১
সালাতে সূরা ফাতিহা পাঠের পদ্ধতি নিয়ে বিতর্কের সমাধান
লেখকঃ আশরাফুল ইসলাম • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪০
একটি বর্ণনা অপর বর্ণনার ব্যাখ্যা
আবু আব্দিল্লাহ আব্দুর রাজ্জাক - ২৪: (পৃ. ১৪)
عن بن عباس قال لا تدع أن تقرأ خلف الإمام بفاتحة الكتاب جهر أو لم يجهر
(৬) আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস কি বলেন, ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পড়া ছেড়ে দিও না, চাই ইমাম উচ্চস্বরে কিরআত পড়ক বা আস্তে পড়ক। (ইবনু আবূ শায়বাহ ১/৩৭৩ পৃ.)।
পর্যালোচনা - ২৪: ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পড়ার দাবিকে আমরাও মানি। কিন্তু সেটা ইমামের ক্বিরাআত করা অবস্থায় নয়। যেভাবে ইবনে আব্বাস (রা)-এর নিম্নোক্ত বর্ণনাতে এসেছে:
عن ابن عباس رضي الله عنه قال : الْمؤمن في سعة من الاستماع إليه إلا في صلاة مفروضة أو المكتوبة أو يوم جمعة أو يوم فطر أو يوم أضحى يعني ( وإذا قرئ القرآن فاستمعوا له وأنصتوا (
‘‘অর্থাৎ আল্লাহর বাণী (সূরা আ‘রাফ: ২০৪): ‘যখন কুরআন পড়া হয় তখন মনোযোগের সাথে শোন ও চুপ থাক’ - এর দাবি ইসতিমা‘ (মনোযোগের সাথে শোনা) মানতে মু’মিনের অবকাশ আছে (ইচ্ছাধীন), কিন্তু (জাহরি সালাত যেমন -) ফরয সালাত, জুমু‘আর সালাত, ‘ঈদুল ফিতর বা ‘ঈদুল আযহার সালাত ছাড়া (অর্থাৎ জাহরি সালাতে শোনার হুকুমটি বাধ্যতামূলক)।’’ [কিতাবুল ক্বিরাআত পৃ. ১০৭, হা/২৫৩; যুবায়ের আলী যাঈ এই বর্ণনাটিকে হাসান বলেছেন (নাসরুল বারী ফি তাহক্বীক্বে জুযউল ক্বিরাআত পৃ. ৬৬, হা/১৮-এর ব্যাখ্যা)]
যদি কেউ বলেন, ইবনে আব্বাসের উক্তিগুলো পরস্পর বিরোধী। আমরা বলবো, বরং ব্যাখ্যা। তা ছাড়া বিরোধের সময় কুরআন ও সুন্নাহর দিক ফেরার নির্দেশ আছে (সূরা নিসা: ৫৯)। এ পর্যায়ে আল্লাহ তাআলা বলেন: فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ ‘‘যখন আমি তা পাঠ করি, তখন আপনি সে পাঠের অনুসরণ করুন।’’ [সূরা ক্বিয়ামাহ: ১৮ আয়াত]
ইবনে আব্বাস (রা) আয়াতটির ব্যাখ্যায় বলেন: فَاسْتَمِعْ لَهُ وَأَنْصِتْ ‘‘অর্থাৎ মনোযোগ সহকারে শুনুন ও চুপ থাকুন।’’ [সহীহ বুখারী - কিতাবুল অহী হা/৫, আরও দ্র: হা/৭৫২৪]
এক্ষণে কুরআন ও ইবনে আব্বাস (রা)-এর অধিকাংশ তাফসিরই কুরআন পাঠের সময় শোনা ও চুপ থাকার হুকুম দেয়। এর বিপরীত মর্মে আলোচ্য আসারটি কুরআন ও ইবনে আব্বাস (রা)-এর অধিকাংশ আসারের বিরোধী তথা শায বিধায় পরিত্যাজ্য।
عن بن عباس قال لا تدع أن تقرأ خلف الإمام بفاتحة الكتاب جهر أو لم يجهر
(৬) আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস কি বলেন, ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পড়া ছেড়ে দিও না, চাই ইমাম উচ্চস্বরে কিরআত পড়ক বা আস্তে পড়ক। (ইবনু আবূ শায়বাহ ১/৩৭৩ পৃ.)।
পর্যালোচনা - ২৪: ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পড়ার দাবিকে আমরাও মানি। কিন্তু সেটা ইমামের ক্বিরাআত করা অবস্থায় নয়। যেভাবে ইবনে আব্বাস (রা)-এর নিম্নোক্ত বর্ণনাতে এসেছে:
عن ابن عباس رضي الله عنه قال : الْمؤمن في سعة من الاستماع إليه إلا في صلاة مفروضة أو المكتوبة أو يوم جمعة أو يوم فطر أو يوم أضحى يعني ( وإذا قرئ القرآن فاستمعوا له وأنصتوا (
‘‘অর্থাৎ আল্লাহর বাণী (সূরা আ‘রাফ: ২০৪): ‘যখন কুরআন পড়া হয় তখন মনোযোগের সাথে শোন ও চুপ থাক’ - এর দাবি ইসতিমা‘ (মনোযোগের সাথে শোনা) মানতে মু’মিনের অবকাশ আছে (ইচ্ছাধীন), কিন্তু (জাহরি সালাত যেমন -) ফরয সালাত, জুমু‘আর সালাত, ‘ঈদুল ফিতর বা ‘ঈদুল আযহার সালাত ছাড়া (অর্থাৎ জাহরি সালাতে শোনার হুকুমটি বাধ্যতামূলক)।’’ [কিতাবুল ক্বিরাআত পৃ. ১০৭, হা/২৫৩; যুবায়ের আলী যাঈ এই বর্ণনাটিকে হাসান বলেছেন (নাসরুল বারী ফি তাহক্বীক্বে জুযউল ক্বিরাআত পৃ. ৬৬, হা/১৮-এর ব্যাখ্যা)]
যদি কেউ বলেন, ইবনে আব্বাসের উক্তিগুলো পরস্পর বিরোধী। আমরা বলবো, বরং ব্যাখ্যা। তা ছাড়া বিরোধের সময় কুরআন ও সুন্নাহর দিক ফেরার নির্দেশ আছে (সূরা নিসা: ৫৯)। এ পর্যায়ে আল্লাহ তাআলা বলেন: فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ ‘‘যখন আমি তা পাঠ করি, তখন আপনি সে পাঠের অনুসরণ করুন।’’ [সূরা ক্বিয়ামাহ: ১৮ আয়াত]
ইবনে আব্বাস (রা) আয়াতটির ব্যাখ্যায় বলেন: فَاسْتَمِعْ لَهُ وَأَنْصِتْ ‘‘অর্থাৎ মনোযোগ সহকারে শুনুন ও চুপ থাকুন।’’ [সহীহ বুখারী - কিতাবুল অহী হা/৫, আরও দ্র: হা/৭৫২৪]
এক্ষণে কুরআন ও ইবনে আব্বাস (রা)-এর অধিকাংশ তাফসিরই কুরআন পাঠের সময় শোনা ও চুপ থাকার হুকুম দেয়। এর বিপরীত মর্মে আলোচ্য আসারটি কুরআন ও ইবনে আব্বাস (রা)-এর অধিকাংশ আসারের বিরোধী তথা শায বিধায় পরিত্যাজ্য।