hadith book logo

আল-ফাতাওয়া আল-মাক্কীয়্যাহ

লেখকঃ শাইখ মুহাম্মাদ ইবন সালেহ আল-উসাইমীন রহ. • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪৯

প্রশ্ন (৪৭): কিছু কিছু মানুষ ইমামের সাথে এগারো রাকা‘আত সালাত আদায় করার পর ইমাম থেকে আলাদা হয়ে যায়, এ ভিত্তিতে যে, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান ও অন্যান্য সময়ে এগারো রাকআতের বেশি সালাত (তারাবীহ) আদায় করেন নি।” তাদের এ কাজের হুকুম কি?

উত্তর (৪৭): যে ইমাম তারাবীহর সালাত এগারো রাকআতের বেশি আদায় করে সে ইমাম থেকে পৃথক হয়ে যাওয়া সুন্নাতের বিপরীত। বরং তা হচ্ছে অনেক সাওয়াব ও পূণ্যের কাজ থেকে বঞ্চিত হওয়া। তাছাড়া তা সালাফে সালেহীনের রীতিবিরুদ্ধ কাজ। কারণ যে, যারা (সাহাবীগণ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সালাত আদায় করেছেন তারা তাঁর সালাত শেষ হওয়ার পূর্বে প্রত্যাবর্তন করেন নি। আর সাহাবীগণ তাদের ইমামের অনুযায়ী কাজ করতেন, এমনকি তারা যেটাকে বিধিবদ্ধ মনে করতেন ইমাম তার অতিরিক্ত কিছু করার ক্ষেত্রেও। যেমন ওসমান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু যখন মিনায় সালাত পূর্ণ করতেন তখন তারা বিষয়টির বিরোধিতা করলেও ইমামের অনুসরণ করে পূর্ণ সালাতই আদায় করেছিলেন। তারা বলতেন: মতবিরোধ খারাপ।

তাছাড়া এভাবে ইমামকে ছেড়ে তাদের প্রত্যাবর্তন করার মাধ্যমে তারা বড় সাওয়াব থেকে মাহরূম হয়ে গেলো, কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন

«من قام مع الإمام حتى ينصرف كتبت له قيام ليلة»

‘‘যে কেউ ইমামের সাথে সালাত আদায় করতে দাঁড়ায় এবং ইমাম সালাত শেষ না করা পর্যন্ত তার সাথে থাকে তার কিয়ামুল লাইলের প্রতিদান লেখা হয়।’’

এগার রাক‘আতের অধিক হারাম নয়। বরং এটা জায়েয। এর দলীল হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এক ব্যক্তি রাতের সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, “দু’ দু’ রাক‘আত করে আদায় করবে, অতঃপর যখন কেউ সকাল হয়ে যাবার আশংকা করে তখন সে এক রাক‘আত পড়বে, ফলে তা সে যা পড়ছে সেটাকে বেজোড় করে দিবে।” এখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সংখ্যা নির্দিষ্ট করেন নি। যদি এগারো রাক‘আতের অধিক হারাম বা নিষিদ্ধ হতো তবে তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করতেন। অতএব, আমার ভাইদের জন্য উপদেশ হলো, ইমাম নামায শেষ না করা পর্যন্ত তারা যেন ইমামের অনুসরণ করে।