়া, আয়না ভাঙ্গা, ভাঙ্গা ঝারু, খালি কলসি, তের নম্বর সংখ্যা ইত্যাদি বাতিল শিরকী আক্বিদা মানুষের মধ্যে প্রচলিত রয়েছে। অথচ হাদীসে ইরশাদ হয়েছে:
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ عَنْ رَسُوْلِ اللهِ - قَالَ : اَلطِّيَرَةُ شِرْكٌ الطِّيَرَةُ شِرْكٌ . ثَلَاثًا
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, তিয়ারা শিরক, তিয়ারা শিরক, তিয়ারা শিরক। তিন বার বললেন।
(সুনানে আবু দাউদ ৩৯১২; সুনানে ইবনে মাজাহ ৩৫৩৮)
অপর হাদীসে ইরশাদ হয়েছে:
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ مَنْ رَدَّتْهُ الطِّيَرَةُ مِنْ حَاجَةٍ فَقَدْ أَشْرَكَ قَالُوْا يَا رَسُوْلَ اللهِ مَا كَفَّارَةُ ذٰلِكَ قَالَ أَنْ يَّقُوْلَ أَحَدُهُمْ اللّٰهُمَّ لَا خَيْرَ إِلَّا خَيْرُكَ وَلَا طَيْرَ إِلَّا طَيْرُكَ وَلَا إِلٰهَ غَيْرُكَ
আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি তিয়ারার (‘কুলক্ষণ বা দুর্ভাগ্যের ধারনার) কারণে কিছু করা থেকে বিরত হল, সে শিরক করল। সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, এর প্রায়শ্চিত্ত কি? তিনি বললেন, বলো! হে আল্লাহ, তুমি প্রদত্ত মঙ্গল ব্যতীত অন্য কোন মঙ্গল নাই এবং তুমি প্রদত্ত অমঙ্গল ব্যতীত কোন অমঙ্গল নেই এবং তুমি ছাড়া অন্য কোন ইলাহ নাই। (মুসনাদে আহমদ ৭০৪৫)
১) ইবাদতের প্রক্রিয়া যাকে নির্ভরশীলতা (তাওয়াক্কুল) বলা হয় তা আল্লাহ ব্যতীত অন্য দিকে পরিচালিত করা হয়, এবং
২) ভাল ও মন্দ আগমনের ভবিষ্যদ্বাণী করার এবং আল্লাহ প্রদত্ত নিয়তি এড়ানোর ক্ষমতা মানুষের অথবা সৃষ্ট জিনিষের উপর অর্পন করা হয়। হাদীসে বর্ণিত হয়েছে:
عَنِ بْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ قَالَ لَيْسَ مِنَّا مَنْ تَسَحَّرَ اَوْ تَسَحَّرَ لَهٗ أَوْ تَكَهَّنَ أوْ تَكَهَّنَ لَهٗ أَوْ تَطَيَّرَ أَوْ تَطَيَّرَ لَهٗ
ইবনে আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: যে যাদু করলো বা যার জন্য যাদু করা হলো, যে ভবিষ্যৎ বর্ণনা করে এবং যার উদ্দেশ্যে করা হয়, যে তিয়ারা বা অশুভ লক্ষণ গ্রহণ করলো বা যার উদ্দেশ্যে গ্রহণ করলো তারা কেউ আমাদের মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত নয়।
(তাবরানী ৪২৬২; বাইহাকী ১১৭৬)
এখানে ‘‘আমাদের’’ বলতে মুসলিম জনগোষ্ঠী বুঝানো হয়েছে। সুতরাং তিয়ারা এমন একটি কাজ, যার উপর বিশ্বাস স্থাপন করলে উক্ত ব্যক্তিকে ইসলাম থেকে বের করে দেয়। অপর হাদীসে ইরশাদ হয়েছে:
عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ الْحَكَمِ السُّلَمِىِّ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ أُمُوْرًا كُنَّا نَصْنَعُهَا فِى الْجَاهِلِيَّةِ كُنَّا نَأْتِى الْكُهَّانَ . قَالَ ্র فَلاَ تَأْتُوا الْكُهَّانَ গ্ধ. قَالَ قُلْتُ كُنَّا نَتَطَيَّرُ . قَالَ ্র ذَاكَ شَىْءٌ يَجِدُهُ أَحَدُكُمْ فِى نَفْسِهِ فَلاَ يَصُدَّنَّكُمْ গ্ধ.
মুআবিয়া ইবনে হাকাম আস-সুলামী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বললাম, আমরা জাহেলী যুগে কতগুলো কাজ করতাম যেমন গণক, জ্যৌতিষিদের কাছে যেতাম। রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, না- জ্যোতিষীদের কাছে যেও না। আমি বললাম, আমরা পাখি উড়িয়ে শুভ-অশুভ সংকেন নির্ধারণ করতাম। রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন: এটা তোমরা নিজেরাই তৈরী করেছ, এটা যেন তোমাদের কোন কাজ থেকে বিরত না রাখে।
(সহীহ মুসলিম ৫৯৪৯)
অর্থাৎ তুমি যা করতে চাও এটা যেন তোমাকে তা করতে বাধা না দেয়। কারণ এসব সংকেত মানুষের কল্পনাপ্রসূত বানানো গল্প, যার কোন বাস্তবতা নেই।
বর্তমানে কাঠে টোকা দেয়া, লবণ উল্টে পড়া, আয়না ভাঙ্গা, ভাঙ্গা ঝারু, খালি কলসি, তের নম্বর সংখ্যা ইত্যাদি বাতিল শিরকী আক্বিদা মানুষের মধ্যে প্রচলিত রয়েছে। অথচ হাদীসে ইরশাদ হয়েছে:
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ عَنْ رَسُوْلِ اللهِ - قَالَ : اَلطِّيَرَةُ شِرْكٌ الطِّيَرَةُ شِرْكٌ . ثَلَاثًا
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, তিয়ারা শিরক, তিয়ারা শিরক, তিয়ারা শিরক। তিন বার বললেন।
(সুনানে আবু দাউদ ৩৯১২; সুনানে ইবনে মাজাহ ৩৫৩৮)
অপর হাদীসে ইরশাদ হয়েছে:
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ مَنْ رَدَّتْهُ الطِّيَرَةُ مِنْ حَاجَةٍ فَقَدْ أَشْرَكَ قَالُوْا يَا رَسُوْلَ اللهِ مَا كَفَّارَةُ ذٰلِكَ قَالَ أَنْ يَّقُوْلَ أَحَدُهُمْ اللّٰهُمَّ لَا خَيْرَ إِلَّا خَيْرُكَ وَلَا طَيْرَ إِلَّا طَيْرُكَ وَلَا إِلٰهَ غَيْرُكَ
আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি তিয়ারার (‘কুলক্ষণ বা দুর্ভাগ্যের ধারনার) কারণে কিছু করা থেকে বিরত হল, সে শিরক করল। সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, এর প্রায়শ্চিত্ত কি? তিনি বললেন, বলো! হে আল্লাহ, তুমি প্রদত্ত মঙ্গল ব্যতীত অন্য কোন মঙ্গল নাই এবং তুমি প্রদত্ত অমঙ্গল ব্যতীত কোন অমঙ্গল নেই এবং তুমি ছাড়া অন্য কোন ইলাহ নাই। (মুসনাদে আহমদ ৭০৪৫)