hadith book logo

রাফ‘উল মালাম সম্মানিত ঈমামগণের সমালোচনার জবাব

লেখকঃ শাইখুল ইসলাম আহমাদ ইবন আবদুল হালীম ইবন তাইমিয়্যাহ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪৬

চতুর্থ জবাব

এর দ্বারা আবশ্যক হয়ে পড়ে যে, ঐ সমস্ত হাদীস দ্বারা দলীল পেশ করা যাবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না জানা যায় যে, ঐ হাদীস উক্ত অবস্থায় দলীল হিসেবে গ্রহণীয় হওয়ার ব্যাপারে উম্মতের ইজমা সংঘটিত হয়েছে।

ফলে প্রথম যুগের লোকদের পক্ষে এ সব হাদীস দ্বারা দলীল পেশ করা বৈধ হয় না; বরং যে সমস্ত সাহাবী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে সে সব হাদীস শ্রবণ করতেন, তারাও তাদের জন্যও তা দ্বারা দলীল পেশ করা বৈধ হয় না। আর যখন কোনো মানুষ এ ধরণের হাদীস শুনে এবং দেখতে পায় যে অনেক আলিম সেটার ওপর আমল করেছে, সেটার বিপরীতে দাঁড়ানোর মত কোনো কিছু জানা না থাকে, তারপরও সেটার ওপর আমল করা তার জন্য অবশ্যম্ভাবী হবে না, যতক্ষণ না খুঁজে দেখবে যে, পৃথিবীর প্রান্তদেশে কেউ এর বিরোধিতা করেছে কি না? যেমনিভাবে ইজমা‘র মাসআলাতেও যতক্ষণ পূর্ণরূপে খুঁজে না দেখবে ততক্ষণ সেটা দ্বারা দলীল গ্রহণ করা যাবে না!

আর যদি উপরোক্ত বিষয়গুলো সঠিক বলে মনে করা হয়, তাহলে তো কোনো একজন মুজতাহিদের পক্ষ থেকে ভিন্নমত পাওয়া গেলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস দ্বারা সে বিষয়ে দলীল গ্রহণ করা বাতিল হয়ে যাবে। এর ফলে কোনো এক ব্যক্তির কথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথাকে বাতিলকারী হয়ে যাবে, আর তার কথার অনুযায়ী হওয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা সত্য হওয়া অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে।

আর সে হিসেবে যদি কোনো একজন ভুল করে, তবে তার ভুল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথাকে বাতিলকারী হয়ে যাবে, এ সবই তো নিঃসন্দেহে বাতিল।

কেননা যদি বলা হয়, “ইজমা” সংঘটিত হবার জ্ঞানা না হলে হাদীস দ্বারা দলীল গ্রহণ করা যাবে না, তা হলে তো হাদীসের চাহিদা ও বিধান বাস্তবায়ণ ‘ইজমা’-এর ওপর নির্ভরশীল বুঝায়। প্রকৃতপক্ষে এইরূপ মনে করা ইজমা’র পরিপন্থী। এমতাবস্থায় হাদীসের কোনো ভাষ্যেরই আর চাহিদা থাকবে না। কেননা সেটা অনুসারে শুধু ‘ইজমা’ই গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়, হাদীসের কোনো প্রভাবই থাকে না।

অতঃপর যদি বলা হয়, সে হাদীস দ্বারা তখনই দলীল নেওয়া যাবে, যখন তার চাহিদার বিপরীত কোনো মত অবগত না হওয়া যায়। তখন বলা হবে যে, এতে করে তো উম্মতের এক ব্যক্তির কথা হাদীসের চাহিদা ও বিধানকে বাতিলকারী হয়ে যাবে।

এরূপ কথাও ‘ইজমার’ পরিপন্থী। এটা যে দীনে ইসলামে বাতিল মত তা অবশ্যম্ভাবীভাবে পরিজ্ঞাত।