১
সালাতে সূরা ফাতিহা পাঠের পদ্ধতি নিয়ে বিতর্কের সমাধান
লেখকঃ আশরাফুল ইসলাম • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২০
মতপার্থক্য নিরসণে নীতিমালা
আবু আব্দিল্লাহ আব্দুর রাজ্জাক - ৬: (পৃ. ৪)
যেহেতু শরীয়তের নির্দেশনা অনুযায়ী এ বিতর্কের অবসান হওয়া অত্যন্ত জরুরি, সেহেতু আমার মতে এ বিতর্ক অবসানকল্পে প্রত্যেক মুসলিম ব্যক্তির অপরিহার্য কর্তব্য হচ্ছে এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা বলেছেন এবং সাহাবীগণ (রা) যা করেছেন তা অনুধাবন করা ।
পর্যালোচনা - ৬: মতপার্থক্য নিরসণে আমাদের আক্বীদা নিম্নরূপ:
ক) কুরআন ও সহীহ হাদীস পরস্পরের বিরোধী নয়: কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন:
اَفَلاَ يَتَدَبَّرُوْنَ الْقُرْانَ ط وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللهِ لَوَجَدُوْا فِيْه اخْتِلاَفًا كَثِيْرًا
‘‘তারা কি কুরআন নিয়ে চিন্তাভাবনা করে না? এটা যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে নাযিল হত, তাহলে অবশ্যই এতে বৈপরীত্য (ইখতিলাফ) দেখতে পেতো।’’ [সূরা নিসা, ৮২ আয়াত]
খ) কিতাবের কিছু অংশ মানা ও কিছু অংশ না মানা কুফর: এ মর্মে আল্লাহ তাআলা বলেন:
أَفَتُؤْمِنُونَ بِبَعْضِ الْكِتَابِ وَتَكْفُرُونَ بِبَعْضٍ
‘‘তোমরা কি কিতাবে কিছু অংশ বিশ্বাস করো আর কিছু অংশের প্রতি কুফরি করো।’’ [সূরা বাক্বারাহ: ৮৫ আয়াত]
গ) মতপার্থক্য নিরসণে আয়াত ও হাদীসকে পারস্পরিক বিরোধ দুর করা জরুরি। সমাধানকল্পে বিজ্ঞদের স্মরণাপন্ন হতে হবে। এ মর্মে নিচের হাদীসটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য:
‘আমর ইবনে শুআয়িব তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন:
سَمِعَ النَّبِيُّ قَوْمًا يَّتَدَارَؤُنَ فِي الْقُرْانِ فَقَالَ اِنَّمَا هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ بِهذَا ضَرَبُوْا كِتَابَ اللهِ بَعْضَه ও بِبَعْضٍ وَّ انَّمَا نَزَلَ كِتَابُ اللهِ يُصَدِّقُ بَعْضُه ও بَعْضًا فَلاَ تُكَذِّبُوْا بَعْضَه ও بِبَعْضٍ فَمَا عَلِمْتُمْ مِّنْهُ فَقُوْلُوْا وَمَا جَهِلْتُمْ فَكِلُوْهُ اِلي عَالِمِه
‘‘নবী (স) একদল লোককে কুরআনের বিষয়ে বিতর্ক করতে শুনলেন। তখন তিনি বললেন: তোমাদের পূর্বে যারা ছিল তারা এ কারণেই হালাক (ধ্বংস) হয়েছে। তারা আল্লাহর কিতাবের একঅংশকে অপরঅংশ দ্বারা বাতিল করার চেষ্টা করেছিল। অথচ কিতাবুল্লাহ নাযিল হয়েছে এর একঅংশ অপরঅংশের সমর্থক হিসাবে। সুতরাং তোমরা এর একঅংশকে অপরঅংশ দ্বারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করবে না। বরং যা তোমরা জান কেবল তা-ই বলবে। আর যা জান না তা যে জানে তার কাছে সোপর্দ করবে।’’ [. হাসান: আহমাদ, মিশকাত [ঢাকা: এমদাদিয়া লাইব্রেরী] ২য় খণ্ড হা/২২১। নাসিরুদ্দীন আলবানী হাদীসটিকে ‘হাসান’ বলেছেন- আলবানীর তাহক্বীক্বকৃত মিশকাত ১/২৩৮ পৃ.।]
গ) ইলমের অধিকারী মু’মিনদের মতপার্থক্য নিরসণে জমহুরের (সংখ্যাধিক্যের) সাক্ষ্য প্রাধান্যপ্রাপ্ত। কমসংখ্যক তথা দুর্বল সাক্ষ্যপ্রমাণ প্রত্যাখ্যাত। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَمَنْ يُّشَاقِقِ الرَّسُوْلَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهَدى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيْلِ الْمُؤْمِنِيْنَ نَوَلِّه مَا تَوَلّى وَنُصْلِه جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيْرًا
‘‘আর যে ব্যক্তি রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে, তাঁর নিকট হিদায়াত সুস্পষ্ট হওয়ার পর এবং মু’মিনদের পথ ব্যতীত অন্য পথ অনুসরণ করে, তবে সে যেদিকে ফিরে যায়, সেদিকেই তাকে ফিরিয়ে দেব এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব। আর তা কত মন্দ আবাস।’’[সূরা নিসা: ১১৫ আয়াত]
আল্লাহ তাআলা বলেন: اِلاَّ مَنْ شَهِدَ بِالْحَقِّ وَهُمْ يَعْلَمُوْنَ ‘‘তবে তারা ছাড়া যারা ‘ইলমের ভিত্তিতে সত্যের সাক্ষ্য দেয়।’’ [সূরা যুখরুফ: ৮৬ আয়াত]
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: وَاتَّبِعْ سَبِيْلاَ مَنْ اَنَابَ اِلَىَّ ‘‘যে বিশুদ্ধচিত্তে আমার অভিমুখী হয়েছে তার পথ অনুসরণ কর।’’ [সূরা লুকমান: ১৫ আয়াত]
তিনি অন্যত্র বলেন:
قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ إِنَّمَا يَتَذَكَّرُ أُولُو الْأَلْبَابِ
‘‘বলুন! যারা জানে, আর যারা জানে না; তারা কি সমান হতে পারে? চিন্তাভাবনা কেবল তারাই করে, যারা বুদ্ধিমান।’’ [সূরা যুমার: ৯]
অন্যত্র আল্লাহ তাআলা বলেন: هَلْ يَسْتَوِيَانِ مَثَلًا أَفَلَا تَذَكَّرُونَ ‘‘বলুন! অন্ধ ও চুক্ষুষ্মান কি সমান হতে পারে? তোমরা কি চিন্তা করবে না।’’ [সূরা আনয়াম: ৫০]
যেহেতু শরীয়তের নির্দেশনা অনুযায়ী এ বিতর্কের অবসান হওয়া অত্যন্ত জরুরি, সেহেতু আমার মতে এ বিতর্ক অবসানকল্পে প্রত্যেক মুসলিম ব্যক্তির অপরিহার্য কর্তব্য হচ্ছে এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা বলেছেন এবং সাহাবীগণ (রা) যা করেছেন তা অনুধাবন করা ।
পর্যালোচনা - ৬: মতপার্থক্য নিরসণে আমাদের আক্বীদা নিম্নরূপ:
ক) কুরআন ও সহীহ হাদীস পরস্পরের বিরোধী নয়: কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন:
اَفَلاَ يَتَدَبَّرُوْنَ الْقُرْانَ ط وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللهِ لَوَجَدُوْا فِيْه اخْتِلاَفًا كَثِيْرًا
‘‘তারা কি কুরআন নিয়ে চিন্তাভাবনা করে না? এটা যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে নাযিল হত, তাহলে অবশ্যই এতে বৈপরীত্য (ইখতিলাফ) দেখতে পেতো।’’ [সূরা নিসা, ৮২ আয়াত]
খ) কিতাবের কিছু অংশ মানা ও কিছু অংশ না মানা কুফর: এ মর্মে আল্লাহ তাআলা বলেন:
أَفَتُؤْمِنُونَ بِبَعْضِ الْكِتَابِ وَتَكْفُرُونَ بِبَعْضٍ
‘‘তোমরা কি কিতাবে কিছু অংশ বিশ্বাস করো আর কিছু অংশের প্রতি কুফরি করো।’’ [সূরা বাক্বারাহ: ৮৫ আয়াত]
গ) মতপার্থক্য নিরসণে আয়াত ও হাদীসকে পারস্পরিক বিরোধ দুর করা জরুরি। সমাধানকল্পে বিজ্ঞদের স্মরণাপন্ন হতে হবে। এ মর্মে নিচের হাদীসটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য:
‘আমর ইবনে শুআয়িব তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন:
سَمِعَ النَّبِيُّ قَوْمًا يَّتَدَارَؤُنَ فِي الْقُرْانِ فَقَالَ اِنَّمَا هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ بِهذَا ضَرَبُوْا كِتَابَ اللهِ بَعْضَه ও بِبَعْضٍ وَّ انَّمَا نَزَلَ كِتَابُ اللهِ يُصَدِّقُ بَعْضُه ও بَعْضًا فَلاَ تُكَذِّبُوْا بَعْضَه ও بِبَعْضٍ فَمَا عَلِمْتُمْ مِّنْهُ فَقُوْلُوْا وَمَا جَهِلْتُمْ فَكِلُوْهُ اِلي عَالِمِه
‘‘নবী (স) একদল লোককে কুরআনের বিষয়ে বিতর্ক করতে শুনলেন। তখন তিনি বললেন: তোমাদের পূর্বে যারা ছিল তারা এ কারণেই হালাক (ধ্বংস) হয়েছে। তারা আল্লাহর কিতাবের একঅংশকে অপরঅংশ দ্বারা বাতিল করার চেষ্টা করেছিল। অথচ কিতাবুল্লাহ নাযিল হয়েছে এর একঅংশ অপরঅংশের সমর্থক হিসাবে। সুতরাং তোমরা এর একঅংশকে অপরঅংশ দ্বারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করবে না। বরং যা তোমরা জান কেবল তা-ই বলবে। আর যা জান না তা যে জানে তার কাছে সোপর্দ করবে।’’ [. হাসান: আহমাদ, মিশকাত [ঢাকা: এমদাদিয়া লাইব্রেরী] ২য় খণ্ড হা/২২১। নাসিরুদ্দীন আলবানী হাদীসটিকে ‘হাসান’ বলেছেন- আলবানীর তাহক্বীক্বকৃত মিশকাত ১/২৩৮ পৃ.।]
গ) ইলমের অধিকারী মু’মিনদের মতপার্থক্য নিরসণে জমহুরের (সংখ্যাধিক্যের) সাক্ষ্য প্রাধান্যপ্রাপ্ত। কমসংখ্যক তথা দুর্বল সাক্ষ্যপ্রমাণ প্রত্যাখ্যাত। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَمَنْ يُّشَاقِقِ الرَّسُوْلَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهَدى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيْلِ الْمُؤْمِنِيْنَ نَوَلِّه مَا تَوَلّى وَنُصْلِه جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيْرًا
‘‘আর যে ব্যক্তি রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে, তাঁর নিকট হিদায়াত সুস্পষ্ট হওয়ার পর এবং মু’মিনদের পথ ব্যতীত অন্য পথ অনুসরণ করে, তবে সে যেদিকে ফিরে যায়, সেদিকেই তাকে ফিরিয়ে দেব এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব। আর তা কত মন্দ আবাস।’’[সূরা নিসা: ১১৫ আয়াত]
আল্লাহ তাআলা বলেন: اِلاَّ مَنْ شَهِدَ بِالْحَقِّ وَهُمْ يَعْلَمُوْنَ ‘‘তবে তারা ছাড়া যারা ‘ইলমের ভিত্তিতে সত্যের সাক্ষ্য দেয়।’’ [সূরা যুখরুফ: ৮৬ আয়াত]
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: وَاتَّبِعْ سَبِيْلاَ مَنْ اَنَابَ اِلَىَّ ‘‘যে বিশুদ্ধচিত্তে আমার অভিমুখী হয়েছে তার পথ অনুসরণ কর।’’ [সূরা লুকমান: ১৫ আয়াত]
তিনি অন্যত্র বলেন:
قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ إِنَّمَا يَتَذَكَّرُ أُولُو الْأَلْبَابِ
‘‘বলুন! যারা জানে, আর যারা জানে না; তারা কি সমান হতে পারে? চিন্তাভাবনা কেবল তারাই করে, যারা বুদ্ধিমান।’’ [সূরা যুমার: ৯]
অন্যত্র আল্লাহ তাআলা বলেন: هَلْ يَسْتَوِيَانِ مَثَلًا أَفَلَا تَذَكَّرُونَ ‘‘বলুন! অন্ধ ও চুক্ষুষ্মান কি সমান হতে পারে? তোমরা কি চিন্তা করবে না।’’ [সূরা আনয়াম: ৫০]