hadith book logo

সালাতে সূরা ফাতিহা পাঠের পদ্ধতি নিয়ে বিতর্কের সমাধান

লেখকঃ আশরাফুল ইসলাম • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩০

নিজের ভুল বুঝকে আয়াতের ব্যাখ্যা হিসেবে গণ্য করা

পুস্তিকাটির লেখকের (আবূ আব্দুল্লাহ আব্দুর রাজ্জক্বের) করা হাদীসের তরজমাটি ভুল এবং তাঁর বুঝ সূরা আ‘রাফের ২০৪ নং আয়াতের বিরোধী। তিনি ঐ ভুল বুঝকে সূরা নজমের ৩ ও ৪ নং আয়াত দ্বারা নবী (স)-এর ব্যাখ্যা তথা ওহি হিসেবে দাবি করেছেন। যা অপব্যাখ্যা মাত্র। কেননা আয়াতটির দাবি হলো, কুরআন পাঠের সময় চুপ থাকতে হবে ও মনোযোগী হতে হবে। তেমনি হাদীস দু’টির দাবিও ইমামের সাথে সাথে ক্বিরাআত পাঠ করা যাবে না। অর্থাৎ আয়াত ও হাদীস লেখকের বুঝের বিপরীত।

আমাদের উপস্থাপিত দলিল

(ইমামের সূরা ফাতিহা পাঠের সময় চুপ থাকা ও সাকতাতে তা পাঠের হাদীস পূর্বে বর্ণিত হয়েছে)

عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ انْصَرَفَ مِنْ صَلاَةٍ جَهَرَ فِيهَا بِالْقِرَاءَةِ فَقَالَ ﷺ هَلْ قَرَأَ مَعِى أَحَدٌ مِنْكُمْ آنِفًا . فَقَالَ رَجُلٌ نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ ্র إِنِّى أَقُولُ مَا لِى أُنَازَعُ الْقُرْآنَ . قَالَ فَانْتَهَى النَّاسُ عَنِ الْقِرَاءَةِ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فِيمَا جَهَرَ فِيهِ النَّبِىُّ ﷺ بِالْقِرَاءَةِ مِنَ الصَّلَوَاتِ حِينَ سَمِعُوا ذَلِكَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ

‘‘আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একবার রসূলুল্লাহ (স) জাহরি ক্বিরাআত বিশিষ্ট সালাত আদায়ের পর বললেন: তোমাদের কেউ কি আমার সাথে পড়ছিলে? তখন একজন বললেন: হাঁ, ইয়া রসূলাল্লাহ! তিনি (স) বললেন: ‘‘নিশ্চয়ই আমি বলছিলাম, আমার কুরআন পাঠের সময় বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।’ বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর লোকেরা বিরত হল রসূলুল্লাহ (স)-এর সাথে ক্বিরাআত করার ব্যাপারে ঐ সমস্ত সালাতে যেখানে নবী (স)-এর ক্বিরাআত তারা শুনতে পেত।’’ [আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন (তাহ: আবূ দাউদ হা/৮২৬), শায়খে যুবায়ের আলী যাঈও তাঁর তাহ: আবু দাউদে হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন (হা/৮২৬)।

পর্যালোচনা: আবু হুরায়রা (রা)-এর হাদীসটি থেকে বুঝা যায়, সাহাবীগণ জাহরি সালাতে ইমামে সাথে সাথে ক্বিরাআত করা ত্যাগ করেন। পুস্তকের লেখক উপস্থাপিত আনাস (রা) হাদীসের সাথে এর কোনো বিরোধ নেই। কেননা আবু হুরায়রা (রা)-এর অপরাপর হাদীসের মনে মনে পড়া ও সেটা সাকতাতে পড়ার বিষয়টি নিশ্চত করা হয়েছে। ফলে হাদীসগুলো পরস্পরে ব্যাখ্যা। ইমাম বুখারী, ইমাম হাম্বল, ইমাম তিরমিযী, আল্লামা ইবনে তাইমিয়া, শায়খ আলবানী (রহ) এ পদ্ধতিকে গ্রহণ করেছেন।