১
সালাতে সূরা ফাতিহা পাঠের পদ্ধতি নিয়ে বিতর্কের সমাধান
লেখকঃ আশরাফুল ইসলাম • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৯
সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন আমর (রা)-এর হাদীস
আবু আব্দিল্লাহ আব্দুর রাজ্জাক - ৫: (পৃ.৪)
قد ذكر البيهقي في أقاويل الصحابة بإسناده عن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده أنهم كانوا يقرؤن خلف رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا أنصت ، فإذا قرأ لم يقرءوا وإذا أنصت قرؤوا وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول : كل صلاة لا يقرأ فيها بأم القرآن فهي خداج .
(২) আবু আব্দুল্লাহ আল... আবূ মূ’আবিয়াহ, ইবনু উমার, আমর ইবনু শু’আয়িব নিজের পিতা থেকে তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তারা অর্থাৎ সাহাবীগণ (রা) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পিছনে তখন কিরাআত করতেন যখন তিনি চুপ থাকতেন। আর যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিরাআত করতেন তখন তারা কিছুই পড়তেন না। অতঃপর যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চুপ থাকতেন তখন তারা কিরাআত করতেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন (এমন) সকল সালাত যার মধ্যে সূরা ফাতিহা পড়া হয় না তা অসম্পূর্ণ।” (বায়হাকী কিতাবুল কিরাআত)
তদনুযায়ী তারা ও তাদের শুভানুধ্যায়ীগণ আমল শুরু করে দিয়েছে এবং এর স্বপক্ষে প্রচারণায় লিপ্ত রয়েছে। ফলশ্রুতিতে মুসলিম সমাজে দেখা দিয়েছে বিতর্ক।
পর্যালোচনা - ৫: মূলত ‘পর্যালোচনা-৩’-এ উল্লিখিত সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে আমরের হাদীসটিকে মূল ধরে এই হাদীসটিকে সাক্ষ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। মূল হাদীসটি দ্বারা সাকতাতে সূরা ফাতিহা পাঠের যাঁরা দলিল নিয়েছেন, তাঁদের কয়েকজন হলেন:
ক) ইমাম বায়হাক্বী তাঁর ‘কিতাবুল ক্বিরাআতে’।
খ) পাকিস্তানী আহলেহাদীস রিজালশাস্ত্রবীদ শায়খ যুবায়ের আলী যাঈ (রহ) তাঁর ‘মাসআলাহ ফাতিহা খলফাল ইমাম’ (পৃ. ৬৭)-এ হাদীসটি উল্লেখ করে সমস্ত বর্ণনাকারীদেরকে সিক্বাহ তথা হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
গ) পাকিস্তানের অপর রিজালশাস্ত্রবীদ শায়খ ইরশাদুল হক্ব আসারি (হাফি) তাঁর ১০৩২ পৃষ্ঠার কিতাব ‘তাওযিহুল কালাম ফি উজুবিল ক্বিরাআত খলফাল ইমাম’-এর ৫৭৩-৯৬ পৃষ্ঠাতে। তিনি হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। তা ছাড়া হাদীসটির ব্যাপারে আপত্তির জবাবগুলোও সুন্দরভাবে খণ্ডন করেছেন।
ঘ) অপর একজন মুহাদ্দিস ইয়াহইয়া গোন্ধালাভি (রহ) তাঁর ‘খয়রুল কালাম ফি উজুবিল ফাতিহাহ খলফাল ইমাম’-এ (পৃ. ৮৮-৯১)। তিনি হাদীসটির উপর হানাফিদের অভিযোগ খণ্ডন করেছেন। (পৃ. ৮৮)।
বুঝা যাচ্ছে, উক্ত হাদীসগুলোকে সাকতাতে সূরা ফাতিহা পাঠের সমর্থনে দলিল উপস্থাপন ‘আহলেহাদীস’ মুহাদ্দিসগণ কর্তৃক স্বীকৃত। পক্ষান্তরে বাংলাদেশে আহলেহাদীসদের যাত্রাবাড়ীতে অবস্থিত মাদরাসা মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়ার অধ্যক্ষের অভিমতসহ আলোচ্য পুস্তিকাটির লেখক মাসআলাটির প্রতি আমলকারীদের প্রতি ব্যঙ্গ করে লিখেছেন (পৃ. ৩): ‘‘অতি সম্প্রতি সুন্নাতে নববীর অনুসারী আলেমগণের মধ্যে অধিকতর হকপন্থী দাবিদার ...।’’
প্রকৃতপক্ষে মাসআলাটির সাথে কুরআন, সহীহ হাদীস, সাহাবীদের আমল ও উক্তি, তাবেঈদের উক্তি ও আমল এবং ইমাম বুখারী (রহ), ইমাম বায়হাক্বী (রহ)-সহ জুমহুর মুহাদ্দিসগণের সিদ্ধান্ত জড়িত। যাকে পুস্তিকাটির লেখক মুসলিম সমাজে সৃষ্ট বিতর্ক বলে উল্লেখ করেছেন।
قد ذكر البيهقي في أقاويل الصحابة بإسناده عن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده أنهم كانوا يقرؤن خلف رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا أنصت ، فإذا قرأ لم يقرءوا وإذا أنصت قرؤوا وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول : كل صلاة لا يقرأ فيها بأم القرآن فهي خداج .
(২) আবু আব্দুল্লাহ আল... আবূ মূ’আবিয়াহ, ইবনু উমার, আমর ইবনু শু’আয়িব নিজের পিতা থেকে তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তারা অর্থাৎ সাহাবীগণ (রা) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পিছনে তখন কিরাআত করতেন যখন তিনি চুপ থাকতেন। আর যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিরাআত করতেন তখন তারা কিছুই পড়তেন না। অতঃপর যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চুপ থাকতেন তখন তারা কিরাআত করতেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন (এমন) সকল সালাত যার মধ্যে সূরা ফাতিহা পড়া হয় না তা অসম্পূর্ণ।” (বায়হাকী কিতাবুল কিরাআত)
তদনুযায়ী তারা ও তাদের শুভানুধ্যায়ীগণ আমল শুরু করে দিয়েছে এবং এর স্বপক্ষে প্রচারণায় লিপ্ত রয়েছে। ফলশ্রুতিতে মুসলিম সমাজে দেখা দিয়েছে বিতর্ক।
পর্যালোচনা - ৫: মূলত ‘পর্যালোচনা-৩’-এ উল্লিখিত সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে আমরের হাদীসটিকে মূল ধরে এই হাদীসটিকে সাক্ষ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। মূল হাদীসটি দ্বারা সাকতাতে সূরা ফাতিহা পাঠের যাঁরা দলিল নিয়েছেন, তাঁদের কয়েকজন হলেন:
ক) ইমাম বায়হাক্বী তাঁর ‘কিতাবুল ক্বিরাআতে’।
খ) পাকিস্তানী আহলেহাদীস রিজালশাস্ত্রবীদ শায়খ যুবায়ের আলী যাঈ (রহ) তাঁর ‘মাসআলাহ ফাতিহা খলফাল ইমাম’ (পৃ. ৬৭)-এ হাদীসটি উল্লেখ করে সমস্ত বর্ণনাকারীদেরকে সিক্বাহ তথা হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
গ) পাকিস্তানের অপর রিজালশাস্ত্রবীদ শায়খ ইরশাদুল হক্ব আসারি (হাফি) তাঁর ১০৩২ পৃষ্ঠার কিতাব ‘তাওযিহুল কালাম ফি উজুবিল ক্বিরাআত খলফাল ইমাম’-এর ৫৭৩-৯৬ পৃষ্ঠাতে। তিনি হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। তা ছাড়া হাদীসটির ব্যাপারে আপত্তির জবাবগুলোও সুন্দরভাবে খণ্ডন করেছেন।
ঘ) অপর একজন মুহাদ্দিস ইয়াহইয়া গোন্ধালাভি (রহ) তাঁর ‘খয়রুল কালাম ফি উজুবিল ফাতিহাহ খলফাল ইমাম’-এ (পৃ. ৮৮-৯১)। তিনি হাদীসটির উপর হানাফিদের অভিযোগ খণ্ডন করেছেন। (পৃ. ৮৮)।
বুঝা যাচ্ছে, উক্ত হাদীসগুলোকে সাকতাতে সূরা ফাতিহা পাঠের সমর্থনে দলিল উপস্থাপন ‘আহলেহাদীস’ মুহাদ্দিসগণ কর্তৃক স্বীকৃত। পক্ষান্তরে বাংলাদেশে আহলেহাদীসদের যাত্রাবাড়ীতে অবস্থিত মাদরাসা মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়ার অধ্যক্ষের অভিমতসহ আলোচ্য পুস্তিকাটির লেখক মাসআলাটির প্রতি আমলকারীদের প্রতি ব্যঙ্গ করে লিখেছেন (পৃ. ৩): ‘‘অতি সম্প্রতি সুন্নাতে নববীর অনুসারী আলেমগণের মধ্যে অধিকতর হকপন্থী দাবিদার ...।’’
প্রকৃতপক্ষে মাসআলাটির সাথে কুরআন, সহীহ হাদীস, সাহাবীদের আমল ও উক্তি, তাবেঈদের উক্তি ও আমল এবং ইমাম বুখারী (রহ), ইমাম বায়হাক্বী (রহ)-সহ জুমহুর মুহাদ্দিসগণের সিদ্ধান্ত জড়িত। যাকে পুস্তিকাটির লেখক মুসলিম সমাজে সৃষ্ট বিতর্ক বলে উল্লেখ করেছেন।