১
রাফ‘উল মালাম সম্মানিত ঈমামগণের সমালোচনার জবাব
লেখকঃ শাইখুল ইসলাম আহমাদ ইবন আবদুল হালীম ইবন তাইমিয়্যাহ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৭
দ্বিতীয় কারণ: দ্বিতীয় কারণ এই যে, হাদীসটি ইমামের নিকট পৌঁছেছে, কিন্তু কতিপয় কারণে তা তার কাছে নির্ভরযোগ্য বিবেচিত হয় নি।
কারণগুলো হলো:
তার কাছে যিনি এ হাদীস বর্ণনা করেছেন সে মুহাদ্দিস কিংবা সে মুহাদ্দিস যে মুহাদ্দিসের কাছ থেকে বর্ণনা করেছেন অথবা সনদের অন্য কোনো ব্যক্তি ইমামের নিকট মাজহূল তথা অপরিচিত কিংবা মুত্তাহাম তথা মিথ্যা বর্ণনাকারীর অভিযোগে অভিযুক্ত অথবা সাইয়্যেউল হিফয তথা (হাদীস শাস্ত্রে) স্মৃতি শক্তিতে দুর্বল অথবা হাদীসটি তার নিকট মুসনাদ তথা সনদপরম্পরার ধারাবাহিকতা সম্পন্ন অবস্থায় পৌঁছে নি, বরং মুনকাতে‘ তথা সনদের ধারাবাহিকতা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পৌঁছেছে। কিংবা হাদীসের শব্দগুলো সঠিকভাবে সংরক্ষিত হয় নি। যদিও ঐ হাদীসটি অপর একজনের নিকট নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী দ্বারা মুত্তাসিল সনদে পৌঁছেছে। যেমন, যে বর্ণনাকারী ইমামের নিকট ছিল মাজহূল বা অপরিচিত, তিনি অন্যের নিকট একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি প্রমাণিত হবেন। অথবা এরূপও হয়ে থাকে যে, ঐ হাদীসটি অন্য সনদে বর্ণিত, যার বর্ণনাকারী কোনো অভিযোগে অভিযুক্ত নয়। অথবা ঐ সনদটি ইনকেতা‘ (বিচ্ছিন্ন পন্থা) নয় বরং অন্য কোনো দিক থেকে মুত্তাসিল বা অবিচ্ছিন্ন বর্ণনাপরম্পরার মাধ্যমে এসে তার কাছে পৌঁছবে, আর হাদীস শাস্ত্রের কোনো কোনো মুহাদ্দিস হাফেয সেই হাদীসের শব্দগুলিকে যথাযথ সংরক্ষণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন অথবা সে বর্ণনাটির সপক্ষে এমন কতকগুলো মুতাবা‘আত (একই বর্ণনাকারী থেকে অন্য সনদে একই হাদীস প্রাপ্ত হওয়া) ও শাওয়াহেদ (একই অর্থে অন্য বর্ণনাকারী থেকে হাদীস প্রাপ্ত হওয়া) দৃষ্টিগোচর রয়েছে, যার দ্বারা উক্ত হাদীসটি তার কাছে শুদ্ধ প্রমাণিত হয়েছে।
আর এ বিষয়টি তাবে‘য়ীন ও তাবে’ তাবে‘য়ীন হতে আরম্ভ করে তাদের পরবর্তী প্রসিদ্ধ ইমামগণের মধ্যে বহুল পরিমানে পাওয়া যায়। আর এটি প্রথম যুগের চেয়েও পরবর্তী যুগে এবং প্রথম কারণের চেয়েও বেশি দৃষ্ট হয়ে।
কেননা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে হাদীস প্রচার ও প্রসার লাভ করেছিল, তাতে এমনও বহু হাদীস ছিল যা বহু আলিমের নিকট দুর্বল পন্থায় পৌঁছেছে। আবার অনেকের কাছে ঐ পন্থা ব্যতীত সেগুলো অপর সহীহ পন্থায় পৌঁছেছে। সুতরাং এ পর্যায়ে অত্র হাদীসগুলো দলীল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যদিও বিপক্ষীয়দের নিকট সেগুলো অন্য (সহীহ) পন্থায় সেগুলো না পৌঁছে থাকে।
এ কারণেই বহু ইমামের কথায় দেখা যায় যে, তারা হাদীসের সঠিকতার শর্ত আরোপ করে মত প্রদান করতেন। তারা বলতেন যে, অমুক মাসআলায় আমার রায় বা মত হচ্ছে এই [অর্থাৎ সে মতটি তার একান্ত নিজের ইজতেহাদপ্রসূত।], তবে সেখানে একটি হাদীস বর্ণিত আছে [অর্থাৎ দুর্বল হাদীস।]। কিন্তু যদি হাদীসটি সহীহ হয়, তবে সেটাই আমার মত হিসেবে বিবেচিত হবে [অর্থাৎ তখন আমার ইজতেহাদপ্রসূত কথার মূল্য থাকবে না, বরং হাদীসের কথাই আমার কথা।]।
তার কাছে যিনি এ হাদীস বর্ণনা করেছেন সে মুহাদ্দিস কিংবা সে মুহাদ্দিস যে মুহাদ্দিসের কাছ থেকে বর্ণনা করেছেন অথবা সনদের অন্য কোনো ব্যক্তি ইমামের নিকট মাজহূল তথা অপরিচিত কিংবা মুত্তাহাম তথা মিথ্যা বর্ণনাকারীর অভিযোগে অভিযুক্ত অথবা সাইয়্যেউল হিফয তথা (হাদীস শাস্ত্রে) স্মৃতি শক্তিতে দুর্বল অথবা হাদীসটি তার নিকট মুসনাদ তথা সনদপরম্পরার ধারাবাহিকতা সম্পন্ন অবস্থায় পৌঁছে নি, বরং মুনকাতে‘ তথা সনদের ধারাবাহিকতা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পৌঁছেছে। কিংবা হাদীসের শব্দগুলো সঠিকভাবে সংরক্ষিত হয় নি। যদিও ঐ হাদীসটি অপর একজনের নিকট নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী দ্বারা মুত্তাসিল সনদে পৌঁছেছে। যেমন, যে বর্ণনাকারী ইমামের নিকট ছিল মাজহূল বা অপরিচিত, তিনি অন্যের নিকট একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি প্রমাণিত হবেন। অথবা এরূপও হয়ে থাকে যে, ঐ হাদীসটি অন্য সনদে বর্ণিত, যার বর্ণনাকারী কোনো অভিযোগে অভিযুক্ত নয়। অথবা ঐ সনদটি ইনকেতা‘ (বিচ্ছিন্ন পন্থা) নয় বরং অন্য কোনো দিক থেকে মুত্তাসিল বা অবিচ্ছিন্ন বর্ণনাপরম্পরার মাধ্যমে এসে তার কাছে পৌঁছবে, আর হাদীস শাস্ত্রের কোনো কোনো মুহাদ্দিস হাফেয সেই হাদীসের শব্দগুলিকে যথাযথ সংরক্ষণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন অথবা সে বর্ণনাটির সপক্ষে এমন কতকগুলো মুতাবা‘আত (একই বর্ণনাকারী থেকে অন্য সনদে একই হাদীস প্রাপ্ত হওয়া) ও শাওয়াহেদ (একই অর্থে অন্য বর্ণনাকারী থেকে হাদীস প্রাপ্ত হওয়া) দৃষ্টিগোচর রয়েছে, যার দ্বারা উক্ত হাদীসটি তার কাছে শুদ্ধ প্রমাণিত হয়েছে।
আর এ বিষয়টি তাবে‘য়ীন ও তাবে’ তাবে‘য়ীন হতে আরম্ভ করে তাদের পরবর্তী প্রসিদ্ধ ইমামগণের মধ্যে বহুল পরিমানে পাওয়া যায়। আর এটি প্রথম যুগের চেয়েও পরবর্তী যুগে এবং প্রথম কারণের চেয়েও বেশি দৃষ্ট হয়ে।
কেননা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে হাদীস প্রচার ও প্রসার লাভ করেছিল, তাতে এমনও বহু হাদীস ছিল যা বহু আলিমের নিকট দুর্বল পন্থায় পৌঁছেছে। আবার অনেকের কাছে ঐ পন্থা ব্যতীত সেগুলো অপর সহীহ পন্থায় পৌঁছেছে। সুতরাং এ পর্যায়ে অত্র হাদীসগুলো দলীল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যদিও বিপক্ষীয়দের নিকট সেগুলো অন্য (সহীহ) পন্থায় সেগুলো না পৌঁছে থাকে।
এ কারণেই বহু ইমামের কথায় দেখা যায় যে, তারা হাদীসের সঠিকতার শর্ত আরোপ করে মত প্রদান করতেন। তারা বলতেন যে, অমুক মাসআলায় আমার রায় বা মত হচ্ছে এই [অর্থাৎ সে মতটি তার একান্ত নিজের ইজতেহাদপ্রসূত।], তবে সেখানে একটি হাদীস বর্ণিত আছে [অর্থাৎ দুর্বল হাদীস।]। কিন্তু যদি হাদীসটি সহীহ হয়, তবে সেটাই আমার মত হিসেবে বিবেচিত হবে [অর্থাৎ তখন আমার ইজতেহাদপ্রসূত কথার মূল্য থাকবে না, বরং হাদীসের কথাই আমার কথা।]।