hadith book logo

রাফ‘উল মালাম সম্মানিত ঈমামগণের সমালোচনার জবাব

লেখকঃ শাইখুল ইসলাম আহমাদ ইবন আবদুল হালীম ইবন তাইমিয়্যাহ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৪

কতিপয় মাসআলা সম্পর্কিত হাদীস, যা ‘আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু নিকট পৌঁছে নি

১. ‘আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে সরাসরি তাওবার সালাত সংক্রান্ত হাদীসটি পৌঁছে নি:

অনুরূপভাবে ‘আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে যখন কোনো হাদীস শুনতাম, তা দ্বারা আল্লাহ তাঁর ইচ্ছামত আমাকে উপকৃত করতেন। পক্ষান্তরে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড়া অন্য কেউ আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করলে আমি তার নিকট হতে শপথ (Oath) নিতাম। শপথ করার পর আমি তার বর্ণিত হাদীস বিশ্বাস করতাম। আর আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু আমার নিকট তাওবার সালাতের হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি সঠিক বর্ণনা করেছেন। তারপর তিনি (‘আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাওবা সংক্রান্ত সালাতের বিখ্যাত হাদীসটি বর্ণনা করেন [হাদীসটি হচ্ছে, «مَا مِنْ عَبْدٍ يُذْنِبُ ذَنْبًا ثُمَّ يَتَوَضَّأُ وَيُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ يَسْتَغْفِرُ اللَّهَ إِلَّا غَفَرَ لَهُ» ثُمَّ تَلَا هَذِهِ الْآيَةَ : ﴿وَمَن يَعۡمَلۡ سُوٓءًا أَوۡ يَظۡلِمۡ نَفۡسَهُۥ ثُمَّ يَسۡتَغۡفِرِ ٱللَّهَ يَجِدِ ٱللَّهَ غَفُورٗا رَّحِيمٗا ١١٠﴾ [ النساء : ١١٠ ] “যে ব্যক্তি কোনো গুনাহ করে, তারপর ভালোভাবে অযু করে দু’রাকাত সালাত আদায় করে এবং আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে, তখন আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উল্লিখিত আয়াতটি পাঠ করেন যাতে আল্লাহ বলেন, “যারা কোনো অপছন্দীয় এবং গর্হিত কাজ করে অথবা নফসের ওপর অত্যাচার করে, তৎপর আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থী হয়, (তখন আল্লাহ্ তাদেরকে ক্ষমা করে দেন)।” [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১১০] (মুসনাদে আহমদ, আবু দাউদ, তিরমিযী)]।

২. আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু ও গর্ভবর্তী বিধবা স্ত্রী লোকের ইদ্দতকাল সংক্রান্ত হাদীস:

আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু ও ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা, গর্ভবর্তী বিধবা স্ত্রীলোকের, দুই নির্ধারিত ইদ্দত (সন্তান প্রসবের ইদ্দত এবং স্বামীর মৃত্যুর পর দ্বিতীয়বার বিয়ের জন্য যে ইদ্দত) এ মধ্যে দীর্ঘতম যেটি সে ইদ্দত পালন করার ফাতওয়া প্রদান করতেন। সুবাই‘আহ্‌ আল আসলামিয়্যাহ সম্পর্কে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসটি তাদের নিকট পৌঁছে নি। সুবাই‘আহ্‌র গর্ভাবস্থায় তাঁর স্বামী সা‘দ ইবন খাওলার মৃত্যু হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্য ফাতওয়া দিয়েছিলেন যে, “তার ইদ্দতকাল হচ্ছে সন্তান প্রসব হওয়া পর্যন্ত” [এ অর্থে হাদীস দেখুন, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৯০৯, ৫৩১৯, ৫৩২০; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৪৮৫।]।

৩. আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু ও মহর ব্যতিরেকে বিবাহিতা স্ত্রীর মহরের পরিমাণ:

আলী, যায়েদ ইবন সাবেত, ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুম এবং আরও অনেকেই মাহর নির্ধারণ ব্যতিরেকেই বিয়েতে স্ত্রীলোকের স্বামী মৃত্যুবরণ করলে এ ফাতওয়া দিতেন যে, তাঁর মাহর দিতে হবে না। কেননা তাদের নিকট বারওয়া‘ বিনতে ওয়াশেক সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসটি পৌঁছে নি [হাদীসটি বিভিন্ন শব্দে বর্ণিত হয়েছে। দেখুন, তিরমিযী, হাদীস নং ১১৪৫; নাসাঈ, হাদীস নং ৩৩৫৪। উক্ত হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী সে মহিলার মাহর হবে তার সমগোত্রীয়দের মাহরের অনুরূপ (মাহরে মাসাল)।]।

এ এক বিরাট অধ্যায়। সাহাবীগণ থেকে বর্ণিত এরূপ ঘটনার সংখ্যা অগণিত। কিন্তু সাহাবীগণ ব্যতীত অন্যান্যদের থেকে বর্ণিত সংখ্যাও হাজার হাজার, যার সংখ্যা নিরূপণ করা সম্ভব নয়।

উল্লিখিত সাহাবীগণ উম্মতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অভিজ্ঞ-ফকীহ, বৃদ্ধিমান জ্ঞানী, তাকওয়াবান ও উৎকৃষ্ট। তাদের পরবর্তীগণ এ সকল গুণাবলী হতে আনুপাতিক হারে অপূর্ণ। সুতরাং তাদের নিকট রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো কোনো হাদীস অজানা বা অস্পষ্ট থাকা কিছুমাত্র বিচিত্র নয় এবং এ ব্যাপারে বিস্তারিত বর্ণনার প্রয়োজন নেই।