১
আল-ফাতাওয়া আল-মাক্কীয়্যাহ
লেখকঃ শাইখ মুহাম্মাদ ইবন সালেহ আল-উসাইমীন রহ. • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৭
প্রশ্ন (১৫): সা‘ঈ শেষে মারওয়াতে চুল কর্তন করা জায়েয কি? মাথা মুন্ডণ করা অথবা মাথার কিছু অংশের চুল কর্তন করার হুকুম কি? আর যে মাথা টাক অথবা মুণ্ডিত সে কি করবে? সা‘ঈ ও তাওয়াফকারী সা‘ঈ এবং তাওয়াফের মাঝে ক্লান্ত হয়ে পড়লে বিশ্রাম নেয়া জায়েয কি? মাথা মুণ্ডন ও চুল কর্তনের মাঝে কোনটি উত্তম দলীলসহ বলুন।
উত্তর (১৫): যখন মানুষ সা‘ঈ থেকে অবসর হয় এবং তা ওমরার সা‘ঈ হয় তখন নিশ্চয় সে মাথা মুণ্ডন করবে অথবা চুল কর্তন করবে। তবে মাথা মুণ্ডন উত্তম। কেননা এটা আল্লাহকে সম্মান দেখানোর খুব নিকটবর্তী। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথা মুণ্ডনকারীদের জন্য তিনবার আর চুল কর্তনকারীর জন্য একবার দো‘আ করেছেন।
আর যে মাথায় টাক অথবা যে মাথা সাম্প্রতিককালে মুণ্ডন করা হয়েছে তার থেকে মাথা মুণ্ডন অথবা চুল কর্তন করা রহিত হয়ে গেছে; কেননা তার মাথায় চুল নেই। আর এটা টাকের বিধান হওয়ার ব্যাপারটি তো স্পষ্টই; কারণ টাক মাথায় কোন চুল গঁজায় না। কিন্তু যার মাথার চুল মুণ্ডন করা হয়েছে তার জন্য আবশ্যক হচ্ছে কিছু চুল গজানো পর্যন্ত অপেক্ষা করা তারপর মুণ্ডন করা।
অপরদিকে মাথার কিছু অংশ মুণ্ডন করা অথবা মাথার কিছু অংশে কর্তন করা জায়েয নেই। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেন ﴿ مُحَلِّقِينَ رُءُوسَكُمۡ وَمُقَصِّرِينَ ٢٧ ﴾ [ الفتح : ٢٧ ] “তোমাদের মাথাসমূহকে মুণ্ডন করা অবস্থায় এবং চুল ছাঁটা অবস্থায়”, তাহলে অবশ্যই সমস্ত মাথা মুণ্ডন করতে হবে অথবা সমস্ত চুল থেকে কর্তন করতে হবে। আর উত্তমভাবে ও ব্যাপকভাবে যা চুল কর্তন করে থাকে তা হচ্ছে বর্তমানে সাধারণত মানুষ চুল কর্তন করার জন্য যে সব মেশিন ব্যবহার করে থাকে তা। কেননা এতে ব্যাপকভাবে এবং সুন্দরভাবে চুল কর্তন অর্জিত হয়। কেঁছি দিয়ে কাটার চেয়েও তা উত্তম। আর আমরা যে চুল মুণ্ডনের কথা বলেছি তা কেবল পুরষদের জন্য। অপরদিকে নারীগণের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সামান্য অংশ কর্তন করাই বিধিসম্মত।
আর যখন তাওয়াফকারী অথবা সা‘ঈকারী ক্লান্ত হয় ও বসে পড়ে তখন তাতে কোনো ক্ষতি নেই। কিন্তু সে দীর্ঘসময় ধরে বসে থাকবে না বরং সে অল্প সময় বসবে; যাতে তার শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক হয়ে আসে এবং তার পেশী প্রশান্ত হয়, তারপর আবার চলা শুরু করবে; তারপর যদি তার দ্বিতীয়বার কোনো বৈঠকের প্রয়োজন হয় তবে কোনো অসুবিধা নেই, অনুরূপ তৃতীয় অথবা চতুর্থবার বসাতেও কোনো সমস্যা নেই।
আর যে মাথায় টাক অথবা যে মাথা সাম্প্রতিককালে মুণ্ডন করা হয়েছে তার থেকে মাথা মুণ্ডন অথবা চুল কর্তন করা রহিত হয়ে গেছে; কেননা তার মাথায় চুল নেই। আর এটা টাকের বিধান হওয়ার ব্যাপারটি তো স্পষ্টই; কারণ টাক মাথায় কোন চুল গঁজায় না। কিন্তু যার মাথার চুল মুণ্ডন করা হয়েছে তার জন্য আবশ্যক হচ্ছে কিছু চুল গজানো পর্যন্ত অপেক্ষা করা তারপর মুণ্ডন করা।
অপরদিকে মাথার কিছু অংশ মুণ্ডন করা অথবা মাথার কিছু অংশে কর্তন করা জায়েয নেই। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেন ﴿ مُحَلِّقِينَ رُءُوسَكُمۡ وَمُقَصِّرِينَ ٢٧ ﴾ [ الفتح : ٢٧ ] “তোমাদের মাথাসমূহকে মুণ্ডন করা অবস্থায় এবং চুল ছাঁটা অবস্থায়”, তাহলে অবশ্যই সমস্ত মাথা মুণ্ডন করতে হবে অথবা সমস্ত চুল থেকে কর্তন করতে হবে। আর উত্তমভাবে ও ব্যাপকভাবে যা চুল কর্তন করে থাকে তা হচ্ছে বর্তমানে সাধারণত মানুষ চুল কর্তন করার জন্য যে সব মেশিন ব্যবহার করে থাকে তা। কেননা এতে ব্যাপকভাবে এবং সুন্দরভাবে চুল কর্তন অর্জিত হয়। কেঁছি দিয়ে কাটার চেয়েও তা উত্তম। আর আমরা যে চুল মুণ্ডনের কথা বলেছি তা কেবল পুরষদের জন্য। অপরদিকে নারীগণের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সামান্য অংশ কর্তন করাই বিধিসম্মত।
আর যখন তাওয়াফকারী অথবা সা‘ঈকারী ক্লান্ত হয় ও বসে পড়ে তখন তাতে কোনো ক্ষতি নেই। কিন্তু সে দীর্ঘসময় ধরে বসে থাকবে না বরং সে অল্প সময় বসবে; যাতে তার শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক হয়ে আসে এবং তার পেশী প্রশান্ত হয়, তারপর আবার চলা শুরু করবে; তারপর যদি তার দ্বিতীয়বার কোনো বৈঠকের প্রয়োজন হয় তবে কোনো অসুবিধা নেই, অনুরূপ তৃতীয় অথবা চতুর্থবার বসাতেও কোনো সমস্যা নেই।