১
রাফ‘উল মালাম সম্মানিত ঈমামগণের সমালোচনার জবাব
লেখকঃ শাইখুল ইসলাম আহমাদ ইবন আবদুল হালীম ইবন তাইমিয়্যাহ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১২
দ্বিতীয়ত: এমন কতিপয় ক্ষেত্র, যে বিষয়ে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিকট হাদীস পৌছে নি
অনুরূপ আরও কিছু স্থান রয়েছে যেখানে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু৩র কাছে রাসূলের সুন্নাত পৌঁছে নি, সে সব স্থানে তিনি হাদীস ব্যতিরেকেই বিচার করেছেন অথবা হাদীসের ভাষ্যের বাইরেই ফাতওয়া দিয়েছেন।
৭. উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু ও অঙ্গুলির দিয়াত সংক্রান্ত হাদীস:
তদ্রূপ তাঁর (উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুর) বিচারিক রায় ছিল যে, সকল অঙ্গুলির দিয়ত সমান নয়। বরং অঙ্গুলির উপকারিতার তারতম্য অনুসারে তার দিয়তও কম বেশি হয়ে থাকে। কিন্তু আবূ মুসা রাদিয়াল্লাহু আনহু ও ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা তার তুলনায় জ্ঞানের দিক দিয়ে কম হওয়া সত্ত্বেও এ হাদীস সম্পর্কে জ্ঞাত ছিলেন, তাদের জানা ছিল যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«هَذِهِ وَهَذِهِ سَوَاءٌ» يَعْنِي الخِنْصَرَ وَالإِبْهَام
“বৃদ্ধাঙ্গুলী ও অনামিকার দিয়ত সমান সমান।” [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৮৯৫; আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৫৫৮; তিরমিযী, হাদীস নং ১৩৯২; নাসাঈ, হাদীস নং ৪৮৪৭।]
মু‘আবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুর শাসনামলে এ হাদীসটি তার (মু‘আবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিকট পৌঁছলে তিনি সে অনুসারে রায় প্রদান করেন। মুসলিমদের এর অনুসরণ করা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না।
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুর জন্য তার পক্ষ থেকে যে মত প্রদান করেছিলেন সেটা দোষণীয় ছিল না। কারণ, তার নিকট উক্ত হাদীস পৌঁছে নি।
৮. উমার ও ইহরাম এবং তাওয়াফে ইফাদার পূর্বে সুগন্ধি ব্যবহার সংক্রান্ত হাদীস:
অনুরূপভাবে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু মুহ্রিম ব্যক্তিকে (ইহরাম পরিধানকারী ব্যক্তি) হজ্জ ও উমরাহ’র ইহরামের পূর্বে এবং জামরাতুল ‘আকাবায়ে কংকর নিক্ষেপ করার পর মক্কায় তওয়াফে ইফাদা (হজ্জের ফরয তওয়াফ) এর পূর্বে সুগন্ধি ব্যবহার করতে নিষেধ করতেন। তিনি এবং তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ এবং অন্যান্য মর্যাদাবান সাহাবীগণ এই নিষেধ সংক্রান্ত বিধান দিতেন। তাদের নিকট আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহার ঐ হাদীস পৌঁছে নি। আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন:
«طَيَّبْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِإِحْرَامِهِ، قَبْلَ أَنْ يُحْرِمَ، وَلِحِلِّهِ قَبْلَ أَنْ يَطُوفَ بِالْبَيْتِ»
“আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইহরাম বাঁধার পূর্বে এবং হালালের জন্য (ইহরাম খোলার পর) তাওয়াফ (ইফাদা) এর পূর্বে সুগন্ধি লাগিয়ে দিতাম [নাসাঈ, হাদীস নং ২৬৮৫; অনুরূপ সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৫৩৯; ১৭৫৪; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১১৮৯।]।”
৯. উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু ও চামড়ার মোজার উপর মাসেহ-এর মেয়াদ সংক্রান্ত হাদীস:
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু চামড়ার মোজা না খোলা পর্যন্ত অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য মোজা পরিধানকারীকে মোজার উপর মাসেহ করার হুকুম দিতেন। সালাফে সালেহীনের একদল এই মত অনুসরণ করেন। তাদের নিকট মোজার উপরে মাসেহ এর সময় নির্ধারণ সংক্রান্ত হাদীস পৌঁছে নি। পক্ষান্তরে, এমন কতিপয় লোকের নিকট সময় নির্ধারণ সংক্রান্ত সহীহ হাদীস পৌঁছেছিল যারা জ্ঞানের দিক দিয়ে তাদের (উমার ও তার অনুসারীদের) সমকক্ষ ছিলেন না। অথচ এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিভিন্ন পন্থায় সহীহ হাদীস বর্ণিত হয়েছে [মুসনাদে আহমাদ, ১/১১৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৭৬; নাসাঈ, হাদীস নং ১২৮, ১২৯।]।
৭. উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু ও অঙ্গুলির দিয়াত সংক্রান্ত হাদীস:
তদ্রূপ তাঁর (উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুর) বিচারিক রায় ছিল যে, সকল অঙ্গুলির দিয়ত সমান নয়। বরং অঙ্গুলির উপকারিতার তারতম্য অনুসারে তার দিয়তও কম বেশি হয়ে থাকে। কিন্তু আবূ মুসা রাদিয়াল্লাহু আনহু ও ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা তার তুলনায় জ্ঞানের দিক দিয়ে কম হওয়া সত্ত্বেও এ হাদীস সম্পর্কে জ্ঞাত ছিলেন, তাদের জানা ছিল যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«هَذِهِ وَهَذِهِ سَوَاءٌ» يَعْنِي الخِنْصَرَ وَالإِبْهَام
“বৃদ্ধাঙ্গুলী ও অনামিকার দিয়ত সমান সমান।” [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৮৯৫; আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৫৫৮; তিরমিযী, হাদীস নং ১৩৯২; নাসাঈ, হাদীস নং ৪৮৪৭।]
মু‘আবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুর শাসনামলে এ হাদীসটি তার (মু‘আবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিকট পৌঁছলে তিনি সে অনুসারে রায় প্রদান করেন। মুসলিমদের এর অনুসরণ করা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না।
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুর জন্য তার পক্ষ থেকে যে মত প্রদান করেছিলেন সেটা দোষণীয় ছিল না। কারণ, তার নিকট উক্ত হাদীস পৌঁছে নি।
৮. উমার ও ইহরাম এবং তাওয়াফে ইফাদার পূর্বে সুগন্ধি ব্যবহার সংক্রান্ত হাদীস:
অনুরূপভাবে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু মুহ্রিম ব্যক্তিকে (ইহরাম পরিধানকারী ব্যক্তি) হজ্জ ও উমরাহ’র ইহরামের পূর্বে এবং জামরাতুল ‘আকাবায়ে কংকর নিক্ষেপ করার পর মক্কায় তওয়াফে ইফাদা (হজ্জের ফরয তওয়াফ) এর পূর্বে সুগন্ধি ব্যবহার করতে নিষেধ করতেন। তিনি এবং তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ এবং অন্যান্য মর্যাদাবান সাহাবীগণ এই নিষেধ সংক্রান্ত বিধান দিতেন। তাদের নিকট আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহার ঐ হাদীস পৌঁছে নি। আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন:
«طَيَّبْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِإِحْرَامِهِ، قَبْلَ أَنْ يُحْرِمَ، وَلِحِلِّهِ قَبْلَ أَنْ يَطُوفَ بِالْبَيْتِ»
“আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইহরাম বাঁধার পূর্বে এবং হালালের জন্য (ইহরাম খোলার পর) তাওয়াফ (ইফাদা) এর পূর্বে সুগন্ধি লাগিয়ে দিতাম [নাসাঈ, হাদীস নং ২৬৮৫; অনুরূপ সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৫৩৯; ১৭৫৪; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১১৮৯।]।”
৯. উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু ও চামড়ার মোজার উপর মাসেহ-এর মেয়াদ সংক্রান্ত হাদীস:
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু চামড়ার মোজা না খোলা পর্যন্ত অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য মোজা পরিধানকারীকে মোজার উপর মাসেহ করার হুকুম দিতেন। সালাফে সালেহীনের একদল এই মত অনুসরণ করেন। তাদের নিকট মোজার উপরে মাসেহ এর সময় নির্ধারণ সংক্রান্ত হাদীস পৌঁছে নি। পক্ষান্তরে, এমন কতিপয় লোকের নিকট সময় নির্ধারণ সংক্রান্ত সহীহ হাদীস পৌঁছেছিল যারা জ্ঞানের দিক দিয়ে তাদের (উমার ও তার অনুসারীদের) সমকক্ষ ছিলেন না। অথচ এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিভিন্ন পন্থায় সহীহ হাদীস বর্ণিত হয়েছে [মুসনাদে আহমাদ, ১/১১৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৭৬; নাসাঈ, হাদীস নং ১২৮, ১২৯।]।