hadith book logo

রাফ‘উল মালাম সম্মানিত ঈমামগণের সমালোচনার জবাব

লেখকঃ শাইখুল ইসলাম আহমাদ ইবন আবদুল হালীম ইবন তাইমিয়্যাহ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪৭

পঞ্চম জবাব

হয়ত এই সম্বোধনটি (অর্থাৎ কোনো কাজের নিষেধ করে আসা হুমকি-ধমকির নির্দেশনাটির) ব্যাপকতার দলীল হওয়ার জন্য সে বিষয়ে সমস্ত উম্মতের দৃঢ় বিশ্বাস থাকা শর্ত অথবা কেবল আলিমগণের দৃঢ় বিশ্বাস থাকাই যথেষ্ট।

প্রথম অবস্থায় শাস্তি সম্পর্কিত হাদীস দ্বারা কোনো বস্তুর হারাম হওয়ার দলীল গ্রহণ করা যাবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত সমস্ত উম্মত তার হারাম বা অবৈধতায় দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ না করে। এমনকি যারা মরুভূমির বেদুইন ও নবদীক্ষিত মুসলিম, তাদের মতৈক্যেরও প্রয়োজন রয়েছে।

এটা কোনো মুসলিম কেন, কোনো বুদ্ধি সম্পন্ন লোকেও সঠিক বলে বিবেচনা করবে না। কেননা এরূপ শর্তের ইলম সম্পূর্ণ অসম্ভব।

আর যদি বলা হয় যে, কোন বিষয়ের দলীল হওয়ার জন্য সমস্ত আলিমের ই‘তিকাদ বা দৃঢ় ধারণাই যথেষ্ট, তা হলে জবাবে বলা হবে- এভাবে তো তুমি আলিমগণের ইজমার শর্তই আরোপ করলে, যাতে করে কোনো মুজতাহিদ ইজতেহাদে ভুল করার ফলে সে শাস্তির হুমকি-ধমকির সম্মুখীন হতে না হয়। আর এই হুকুম তো পুরোপুরিভাবে ঐ সাধারণ লোকের ব্যাপারেও প্রযোজ্য যে হারামের দলীল সম্পর্কে অবহিত নয়। কেননা লা‘নতে পতিত হবার আশংকা যেভাবে মুজতাহিদের জন্য রয়েছে অনুরূপভাবে সাধারণ লোকটির ক্ষেত্রেও সে আশংকা বিদ্যমান।

মুজতাহিদগণ এর (লা‘নতে পতিত হওয়ার) আবশ্যকতা থেকে এটা বলে রক্ষা পাবেন না যে, তারা উম্মতের আলিম, নেককার ও সম্মানিত সত্যবাদী লোক, আর অপরপক্ষ হচ্ছে উম্মতের অখ্যাত ও সাধারণ লোক। কেননা উভয় উম্মতের মধ্যে এইরূপ পার্থক্যের দরুনও এই মাসআলার হুকুম বিভিন্ন হবে না, বরং উভয়ই সমান। কারণ, আল্লাহ মুজতাহিদের ভুল যেভাবে ক্ষমা করেন, অনুরূপভাবে এমন অজ্ঞ লোকের ভুল-ভ্রান্তিও ক্ষমা করেন, যার পক্ষে বিদ্যা শিক্ষা সম্ভব হয় নি। বরং সাধারণ জাহেল ব্যক্তি অজ্ঞতাবশত: হারামে লিপ্ত হলে যে ফাসাদের সৃষ্টি হয়, কোনো ইমাম শরী‘আতে হারামকৃত বস্তুকে হালাল ঘোষণা করলে তার চেয়ে অধিকতর ফাসাদের সৃষ্টি হয়, যদিও সেই ইমাম ঐ বস্তু সম্পর্কে জ্ঞাত নয় এবং তার পক্ষে হারাম সম্পর্কে জ্ঞাত হওয়াও সম্ভব হয় নি।

এ জন্য বলা হয়ে থাকে:

احذروا زلة العالم، فإنه إذا زل زل بزلته عالَم .

“তোমরা আলিমের পদস্খলনকে ভয় কর। কেননা যখন কোনো আলিমের পদস্খলন ঘটে তখন সারা দুনিয়ার পদস্খলন ঘটে।

ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেছেন:

«ويلٌ للعالم من الأتباع»

“কখনও কখনও আলিমের অনুসারীগণ তার ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।”

যদি তাদের (আলিমগণের) এ কাজ ক্ষমার যোগ্য হয়, যদিও তাতে তার কর্মকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট অনাসৃষ্টি ভীষণ ভয়াবহ, তাহলে অন্যদের (সাধারণ লোকদের) থেকে, যাতে সে রকম ভয়াবহ সমস্যা হয় না, তাদের কাজ ক্ষমার যোগ্য হওয়াটাই আরও স্বাভাবিক।

হ্যাঁ, তাদের (মুজতাহিদ ও সাধারণ লোকের) মধ্যে অন্য দিকে একটি পার্থক্য করা যায়, তা হচ্ছে, এ লোক (মুজতাহিদ) তো ইজতিহাদ বা গবেষণা করে কথা বলেছেন। আর তার দ্বারা ইলম প্রচার ও সুন্নাতের প্রসারে ও পুনরুজ্জীবনের যে উপকারিতা হাসিল হয় সেটার বিপরীতে সে ফাসাদ কিছুই নয়। তাছাড়া মহান আল্লাহও উভয়ের মধ্যে পার্থক্য করে দিয়েছেন। সুতরাং তিনি মুজতাহিদকে তার ইজতেহাদের জন্য এমন সাওয়াব দান করেন ও আলিমকে তার ইলমের জন্য এমন প্রতিদান প্রদান করেন, যার মধ্যে জাহেল বা অজ্ঞ ব্যক্তি শরিক নয়। অতএব, তারা উভয়ই ক্ষমার দিক দিয়ে সমান। কিন্তু সাওয়াবের দিক দিয়ে পরস্পর বিপরীত। আর নিরপরাধ ব্যক্তির ওপর শাস্তি বর্তানো সার্বিকভাবে নিষিদ্ধ। চাই সে অপরাধ বড় হোক কিংবা ছোট হোক।

সুতরাং হাদীস হতে এ নিষিদ্ধ বিষয় (শাস্তি বর্তানো) এমনভাবে দূর করতে হবে যেন উভয় পক্ষকে শামিল করা যায়।