hadith book logo

সালাতে সূরা ফাতিহা পাঠের পদ্ধতি নিয়ে বিতর্কের সমাধান

লেখকঃ আশরাফুল ইসলাম • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৮

মাযহাবপন্থী বনাম সূরা আ‘রাফের ২০৪ নং আয়াত

আবু আব্দিল্লাহ আব্দুর রাজ্জাক - ১: (পৃ. ৩)

পরম করুণাময় অতীব দয়ালু আল্লাহর নামে

শরীয়তের বিভিন্ন বিষয়ে আলেমগণের মধ্যে যে সকল ইখতিলাফ রয়েছে তন্মধ্যে একটি হলো ইমামের পিছনে মুক্তাদীর সূরা ফাতিহা পাঠ নিয়ে। এ বিষয়ে আলেমগণের মধ্যে দুটি মত লক্ষণীয়। এক পক্ষে রয়েছে মাযহাবপন্থী আলেমগণ। তাদের মতে ইমামের পিছনে মুক্তাদীর সূরা ফাতিহা পাঠ সিদ্ধ নয়। তারা দলিল হিসেবে পেশ করে থাকেন আল কুরআনের সুরা আ‘রাফের ২০৪ নং আয়াত যেখানে বলা হয়েছে “যখন কুরআন পাঠ করা হয় তখন তোমরা মনোযোগ দিয়ে শ্রবন কর ও চুপ থাক”। মাযহাবপন্থী জনগণের মধ্যেও তদনুযায়ী আমল বিদ্যমান রয়েছে।

পর্যালোচনা - ১: আমরা আল্লামা ইবনে তাইমিয়া, ইমাম তিরমিযী ও আব্দুর রহমান মুবারকপুরী (রহ)-এর উদ্ধৃতি থেকে জেনেছি, তাঁরা যেটিকে জমহুরের (অধিকাংশ আলেমের) মতামত বলে উল্লেখ করেছেন, সেটার প্রতি আমলের দ্বারা সূরা আ‘রাফের ২০৪ নং আয়াতটির সঠিক দাবি পূরণ হয়। কেননা সির্রি সালাতে (যোহর ও আসরে) ইমামের কুরআন পাঠ শোনা যায় না। ফলে তখন সূরা ফাতিহা পাঠ করাতে আয়াতটি দ্বারা দলিল উপস্থাপন করা যায় না। তেমনি জাহরি ক্বিরাআতের সালাতে ইমামের সাকতাতে সূরা ফাতিহা পড়লেও আয়াতটির কোনো বিরোধিতা হয় না।

পুস্তিকাটির লেখক লিখেছেন উক্ত আয়াতটি মাযহাবপন্থীদের দলিল। অথচ শাফেঈ ও হাম্বলি মাযহাব আয়াতটি দ্বারা ঐভাবে দলিল নেন না, যেভাবে হানাফি মাযহাব (সির্রি ও জাহরি উভয় সালাতে) দলিলটি গ্রহণ করেন। এখন হানাফি মাযহাবপন্থীদের মধ্যে কয়েকজনের অভিমত উল্লেখ করছি, যারা জুমহুর মুহাদ্দিসগণের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন: