১
রাফ‘উল মালাম সম্মানিত ঈমামগণের সমালোচনার জবাব
লেখকঃ শাইখুল ইসলাম আহমাদ ইবন আবদুল হালীম ইবন তাইমিয়্যাহ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪৪
দ্বিতীয় জবাব
কোনো কাজের হুকুম বা বিধান ইজমা‘ তথা ঐকমত্যের মাধ্যমে সাব্যস্ত হওয়া অথবা মতবিরোধপূর্ণ হওয়া সে কাজের সত্বা ও গুণের বাইরের বিষয়। বরং সেটা আপেক্ষিক বিষয়। তা কিছু সংখ্যক আলিমের (বিপরীত মত) জানা ও না জানার ওপর নির্ভর করে বলা হয়ে থাকে।
আর যখন কোনো ( عام ) ব্যাপক অর্থবোধক শব্দকে বিশেষ অর্থে ব্যবহার করা হবে, তখন তার (সে ব্যবহারের) জন্য দলীলের উপস্থিতির প্রয়োজন, যাতে বুঝা যায় যে, ঐ শব্দটি নির্দিষ্ট বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। আর সে দলীল দু’ প্রকারে থাকতে পারে:
১. বিশেষ অর্থে নির্দিষ্টকারী এই দলীলটি সাধারণ শব্দের সাথেই সম্পৃক্ত থাকবে। একথা ঐসব লোকদের, যাদের মতে (কোনো বিষয়ের নির্দেশ থাকলে, সেটির বর্ণনাও থাকতে হবে) বর্ণনার ক্ষেত্রে বিলম্ব করা জায়েয নেই। (তাদের মতে শব্দের সাথে সাথে তার ব্যাখ্যাও থাকবে। সুতরাং ( عام ) ব্যাপক অর্থবোধক শব্দটির সাথেই এমন কিছু থাকতে হবে, যা প্রমাণ করবে যে শব্দটি এখানে ( عام ) ব্যাপক অর্থবোধক না হয়ে বিশেষ নির্দিষ্ট অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।)
২. অথবা ঐ ( عام ) ব্যাপক অর্থবোধক শব্দটির ব্যাখ্যা স্থান বিশেষে প্রয়োজনের আগ পর্যন্ত বিলম্ব করে করা হয়ে থাকবে। যা অধিকাংশ আলিমের মত [অর্থাৎ ( عام ) ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ ( تخصيص ) বা বিশেষ অর্থে ব্যবহারের বিষয়ে আলিমগণের মধ্যে দু’টি মত পরিলক্ষিত হয়। কারও কারও মতে, সেটি দেরী না করে শব্দের সাথেই আসতে হবে, তবে অধিকাংশ আলেমগণের মতে, তার ওপর আমল করার সময় পর্যন্ত দেরী করে আসলেও কোনো সমস্যা নেই। [সম্পাদক]]।
আর এটা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, যে সকল স্থানে কোনো কাজ করার ওপর শাস্তির ধমকি (নিন্দা কিংবা লা‘নত অথবা শাস্তির কথা) এসেছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময় ঐ গুলো দ্বারা যাদের উদ্দেশ্য করা হয়েছিল, তারা ঐ শব্দগুলোর মুখ্য উদ্দেশ্য ব নির্দেশনা জানতে উন্মুখ ছিলেন। এমতাবস্থায় যদি সুদখোর ও মুহাল্লিল [অন্যের জন্য কোনো স্ত্রী হালাল করার নিয়তে বিয়ে করা।] ও অনুরূপ স্থানে যেখানে লা‘নত এসেছে এবং যা হারাম হওয়ার ওপর ইজমা‘ অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেগুলোর বর্ণনায় ব্যবহৃত সেই ( عام ) ব্যাপক শব্দগুলোর উদ্দেশ্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যু এবং মুসলিমগণ কর্তৃক সেই ( عام ) ব্যাপক শব্দগুলোর সর্ব দিক সম্পর্কে মত প্রকাশ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়, তাহলে তো সেটার বর্ণনা যেন উম্মতের সকলে মত প্রকাশ করা পর্যন্ত দেরী করা আবশ্যক হয়ে পড়ে, যা কোনো অবস্থাতেই জায়েয নয় [কারণ, এতে করে সকল ( عام ) ব্যাপক শব্দের উপর আমল করা দুরূহ হয়ে পড়বে। যখনি আমল করার কথা বলবেন, বা সেখানে আগত কোনো ধমকি কার্যকর হওয়ার কথা বলবেন, তখনি হয়ত বলা হবে যে এ ব্যাপারে উম্মতের লোকদের কথা ও মত সম্পর্কে না জেনে নেওয়া হোক, তারপর কি করা যাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ ধরণের কথা বলা হলে কোনো ( عام ) ব্যাপক শব্দের উপরই আমল করা যাবে না। যা কখনও বৈধ হতে পারে না; বরং যখনই কোনো ( عام ) শব্দ আসবে, তখনি তা মৌলিকভাবে আমলের দাবী রাখে। [সম্পাদক]]।
আর যখন কোনো ( عام ) ব্যাপক অর্থবোধক শব্দকে বিশেষ অর্থে ব্যবহার করা হবে, তখন তার (সে ব্যবহারের) জন্য দলীলের উপস্থিতির প্রয়োজন, যাতে বুঝা যায় যে, ঐ শব্দটি নির্দিষ্ট বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। আর সে দলীল দু’ প্রকারে থাকতে পারে:
১. বিশেষ অর্থে নির্দিষ্টকারী এই দলীলটি সাধারণ শব্দের সাথেই সম্পৃক্ত থাকবে। একথা ঐসব লোকদের, যাদের মতে (কোনো বিষয়ের নির্দেশ থাকলে, সেটির বর্ণনাও থাকতে হবে) বর্ণনার ক্ষেত্রে বিলম্ব করা জায়েয নেই। (তাদের মতে শব্দের সাথে সাথে তার ব্যাখ্যাও থাকবে। সুতরাং ( عام ) ব্যাপক অর্থবোধক শব্দটির সাথেই এমন কিছু থাকতে হবে, যা প্রমাণ করবে যে শব্দটি এখানে ( عام ) ব্যাপক অর্থবোধক না হয়ে বিশেষ নির্দিষ্ট অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।)
২. অথবা ঐ ( عام ) ব্যাপক অর্থবোধক শব্দটির ব্যাখ্যা স্থান বিশেষে প্রয়োজনের আগ পর্যন্ত বিলম্ব করে করা হয়ে থাকবে। যা অধিকাংশ আলিমের মত [অর্থাৎ ( عام ) ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ ( تخصيص ) বা বিশেষ অর্থে ব্যবহারের বিষয়ে আলিমগণের মধ্যে দু’টি মত পরিলক্ষিত হয়। কারও কারও মতে, সেটি দেরী না করে শব্দের সাথেই আসতে হবে, তবে অধিকাংশ আলেমগণের মতে, তার ওপর আমল করার সময় পর্যন্ত দেরী করে আসলেও কোনো সমস্যা নেই। [সম্পাদক]]।
আর এটা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, যে সকল স্থানে কোনো কাজ করার ওপর শাস্তির ধমকি (নিন্দা কিংবা লা‘নত অথবা শাস্তির কথা) এসেছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময় ঐ গুলো দ্বারা যাদের উদ্দেশ্য করা হয়েছিল, তারা ঐ শব্দগুলোর মুখ্য উদ্দেশ্য ব নির্দেশনা জানতে উন্মুখ ছিলেন। এমতাবস্থায় যদি সুদখোর ও মুহাল্লিল [অন্যের জন্য কোনো স্ত্রী হালাল করার নিয়তে বিয়ে করা।] ও অনুরূপ স্থানে যেখানে লা‘নত এসেছে এবং যা হারাম হওয়ার ওপর ইজমা‘ অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেগুলোর বর্ণনায় ব্যবহৃত সেই ( عام ) ব্যাপক শব্দগুলোর উদ্দেশ্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যু এবং মুসলিমগণ কর্তৃক সেই ( عام ) ব্যাপক শব্দগুলোর সর্ব দিক সম্পর্কে মত প্রকাশ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়, তাহলে তো সেটার বর্ণনা যেন উম্মতের সকলে মত প্রকাশ করা পর্যন্ত দেরী করা আবশ্যক হয়ে পড়ে, যা কোনো অবস্থাতেই জায়েয নয় [কারণ, এতে করে সকল ( عام ) ব্যাপক শব্দের উপর আমল করা দুরূহ হয়ে পড়বে। যখনি আমল করার কথা বলবেন, বা সেখানে আগত কোনো ধমকি কার্যকর হওয়ার কথা বলবেন, তখনি হয়ত বলা হবে যে এ ব্যাপারে উম্মতের লোকদের কথা ও মত সম্পর্কে না জেনে নেওয়া হোক, তারপর কি করা যাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ ধরণের কথা বলা হলে কোনো ( عام ) ব্যাপক শব্দের উপরই আমল করা যাবে না। যা কখনও বৈধ হতে পারে না; বরং যখনই কোনো ( عام ) শব্দ আসবে, তখনি তা মৌলিকভাবে আমলের দাবী রাখে। [সম্পাদক]]।