১
রাফ‘উল মালাম সম্মানিত ঈমামগণের সমালোচনার জবাব
লেখকঃ শাইখুল ইসলাম আহমাদ ইবন আবদুল হালীম ইবন তাইমিয়্যাহ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫৫
দশম জবাবের ওপর একটি প্রশ্ন
প্রশ্ন: আর সেটি হচ্ছে, প্রশ্নকারী এটা বলতে পারে, আমি মেনে নিচ্ছি যে, মুজতাহিদগণের কেউ কেউ বিরোধপূর্ণ মাসআলায় লিপ্ত ব্যক্তিকেও শাস্তির উপযোগী বলে মনে করেন এবং সে বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে মতভেদপূর্ণ স্থানেও শাস্তির ধমকির বিষয়টিকে নিয়ে আসেন। ফলে তিনি উদাহরণতঃ যে এ কাজ করবে, তাকে লা‘নত করে থাকেন। তবে তিনি তার এ বিশ্বাসে এমন ভুলের ওপর রয়েছেন; যে ভুলের ওযর রয়েছে এবং তার জন্য তিনি সাওয়াবওপ্রাপ্ত হবেন। সুতরাং তিনি না হক কাউকে লা‘নত করার কারণে যে শাস্তির সম্মুখীন হতে হয়, সে শাস্তির আওতামুক্ত থাকবেন। কারণ, আমার (প্রশ্নকারীর) নিকট না হক কাউকে লা‘নত করার কারণে শাস্তির ধমকির আওতাভুক্ত হওয়ার বিষয়টি তখনই আসবে যখন এমন কাউকে লা‘নত করবে যাকে লা‘নত করা সর্বসম্মতভাব হারাম। সে হিসেবে যে ব্যক্তি, সর্বসম্মতভাবে লা‘নত করা হারাম, এমন কাউকে লা‘নত করবে, তাকেই লা‘নতের কারণে বর্ণিত সে শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।
আর যখন লা‘নত বা অভিশাপের বিষয়টিও মতবিরোধপূর্ণ; সেহেতু সে স্থানটিও শাস্তির ধমকিযুক্ত হাদীসের আওতাভুক্ত হবে না, যেমনিভাবে সে ব্যক্তি শাস্তির ধমকিযুক্ত হাদীসের আওতাভুক্ত নয় যে ব্যক্তি এমন কাজ করবে যার হালাল হওয়া ও সেটা সম্পাদনকারীর প্রতি লা‘নতের বিষয়টি মতভেদপূর্ণ।
সুতরাং যেভাবে প্রথম শাস্তির ধমকি থেকে মতভেদপূর্ণ স্থানকে বের করেছি, তেমনিভাবে দ্বিতীয় শাস্তির ধমকি থেকেও মতভেদপূর্ণ স্থানকে বের করে নেব। আর আমি বিশ্বাস করব যে, শাস্তির ধমকিযুক্ত হাদীসসমূহ দু’ দিকেই মতভেদপূর্ণ স্থানকে শামিল করে না। যে কাজটি জায়েয করার বিষয়েও নয়; আবার সে কাজ সম্পাদনকারীকে লা‘নতের বিষয়েও নয়; চাই সে এ কাজটি জায়েয বলে বিশ্বাস করুক বা না-ই করুক।
সুতরাং আমি (প্রশ্নকারী) দু’ অবস্থাতেই সেটা সম্পাদনকারীকে লা‘নত করা জায়েয মনে করি না। অনুরূপভাবে যে সে কাজ করবে তাকে যে লা‘নত করবে সে লা‘নতকারীকে লা‘নত করাও আমি বৈধ মনে করি না। (নিষিদ্ধ) কাজটির সম্পাদনকারী এবং তার জন্য অভিশাপকারী, তাদের কাউকেই আমি শাস্তির ধমকিযুক্ত হাদীসের আওতাভুক্ত বলে বিশ্বাস করি না। আর আমি অভিশাপদানকারীর সাথে সে ব্যক্তির মত কঠোরতা করি না যে ব্যক্তি তাকে মনে করে যে সে শাস্তির ধমকির মুখোমুখি হয়েছে। বরং মতভেদপূর্ণ (লা‘নতের বা শাস্তির ধমকি এসেছে এমন) কাজ করার কারণে কাউকে লা‘নত করা আমার নিকট ইজতেহাদী মাসআলার অন্তর্ভুক্ত। আর আমি মনে করি যে সে ভুলে লিপ্ত আছে, যেমনিভাবে আমি কাজটিকে মোবাহ (হালাল) বিশ্বাসকারীকেও ভুলের ওপর আছে বলে বিশ্বাস করি। কারণ; মতভেদপূর্ণ স্থানে তিনটি মত রয়েছে:
১. কাজটি জায়েয বা বৈধ হওয়ার মত পোষণ করা।
২. কাজটি হারাম এবং তার আমলকারী শাস্তির সম্মুখীন হবে বলে মত দেওয়া।
৩. কাজটি হারাম, কিন্তু আমলকারীর ওপর এই ভীষণ শাস্তি প্রযোজ্য হবে না বলে মত প্রকাশ করা।
আমি এই তৃতীয় মতটিই গ্রহণ করি। কেননা কাজটি হারাম বলে যেমন দলীল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তেমনিভাবে মতভেদপূর্ণ স্থানে কর্ম সম্পাদনকারীকে লা‘নত করাও হারাম সাব্যস্ত হয়েছে। এতদসত্ত্বেও আমার দৃঢ় বিশ্বাস এই যে, ঐ সব কাজের আমলকারী এবং আমলকারীকে অভিশাপকারীর শাস্তির ধমকি সম্বলিত যে হাদীস উল্লেখ করা হয়েছে তা উপরোক্ত দু’টি অবস্থাকে শামিল করে না।
আর যখন লা‘নত বা অভিশাপের বিষয়টিও মতবিরোধপূর্ণ; সেহেতু সে স্থানটিও শাস্তির ধমকিযুক্ত হাদীসের আওতাভুক্ত হবে না, যেমনিভাবে সে ব্যক্তি শাস্তির ধমকিযুক্ত হাদীসের আওতাভুক্ত নয় যে ব্যক্তি এমন কাজ করবে যার হালাল হওয়া ও সেটা সম্পাদনকারীর প্রতি লা‘নতের বিষয়টি মতভেদপূর্ণ।
সুতরাং যেভাবে প্রথম শাস্তির ধমকি থেকে মতভেদপূর্ণ স্থানকে বের করেছি, তেমনিভাবে দ্বিতীয় শাস্তির ধমকি থেকেও মতভেদপূর্ণ স্থানকে বের করে নেব। আর আমি বিশ্বাস করব যে, শাস্তির ধমকিযুক্ত হাদীসসমূহ দু’ দিকেই মতভেদপূর্ণ স্থানকে শামিল করে না। যে কাজটি জায়েয করার বিষয়েও নয়; আবার সে কাজ সম্পাদনকারীকে লা‘নতের বিষয়েও নয়; চাই সে এ কাজটি জায়েয বলে বিশ্বাস করুক বা না-ই করুক।
সুতরাং আমি (প্রশ্নকারী) দু’ অবস্থাতেই সেটা সম্পাদনকারীকে লা‘নত করা জায়েয মনে করি না। অনুরূপভাবে যে সে কাজ করবে তাকে যে লা‘নত করবে সে লা‘নতকারীকে লা‘নত করাও আমি বৈধ মনে করি না। (নিষিদ্ধ) কাজটির সম্পাদনকারী এবং তার জন্য অভিশাপকারী, তাদের কাউকেই আমি শাস্তির ধমকিযুক্ত হাদীসের আওতাভুক্ত বলে বিশ্বাস করি না। আর আমি অভিশাপদানকারীর সাথে সে ব্যক্তির মত কঠোরতা করি না যে ব্যক্তি তাকে মনে করে যে সে শাস্তির ধমকির মুখোমুখি হয়েছে। বরং মতভেদপূর্ণ (লা‘নতের বা শাস্তির ধমকি এসেছে এমন) কাজ করার কারণে কাউকে লা‘নত করা আমার নিকট ইজতেহাদী মাসআলার অন্তর্ভুক্ত। আর আমি মনে করি যে সে ভুলে লিপ্ত আছে, যেমনিভাবে আমি কাজটিকে মোবাহ (হালাল) বিশ্বাসকারীকেও ভুলের ওপর আছে বলে বিশ্বাস করি। কারণ; মতভেদপূর্ণ স্থানে তিনটি মত রয়েছে:
১. কাজটি জায়েয বা বৈধ হওয়ার মত পোষণ করা।
২. কাজটি হারাম এবং তার আমলকারী শাস্তির সম্মুখীন হবে বলে মত দেওয়া।
৩. কাজটি হারাম, কিন্তু আমলকারীর ওপর এই ভীষণ শাস্তি প্রযোজ্য হবে না বলে মত প্রকাশ করা।
আমি এই তৃতীয় মতটিই গ্রহণ করি। কেননা কাজটি হারাম বলে যেমন দলীল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তেমনিভাবে মতভেদপূর্ণ স্থানে কর্ম সম্পাদনকারীকে লা‘নত করাও হারাম সাব্যস্ত হয়েছে। এতদসত্ত্বেও আমার দৃঢ় বিশ্বাস এই যে, ঐ সব কাজের আমলকারী এবং আমলকারীকে অভিশাপকারীর শাস্তির ধমকি সম্বলিত যে হাদীস উল্লেখ করা হয়েছে তা উপরোক্ত দু’টি অবস্থাকে শামিল করে না।