১
রাফ‘উল মালাম সম্মানিত ঈমামগণের সমালোচনার জবাব
লেখকঃ শাইখুল ইসলাম আহমাদ ইবন আবদুল হালীম ইবন তাইমিয়্যাহ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩৯
প্রথম মত
এমতাবস্থায় কতিপয় ফকীহের মত হলো, খবরে ওয়াহেদ এর বর্ণনাকারী যখন ন্যায়বান ও নির্ভরযোগ্য হবে এবং তাতে কোনো কাজের শাস্তির ধমক সম্বলিত হবে, তখন ঐ হাদীসের চাহিদা অনুসারে আমল করা ওয়াজিব। অর্থাৎ কাজটি হারাম জ্ঞান করতে হবে। তবে এর দ্বারা অর্জিত জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে সেটা দ্বারা যে শাস্তির ধমকি এসেছে তা কার্যকর করা যাবে না, যতক্ষণ না হাদীসটি কাত‘ঈ বা অকাট্য বিবেচিত হবে। অনুরূপভাবে সেখানেও একই বিধান বর্তাবে, যেখানে হাদীসের ‘মতন’ বা মূল শব্দ অকাট্য হয়, কিন্তু তার চাহিদা ‘যাহের’ হয় [অর্থাৎ সেখানেও আমল করা ওয়াজিব, কিন্তু হাদীস লব্ধ জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে বিধান প্রয়োগ করা যাবে না।]।
এর ওপরই আবু ইসহাক আস সুবাই‘ঈর স্ত্রীর কাছে ‘আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহার কথাকে গণ্য করা হয়েছে। যেখানে তিনি বলেছিলেন,
«َأَبْلِغِي زَيْدًا أَنَّهُ قَدْ أَبْطَلَ جِهَادَهُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَّا أَنْ يَتُوبَ»
“যায়েদ ইবন আরকামকে জানিয়ে দাও যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তার জিহাদের সাওয়াব বাতিল করা হয়েছে, যদি না সে তাওবা করে।” (দারাকুতনী) [দারাকুতনী, আস-সুনান, হাদীস নং ৩০০২।]। [বিস্তারিত ঘটনা এই যে, আবু ইসহাকের স্ত্রী যায়েদ ইবন আরকাম আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিকট বাকীতে আটশত দিরহামের বিনিময়ে একটি গোলাম বিক্রয় করে। তৎপর যায়েদ ইবন আরকাম ঐ গোলামটি বিক্রয় করতে চাইলে আবু ইসহাকের স্ত্রী তাকে ছয়শত দিরহামে ক্রয় করে। এ সংবাদ আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার নিকট পৌঁছেলে তিনি রাগাম্বিত হয়ে বললেন, যায়েদ ইবন আরকামের রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে জিহাদের সওয়াব বাতিল হয়েছে। অবশ্য তাওবা করলে সাওয়াব বাতিল হবে না।]
আলিমগণ বলেন, আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা যায়েদ ইবন আরকাম রাদিয়াল্লাহু আনহুর জিহাদ বাতিল হওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। কেননা তিনি সে সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবহিত ছিলেন। সুতরাং সেই জাতীয় ক্রয়-বিক্রয় হারাম হওয়া সম্পর্কে আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহার হাদীসে আমল করা হবে।’ যদিও আমরা ঐ শাস্তির কথা বলি না যে, যায়েদ ইবন আরকাম রাদিয়াল্লাহু আনহুর জিহাদ বাতিল হয়ে গেছে। কেননা সেই হাদীসটি খবরে ওয়াহেদ-এর সমপর্যায়।
তাদের দলীল এই যে, শাস্তি নির্ধারণ করা আমলী বা কার্যগত বিষয়, সুতরাং এটা ইলম বা দৃঢ় জ্ঞান লাভ হয় এমন অকাট্য দলীল দ্বারাই সাব্যস্ত হতে হবে। তাছাড়া কোনো কাজের ব্যাপারে যখন সেটার হুকুম ইজতিহাদমূলক হয়, তখন যিনি তা করবেন তার সাথে শাস্তি সম্পৃক্ত হবে না।
সুতরাং তাদের কথানুযায়ী, শাস্তি সম্পর্কীয় হাদীস দ্বারা কাজটি হারাম হওয়ার দলীল হয়। কিন্তু অকাট্য প্রমাণ ছাড়া শাস্তি প্রযোজ্য হয় না।
অনুরূপ আরও একটি উদাহরণ হচ্ছে, আলিমগণ এমন কতকগুলো অপ্রসিদ্ধ কিরায়াত দ্বারা দলীল পেশ করেছেন, যা কোনো কোনো সাহাবী থেকে সহীহ বলে বর্ণিত আছে। অথচ ঐ সব কিরায়াত ওসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক লিপিবদ্ধ কুরআনে নেই। কেননা এসব কিরায়াত আমল ও ইলম শামিল করে, যদিও সেগুলো বিশুদ্ধ খবরে ওয়াহেদ।
আলিমগণ সেগুলো দ্বারা আমল করার জন্য দলীল প্রতিষ্ঠা করেছেন। কিন্তু সেটাকে কুরআনের অংশ হিসেবে গণ্য করেন নি। কেননা কুরআনের অংশ প্রমাণ করা ইলমী তথা দৃঢ়জ্ঞানের বিষয়, যা হতে হলে অকাট্য দলীলের প্রয়োজন [সুতরাং তাদের নিকট এ জাতীয় হাদীস দ্বারা আমল প্রতিষ্ঠা পেলেও তা দ্বারা শাস্তির ধমকিজনিত বিধান প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। [সম্পাদক]]।
এর ওপরই আবু ইসহাক আস সুবাই‘ঈর স্ত্রীর কাছে ‘আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহার কথাকে গণ্য করা হয়েছে। যেখানে তিনি বলেছিলেন,
«َأَبْلِغِي زَيْدًا أَنَّهُ قَدْ أَبْطَلَ جِهَادَهُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَّا أَنْ يَتُوبَ»
“যায়েদ ইবন আরকামকে জানিয়ে দাও যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তার জিহাদের সাওয়াব বাতিল করা হয়েছে, যদি না সে তাওবা করে।” (দারাকুতনী) [দারাকুতনী, আস-সুনান, হাদীস নং ৩০০২।]। [বিস্তারিত ঘটনা এই যে, আবু ইসহাকের স্ত্রী যায়েদ ইবন আরকাম আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিকট বাকীতে আটশত দিরহামের বিনিময়ে একটি গোলাম বিক্রয় করে। তৎপর যায়েদ ইবন আরকাম ঐ গোলামটি বিক্রয় করতে চাইলে আবু ইসহাকের স্ত্রী তাকে ছয়শত দিরহামে ক্রয় করে। এ সংবাদ আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার নিকট পৌঁছেলে তিনি রাগাম্বিত হয়ে বললেন, যায়েদ ইবন আরকামের রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে জিহাদের সওয়াব বাতিল হয়েছে। অবশ্য তাওবা করলে সাওয়াব বাতিল হবে না।]
আলিমগণ বলেন, আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা যায়েদ ইবন আরকাম রাদিয়াল্লাহু আনহুর জিহাদ বাতিল হওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। কেননা তিনি সে সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবহিত ছিলেন। সুতরাং সেই জাতীয় ক্রয়-বিক্রয় হারাম হওয়া সম্পর্কে আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহার হাদীসে আমল করা হবে।’ যদিও আমরা ঐ শাস্তির কথা বলি না যে, যায়েদ ইবন আরকাম রাদিয়াল্লাহু আনহুর জিহাদ বাতিল হয়ে গেছে। কেননা সেই হাদীসটি খবরে ওয়াহেদ-এর সমপর্যায়।
তাদের দলীল এই যে, শাস্তি নির্ধারণ করা আমলী বা কার্যগত বিষয়, সুতরাং এটা ইলম বা দৃঢ় জ্ঞান লাভ হয় এমন অকাট্য দলীল দ্বারাই সাব্যস্ত হতে হবে। তাছাড়া কোনো কাজের ব্যাপারে যখন সেটার হুকুম ইজতিহাদমূলক হয়, তখন যিনি তা করবেন তার সাথে শাস্তি সম্পৃক্ত হবে না।
সুতরাং তাদের কথানুযায়ী, শাস্তি সম্পর্কীয় হাদীস দ্বারা কাজটি হারাম হওয়ার দলীল হয়। কিন্তু অকাট্য প্রমাণ ছাড়া শাস্তি প্রযোজ্য হয় না।
অনুরূপ আরও একটি উদাহরণ হচ্ছে, আলিমগণ এমন কতকগুলো অপ্রসিদ্ধ কিরায়াত দ্বারা দলীল পেশ করেছেন, যা কোনো কোনো সাহাবী থেকে সহীহ বলে বর্ণিত আছে। অথচ ঐ সব কিরায়াত ওসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক লিপিবদ্ধ কুরআনে নেই। কেননা এসব কিরায়াত আমল ও ইলম শামিল করে, যদিও সেগুলো বিশুদ্ধ খবরে ওয়াহেদ।
আলিমগণ সেগুলো দ্বারা আমল করার জন্য দলীল প্রতিষ্ঠা করেছেন। কিন্তু সেটাকে কুরআনের অংশ হিসেবে গণ্য করেন নি। কেননা কুরআনের অংশ প্রমাণ করা ইলমী তথা দৃঢ়জ্ঞানের বিষয়, যা হতে হলে অকাট্য দলীলের প্রয়োজন [সুতরাং তাদের নিকট এ জাতীয় হাদীস দ্বারা আমল প্রতিষ্ঠা পেলেও তা দ্বারা শাস্তির ধমকিজনিত বিধান প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। [সম্পাদক]]।