hadith book logo

সালাতে সূরা ফাতিহা পাঠের পদ্ধতি নিয়ে বিতর্কের সমাধান

লেখকঃ আশরাফুল ইসলাম • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২১

কেনো জুমহুর মুহাদ্দিসগণের সাক্ষ্য প্রাধান্যপ্রাপ্ত?

মতপার্থক্য নিরসণে অন্যতম উদাহরণ সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম। তাঁরা উভয়েই ঐসব হাদীস সঙ্কলন করেছেন যেসবগুলোর ব্যাপারে অধিকাংশ বা জুমহুর মুহাদ্দিসগণের ঐকমত্য ছিলেন। শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিস (রহ) বলেছেন:

أما الصحيحان فقد اتفق المحدثون على أن جميع ما فيهما من المتصل المرفوع صحيح بالقطع وأنهما متواتران إلى مصنفيهما، وأن كل من يهون أمرهما فهو مبتدع متبع غير سبيل المؤمنين

‘‘সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম সম্পর্কে সমস্ত মুহাদ্দিসের ইজমা হয়েছে যে, এ দু’টির সমস্ত মুত্তাসিল ও মারফু‘ হাদীস নিশ্চিত সহীহ। যা এ দু’টি কিতাবের লেখক পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে পৌঁছেছে। যে এ দু’টিকে তুচ্ছ-সাধারণভাবে নেয় সে বিদআতি ও মু’মিনদের বিরোধী পথের অনুসারী।’’ [হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ ১/১৩৪ (আরবি), ২/১২৬ (ঢাকা: রশিদ বুক হাউদ, ডিসেম্বর ২০১২)]

ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ) লিখেছেন:

لم يقلد أئمة الحديث فيه البخاري و مسلما بل جمهور ما صححاه كان قبلهما عند أئمة الحديث صحيحا متلقي بالقبول و كذلك في عصرهما و كذلك بعدهما

‘‘হাদীসের ইমামগণ এক্ষেত্রে বুখারী ও মুসলিমের তাক্বলীদ করেননি। বরং তাঁরা দু’জন যে সমস্ত হাদীসগুলোকে সহীহ গণ্য করেছেন, সেগুলির অধিকাংশই তাঁদের পূর্বের ইমামগণের নিকট সহীহ ও আমলযোগ্য ছিল। একই অবস্থা তাদের দু’জনের যুগে এবং তাঁদের পরবর্তী যুগেও ছিল।’’ [মিনহাজুস সুন্নাহ ৪/৫৯ পৃ.]

বুঝা যাচ্ছে, হাদীস সহীহ-যঈফ নির্ণয় ও মাসআলা ইস্তিম্বাতের ক্ষেত্রে জুমহুর মুহাদ্দিসের সাক্ষ্য ও সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য। অল্প সংখ্যকের সাক্ষ্য দুর্বল বিধায় পরিত্যাজ্য।

আমাদের আলোচ্য মাসআলাটিও অধিকাংশ মুহাদ্দিসগণের নিকট গ্রহণযোগ্য। পক্ষান্তরে স্বল্প সংখ্যক মুহাদ্দিস এর দুর্বল সমালোচনা করেছেন। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের আহলেহাদীসদের অবস্থান জুমহুর মুহাদ্দিসগণের বিপরীত।

আবু আব্দিল্লাহ আব্দুর রাজ্জাক - ৭: (পৃ. ৫)

জেহেরী সালাতে রুকুর পূর্বের সাকতায় মুক্তাদীর সূরা ফাতিহা পাঠ সংক্রান্ত সৃষ্ট বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে; সূরা আরাফের ২০৪ নং আয়াতের নির্দেশনা ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পাঠের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকস্বরূপ কি না?, সালাতে ইমামের সাকতা ও সে সময়ে করণীয় এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবীগণ কর্তৃক ইমামের পিছনে পাঠ সংক্রান্ত নির্দেশনাসমূহ নিয়ে নিম্নে আলোচনা করা হলো। 

পর্যালোচনা - ৭: আমরা নিচে লেখকের পরবর্তী বিশ্লেষণের সাথে রসূলুল্লাহ (স), সাহাবী (রা) ইমাম ও মুহাদ্দিসগণের বিশ্লেষণের একটি তুলনামূলক পার্থক্য উপস্থাপন করবো। যা থেকে লেখকের বুঝের সাথে কুরআন, সহীহ হাদীস, সাহাবী (রা) ইলমের ধারক-বাহকদের (রহ) বুঝের পার্থক্য সুস্পষ্ট হবে, ইনঁশাআল্লাহ।