hadith book logo

রাফ‘উল মালাম সম্মানিত ঈমামগণের সমালোচনার জবাব

লেখকঃ শাইখুল ইসলাম আহমাদ ইবন আবদুল হালীম ইবন তাইমিয়্যাহ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৬

খবর বা সংবাদ [আর হাদীসও তো খবর বা সংবাদই বটে। সুতরাং খবরের ব্যাপারে যা প্রযোজ্য হবে, হাদীসের ব্যাপারেও তা-ই প্রযোজ্য হবে। [সম্পাদক]] কখন ইলমের ফায়দা দেয়

আর এর ভিত্তি হচ্ছে, কোনো খবর বা তথা সংবাদ ‘ইলম’ বা ‘নিশ্চিত সত্য’ হওয়ার বিষয়টি নিম্নোক্ত কয়েকভাবে অর্জিত হয়ে থাকে:

১. কখনও খবরদাতার আধিক্য।

২. কখনও খবরদাতাগণ বিশেষ বিশষ গুণে গুণান্নিত হওয়া।

৩. কখনও খবরটি এরূপভাবে বর্ণনা করা হয় যাতে শ্রোতাদের বিশ্বাস জন্মে।

৪. আবার কখনও খবরপ্রাপ্ত ব্যক্তি কর্তৃক স্বয়ং সেটার সত্যতা প্রাপ্তি।

৫. আবার কখনও যে খবরটি দেওয়া হচ্ছে, সেটাতে এমন কিছু থাকা যা মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় থাকে না।

আবার অল্প সংখ্যক এমন লোকের খবর দ্বারাও ( علم ) ‘দৃঢ় জ্ঞান’ অর্জিত হয়, যখন তাদের দীনদারী ও সংরক্ষণশীলতা এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে তাদের পক্ষ হতে মিথ্যা কিংবা ভুল হওয়ার অবকাশ থাকে না। পক্ষান্তরে তারা ব্যতীত অন্যান্যরা যদি সংখ্যায় তাদের চেয়ে কয়েকগুণ বেশিও হয়, তবুও তাদের খবর দ্বারা কখনও কখনও ( علم ) ‘দৃঢ় জ্ঞান’ অর্জিত হয় না।

এটিই হচ্ছে একটি বাস্তব সত্য কথা, যাতে কোনো সন্দেহ নেই। অধিকাংশ ফকীহ, মুহাদ্দিস এবং একদল মুতাকাল্লিমও এ মতই পোষণ করেন।

যদিও অপর এক দল মুতাকাল্লিম (কালামশাস্ত্রবিদ) ও ফকীহের অভিমত এই যে, কোনো বিশেষ সংখ্যক লোকদের দেওয়া খবরে কোনো ব্যাপারে ইলমূল ইয়াকীন বা দৃঢ় ইলম প্রমাণিত হলে অন্যান্য ঘটনাসমূহেও অনুরূপ বিশেষ সংখ্যকের দেওয়া খবর দৃঢ় ইল্‌মের ফায়দা দিবে। যা একান্তই বাতিল ও অমূলক কথা। অবশ্য এর বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়ার স্থান এটি নয়।

অবশ্য যে সকল বহিরাগত আনুষাঙ্গিক প্রমাণাদি খবরপ্রাপ্তদের কাছে কোনো খবর দ্বারা ইলম তথা ‘দৃঢ় জ্ঞান’ অর্জনের ব্যাপারে প্রভাব ফেলে থাকে, সেটার বর্ণনা আমরা এখানে করলাম না। কারণ, এই জাতীয় আনুষাঙ্গিক প্রমাণাদিই ‘ইলম’ তথা ‘দৃঢ় জ্ঞান’ প্রদান করে থাকে, যদিও সেটার সাথে খবর সংশ্লিষ্টতা না থাকে [যেমন কারও মাথায় পাগড়ি পরার অভ্যাস আছে। অপর ব্যক্তির পাগড়ি পরার বিষয়টি জানা নেই। এমতাবস্থায় দেখা গেলো যে, পাগড়ি মাথায় দেয় এমন লোকটি খালি মাথায় যে পাগড়ি পরে না তার পিছনে দৌড়াচ্ছে আর বলছে, আমার পাগড়ি, আমার পাগড়ি। এটা এমন এক আনুষাঙ্গিক প্রমাণ, যারা দ্বারা বুঝা যায় যে, লোকটি তার পাগড়ি নিয়ে পালাচ্ছে। [সম্পাদক]]।

আর যদি সে বহিরাগত আনুষাঙ্গিক প্রমাণটিই ইলম তথা দৃঢ়জ্ঞান প্রদান করে, তাহলে সেটা মোটেই খবরের অনুগামী বিষয় নয়। যেমনিভাবে খবরও সেই ‘বহিরাগত প্রমাণাদি’র অনুগামী নয়। বরং খবর ও আনুষাঙ্গিক প্রমাণ উভয়টিই কখনও কখনও ‘ইলম’ তথা দৃঢ়জ্ঞান প্রদান করে, আবার কখনও দৃঢ় ধারণার জন্ম দেয়। আবার কখনও ঐ দু’টি মিলে ইলমূল ইয়াকীন বা দৃঢ় ইল্‌মের ফায়েদা প্রদান করে, আবার কখনও এ দু’টির একটি ইলম তথা দৃঢ়জ্ঞান লাভ বাধ্য করে, আবার কখনও একটি দ্বারা অকাট্য ইলম, অন্যটি দ্বারা দৃঢ় ধারণা অর্জিত হয়।

আর যখনই কেউ খবর সম্পর্কে বেশি জ্ঞানী হয়, তখনই সে এমন খবরের সত্যতার ব্যাপারে অকাট্য বিশ্বাস করে, যা অন্যের কাছে তেমন অকাট্য নয়, কারণ সে খবর সম্পর্কে পূর্বোক্ত ব্যক্তির মত জ্ঞানী নয়।