১
শিরক
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩
শিরকের ভয়াবহতা
উপরোক্ত সংজ্ঞাসমূহ হতে অনুধাবন করা গেল, শিরক হচ্ছে একটি অত্যন্ত মারাত্মক গোনাহ। এর মাধ্যমে মানুষের চুড়ান্ত ধ্বংস অনির্বায্য। কুরআন ও সহীহ হাদীসসমূহে এর ভয়াবহ পরিণতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নিম্নে এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোকপাত করা হলো :
১। শিরক একটি বড় ধরনের অপরাধ ও জুলুম :
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন :
وَاِذْ قَالَ لُقْمَانُ لِاِبْنِهٖ وَهُوَ يَعِظُهٗ يَا بُنَيَّ لَا تُشْرِكْ بِاللهِؕ اِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيْمٌ
স্মরণ করো, যখন লুক্বমান স্বীয় ছেলেকে বলেছিলেন, হে আমার ছেলে! আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করো না। নিশ্চয় শিরক হচ্ছে সবচেয়ে বড় যুলুম। (সূরা লুক্বমান- ৩১:১৩)
২। শিরকে্র গুনাহ আল্লাহ তা‘আলা ক্ষমা করবেন না :
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন :
﴿اِنَّ اللهَ لَا يَغْفِرُ اَنْ يُّشْرَكَ بِهٖ وَيَغْفِرُ مَا دُوْنَ ذٰلِكَ لِمَن يَّشَآءُ﴾
নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সঙ্গে শরীক স্থাপন করার অপরাধ ক্ষমা করবেন না। এটা ব্যতীত অন্যান্য অপরাধ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দেবেন। (সূরা নিসা- ৪:৪৮)
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:
عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ إِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ لَيَغْفِرُ لِعَبْدِهٖ مَا لَمْ يَقَعْ الْحِجَابُ قَالُوْا يَا رَسُوْلَ اللهِ وَمَا وُقُوْعُ الْحِجَابِ قَالَ أَنْ تَمُوْتَ النَّفْسُ وَهِيَ مُشْرِكَةٌ
জাবির বিন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। নবী ﷺ বলেছেন- বান্দার জন্য সর্বদাই ক্ষমা রয়েছে যতক্ষন পর্যন্ত হিযাব বা পর্দা পতিত না হয়। বলা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! হিযাব বা পর্দা কি? তিনি বললেন, আল্লাহর সাথে শরীক্ করা। (মুসনাদে আহমদ ২১৫২৩; ইবনে কাছীর ১ম খন্ড ৬৭৮পৃ:)
৩। শিরক করলে জান্নাত হারাম এবং জাহান্নাম অবধারিত হয়ে যায় :
পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে:
﴿يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ اعْبُدُوا اللهَ رَبِّي وَرَبَّكُمْ إِنَّهُ ُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنْصَارٍ ﴾
হে বনী ইসরাইল! তোমরা আমার রব এবং তোমাদের রব আল্লাহর ইবাদত কর। কেউ আল্লাহর শরীক করলে আল্লাহ তার জন্য জান্নাত অবশ্যই হারাম করবেন এবং তার আবাস জাহান্নাম। আর যালিমদের জন্য কোন সাহায্যকারী নেই।
(সূরা মায়েদা ৫:৭২)
হাদীসে বর্ণিত হয়েছে:
عَنْ ابْنِ نُمَيْرٍ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ - - يَقُوْلُ مَنْ مَاتَ يُشْرِكُ بِاللهِ شَيْئًا دَخَلَ النَّارَ
ইবনে নুমাইর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি কোন কিছুকে আল্লাহর সাথে শরীক্ করা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, সে জাহান্নামে যাবে। (সহীহ মুসলিম ২৭৮)
৪। শিরক করলে সব আমল বাতিল হয়ে যায় এবং ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায় :
আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন:
﴿وَلَقَدْ أُوحِيَ إِلَيْكَ وَإِلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكَ لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ﴾
তোমার প্রতি এবং তোমার পূর্ববর্তীদের প্রতি অবশ্যই এই ওহী হয়েছে যে, যদি তুমি শিরক কর, তাহলে তোমার আমল নিস্ফল হয়ে যাবে এবং অবশ্যই তুমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (সূরা যুমার ৩৯:৬৫)
সূরা আন‘আমের ৮৩-৮৭ আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা ১৮ জন নবীর নাম নিয়ে তাদের ব্যাপারে বলেছেন:
﴿وَلَوْ أَشْرَكُوا لَحَبِطَ عَنْهُمْ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ﴾
যদি তারা শিরক করতো, তবে তাদের কৃতকর্ম নিস্ফল হয়ে যেত।
(সূরা আন‘আম ৬:৮৮)
৫। শিরক্কারী ধ্বংসে এবং বিপর্যয়ে পতিত হয় :
পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে:
﴿وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللهِ فَكَأَنَّمَا خَرَّ مِنَ السَّمَاءِ فَتَخْطَفُهُ الطَّيْرُ أَوْ تَهْوِي بِهِ الرِّيحُ فِي مَكَانٍ سَحِيقٍ﴾
যে ব্যক্তি আল্লাহর শরীক করে সে যেন আকাশ থেকে পড়ল, কিংবা বায়ু তাকে উড়িয়ে নিয়ে এক দূরবর্তী স্থানে নিক্ষেপ করল। (সূরা হাজ্জ ২২:৩১)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ قَالَ اِجْتَنِبُوا السَّبْعَ الْمُوبِقَاتِ قَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ وَمَا هُنَّ قَالَ الشِّرْكُ بِاللهِ وَالسِّحْرُ وَقَتْلُ النَّفْسِ الَّتِي حَرَّمَ اللهُ إِلَّا بِالْحَقِّ وَأَكْلُ الرِّبَا وَأَكْلُ مَالِ الْيَتِيمِ وَالتَّوَلِّي يَوْمَ الزَّحْفِ وَقَذْفُ الْمُحْصَنَاتِ الْمُؤْمِنَاتِ الْغَافِلَاتِ
আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী ﷺ থেকে বর্ণনা করেন, তোমরা সাতটি ধ্বংসাত্মক বস্ত্ত থেকে বেঁচে থাকবে। সাহাবাগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসুল সেগুলো কি? রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেলেন, আল্লাহর সাথে শরীক করা এবং যাদু করা, আল্লাহ যাতে হত্যা করতে নিষেধ করেছেন তাকে হত্যা করা, সুদ খাওয়া, ইয়াতীমের সম্পদ আত্মসাৎ করা, যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করা এবং সতী-সাধবী নারীর প্রতি অপবাদ আরোপ করা। (সহীহ বুখারী ২৭৬৬; সহীহ মুসলিম ২৭২)
৬। শিরক্কারী মুশরিক ও অপবিত্র :
মুশরিকদের জন্য দোয়া করা যাবে না, কেননা এরা সৃষ্টির অধম। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
﴿إِنَّمَا الْمُشْرِكُوْنَ نَجَسٌ﴾
নিশ্চয় মুশরিকরা অপবিত্র। (সূরা তাওবাহ ৯:২৮)
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন:
﴿مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِيْنَ اٰمَنُوْاۤ اَنْ يَّسْتَغْفِرُوْا لِلْمُشْرِكِيْنَ وَلَوْ كَانُوْاۤ اُولِيْ قُرْبٰى مِنْ ۢبَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمْ اَنَّهُمْ اَصْحَابُ الْجَحِيْمِ﴾
আত্মীয়স্বজন হলেও মুশরিকদের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করা নবী এবং মুমিনদের জন্য সংগত নয়, যখন এটা সুস্পষ্ট হয়ে যাবে যে, তারা নিশ্চিত জাহান্নামী।
(সূরা তাওবা- ৯:১১৩)
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন:
﴿اِنَّ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا مِنْ اَهْلِ الْكِتَابِ وَالْمُشْرِكِيْنَ فِي ْنَارِ جَهَنَّمَ خَالِدِيْنَ فِيْهَاؕ اُوْلٰٓئِكَ هُمْ شَرُّ الْبَرِيَّةِ﴾
আহলে-কিতাব ও মুশরিকদের মধ্যে যারা কাফির, তারা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে থাকবে; আর তারাই সৃষ্টির সবচেয়ে অধম। (সূরা বায়্যিনাহ- ৯৮:৬)
১। শিরক একটি বড় ধরনের অপরাধ ও জুলুম :
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন :
وَاِذْ قَالَ لُقْمَانُ لِاِبْنِهٖ وَهُوَ يَعِظُهٗ يَا بُنَيَّ لَا تُشْرِكْ بِاللهِؕ اِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيْمٌ
স্মরণ করো, যখন লুক্বমান স্বীয় ছেলেকে বলেছিলেন, হে আমার ছেলে! আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করো না। নিশ্চয় শিরক হচ্ছে সবচেয়ে বড় যুলুম। (সূরা লুক্বমান- ৩১:১৩)
২। শিরকে্র গুনাহ আল্লাহ তা‘আলা ক্ষমা করবেন না :
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন :
﴿اِنَّ اللهَ لَا يَغْفِرُ اَنْ يُّشْرَكَ بِهٖ وَيَغْفِرُ مَا دُوْنَ ذٰلِكَ لِمَن يَّشَآءُ﴾
নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সঙ্গে শরীক স্থাপন করার অপরাধ ক্ষমা করবেন না। এটা ব্যতীত অন্যান্য অপরাধ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দেবেন। (সূরা নিসা- ৪:৪৮)
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:
عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ إِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ لَيَغْفِرُ لِعَبْدِهٖ مَا لَمْ يَقَعْ الْحِجَابُ قَالُوْا يَا رَسُوْلَ اللهِ وَمَا وُقُوْعُ الْحِجَابِ قَالَ أَنْ تَمُوْتَ النَّفْسُ وَهِيَ مُشْرِكَةٌ
জাবির বিন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। নবী ﷺ বলেছেন- বান্দার জন্য সর্বদাই ক্ষমা রয়েছে যতক্ষন পর্যন্ত হিযাব বা পর্দা পতিত না হয়। বলা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! হিযাব বা পর্দা কি? তিনি বললেন, আল্লাহর সাথে শরীক্ করা। (মুসনাদে আহমদ ২১৫২৩; ইবনে কাছীর ১ম খন্ড ৬৭৮পৃ:)
৩। শিরক করলে জান্নাত হারাম এবং জাহান্নাম অবধারিত হয়ে যায় :
পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে:
﴿يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ اعْبُدُوا اللهَ رَبِّي وَرَبَّكُمْ إِنَّهُ ُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنْصَارٍ ﴾
হে বনী ইসরাইল! তোমরা আমার রব এবং তোমাদের রব আল্লাহর ইবাদত কর। কেউ আল্লাহর শরীক করলে আল্লাহ তার জন্য জান্নাত অবশ্যই হারাম করবেন এবং তার আবাস জাহান্নাম। আর যালিমদের জন্য কোন সাহায্যকারী নেই।
(সূরা মায়েদা ৫:৭২)
হাদীসে বর্ণিত হয়েছে:
عَنْ ابْنِ نُمَيْرٍ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ - - يَقُوْلُ مَنْ مَاتَ يُشْرِكُ بِاللهِ شَيْئًا دَخَلَ النَّارَ
ইবনে নুমাইর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি কোন কিছুকে আল্লাহর সাথে শরীক্ করা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, সে জাহান্নামে যাবে। (সহীহ মুসলিম ২৭৮)
৪। শিরক করলে সব আমল বাতিল হয়ে যায় এবং ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায় :
আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন:
﴿وَلَقَدْ أُوحِيَ إِلَيْكَ وَإِلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكَ لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ﴾
তোমার প্রতি এবং তোমার পূর্ববর্তীদের প্রতি অবশ্যই এই ওহী হয়েছে যে, যদি তুমি শিরক কর, তাহলে তোমার আমল নিস্ফল হয়ে যাবে এবং অবশ্যই তুমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (সূরা যুমার ৩৯:৬৫)
সূরা আন‘আমের ৮৩-৮৭ আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা ১৮ জন নবীর নাম নিয়ে তাদের ব্যাপারে বলেছেন:
﴿وَلَوْ أَشْرَكُوا لَحَبِطَ عَنْهُمْ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ﴾
যদি তারা শিরক করতো, তবে তাদের কৃতকর্ম নিস্ফল হয়ে যেত।
(সূরা আন‘আম ৬:৮৮)
৫। শিরক্কারী ধ্বংসে এবং বিপর্যয়ে পতিত হয় :
পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে:
﴿وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللهِ فَكَأَنَّمَا خَرَّ مِنَ السَّمَاءِ فَتَخْطَفُهُ الطَّيْرُ أَوْ تَهْوِي بِهِ الرِّيحُ فِي مَكَانٍ سَحِيقٍ﴾
যে ব্যক্তি আল্লাহর শরীক করে সে যেন আকাশ থেকে পড়ল, কিংবা বায়ু তাকে উড়িয়ে নিয়ে এক দূরবর্তী স্থানে নিক্ষেপ করল। (সূরা হাজ্জ ২২:৩১)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ قَالَ اِجْتَنِبُوا السَّبْعَ الْمُوبِقَاتِ قَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ وَمَا هُنَّ قَالَ الشِّرْكُ بِاللهِ وَالسِّحْرُ وَقَتْلُ النَّفْسِ الَّتِي حَرَّمَ اللهُ إِلَّا بِالْحَقِّ وَأَكْلُ الرِّبَا وَأَكْلُ مَالِ الْيَتِيمِ وَالتَّوَلِّي يَوْمَ الزَّحْفِ وَقَذْفُ الْمُحْصَنَاتِ الْمُؤْمِنَاتِ الْغَافِلَاتِ
আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী ﷺ থেকে বর্ণনা করেন, তোমরা সাতটি ধ্বংসাত্মক বস্ত্ত থেকে বেঁচে থাকবে। সাহাবাগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসুল সেগুলো কি? রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেলেন, আল্লাহর সাথে শরীক করা এবং যাদু করা, আল্লাহ যাতে হত্যা করতে নিষেধ করেছেন তাকে হত্যা করা, সুদ খাওয়া, ইয়াতীমের সম্পদ আত্মসাৎ করা, যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করা এবং সতী-সাধবী নারীর প্রতি অপবাদ আরোপ করা। (সহীহ বুখারী ২৭৬৬; সহীহ মুসলিম ২৭২)
৬। শিরক্কারী মুশরিক ও অপবিত্র :
মুশরিকদের জন্য দোয়া করা যাবে না, কেননা এরা সৃষ্টির অধম। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
﴿إِنَّمَا الْمُشْرِكُوْنَ نَجَسٌ﴾
নিশ্চয় মুশরিকরা অপবিত্র। (সূরা তাওবাহ ৯:২৮)
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন:
﴿مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِيْنَ اٰمَنُوْاۤ اَنْ يَّسْتَغْفِرُوْا لِلْمُشْرِكِيْنَ وَلَوْ كَانُوْاۤ اُولِيْ قُرْبٰى مِنْ ۢبَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمْ اَنَّهُمْ اَصْحَابُ الْجَحِيْمِ﴾
আত্মীয়স্বজন হলেও মুশরিকদের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করা নবী এবং মুমিনদের জন্য সংগত নয়, যখন এটা সুস্পষ্ট হয়ে যাবে যে, তারা নিশ্চিত জাহান্নামী।
(সূরা তাওবা- ৯:১১৩)
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন:
﴿اِنَّ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا مِنْ اَهْلِ الْكِتَابِ وَالْمُشْرِكِيْنَ فِي ْنَارِ جَهَنَّمَ خَالِدِيْنَ فِيْهَاؕ اُوْلٰٓئِكَ هُمْ شَرُّ الْبَرِيَّةِ﴾
আহলে-কিতাব ও মুশরিকদের মধ্যে যারা কাফির, তারা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে থাকবে; আর তারাই সৃষ্টির সবচেয়ে অধম। (সূরা বায়্যিনাহ- ৯৮:৬)