hadith book logo

রাফ‘উল মালাম সম্মানিত ঈমামগণের সমালোচনার জবাব

লেখকঃ শাইখুল ইসলাম আহমাদ ইবন আবদুল হালীম ইবন তাইমিয়্যাহ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৭

হাদীসের ওপর আমল না করার আরও একটি কারণ

কখনও কখনও আলিমগণের মধ্যে এজন্য মতবিরোধ দেখা যায় যে, এ হাদীসটির দালালাত বা চাহিদা কাত‘ঈ তথা অকাট্য ও অনিবার্য হওয়ার ইঙ্গিত বহন করে কিনা? কারণ হাদীসটি কি ‘নস’ [হাদিসটি কী এ অর্থে ব্যবহারের জন্যই আনা হয়েছে? ফলে সেটি ‘নস’ হিসে বিবেচিত হবে, নাকি সেটি এ অর্থও হতে পারে, আবার ব্যাখ্যা করে সেটির অন্য অর্থও করা যায়? ফলে সেটি ‘যাহের’ হিসেবে বিবেচিত হবে? [সম্পাদক]], নাকি ‘যাহের’ [অর্থাৎ যার অর্থ প্রকাশ্য, কিন্তু তাতে ব্যাখ্যা করে অন্য অর্থ নেওয়ার সম্ভাবনা আছে। [সম্পাদক]]?

আর যদি সেটি ‘যাহের’ হয়, তখন সেখানে কি এমন কিছু পাওয়া যায় যা অপ্রাধান্যপ্রাপ্ত অর্থ নেওয়া থেকে বিরত রাখবে? না কি এমন কিছু নেই? বস্তুতঃ এটি একটি বিশাল অধ্যায়।

একদল আলিম কোনো কোনো হাদীসের অর্থ ও চাহিদাকে কাত‘ঈ বা অকাট্য হিসেবে গ্রহণ করে, অথচ অন্যরা সে অর্থ ও চাহিদাকে অকাট্য হিসেবে নেয় না। যারা সে অর্থ বা চাহিদাকে অকাট্য হিসেবে গ্রহণ করেন, তাদের মতে এ হাদীসটি শুধু এই নির্দিষ্ট অর্থই বহন করে, অন্য অর্থের অবকাশ রাখে না। অথবা তারা জানে যে, এ হাদীসটিকে অন্য অর্থে নেওয়ার ব্যাপারে বাধা রয়েছে। অথবা অন্য কোনো কারণ থাকবে যা তাদেরকে বাধ্য করছে এটা বলতে যে, এ হাদীসটির একটি অর্থ গ্রহণই অকাট্যভাবে নির্ধারিত [সুতরাং তারা যে অর্থ গ্রহণ করেছে, সে অর্থ অকাট্য হিসেবেই নিয়েছে এবং হাদীসের উপর আমল করেছে। অথচ অন্য আলেমগণের নিকট এ সকল কারণ স্পষ্ট না হওয়ার তারা সে হাদীসের অর্থ সম্পর্কে অকাট্য কোনো সিদ্ধান্ত দেয় নি। ফলে তারা সেটার উপর আমল করে নি। বা আমল করার ব্যাপারে ভিন্ন ব্যাখ্যার অবকাশ রয়েছে বলে মনে করে নিয়েছে। [সম্পাদক]]।

আর দ্বিতীয় প্রকার হাদীস অর্থাৎ যেখানে হাদীসটির ‘দালালাত’ বা চাহিদা (অকাট্য না হয়ে) ‘যাহের [যাহের এর সংজ্ঞায় আমরা আগেই বলেছি যে, তা দ্বারা শুধু একটি অর্থের সম্ভাবনা থাকে না, বরং সেটিতে ব্যাখ্যা করে অন্য অর্থ নেওয়ার অবকাশ রয়েছে। [সম্পাদক]]’ হবে। শরী‘আতী আহকাম তথা বিধি-বিধানে এ প্রকার হাদীসের ওপর আমল করা গ্রহণযোগ্য সকল আলিমের মতে ওয়াজিব [লক্ষ্য করুন, পূর্বোক্ত প্রথম প্রকার হাদীস ছিল, ‘নস’। যাতে অকাট্য ইলম হিসেবে গ্রহণ ও তার চাহিদা অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব হওয়ার কথা বলা হয়েছিল। আর বর্তমান দ্বিতীয় প্রকার হাদীস হচ্ছে, ‘যাহের’। যাতে অকাট্য ইলম অর্জনের কথা নেই, তবে তার চাহিদা অনুসারে আমল করা ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি যে গ্রহণযোগ্য আলেমদের মত সেটা বর্ণিত হয়েছে। [সম্পাদক]]।