১
সালাতে সূরা ফাতিহা পাঠের পদ্ধতি নিয়ে বিতর্কের সমাধান
লেখকঃ আশরাফুল ইসলাম • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪৯
কুরআন, হাদীস ও মু’মিনদের পথ বনাম বিদআতি মতামত
আবু আব্দিল্লাহ আব্দুর রাজ্জাক - ৩৩: (পৃ. ১৬)
এ অবস্থায় ইমামের রুকুর পূর্বের সাকতায়ই মুক্তাদীকে সূরা ফাতিহা পড়তে হবে বলে অভিমত করা বা এর স্বপক্ষে প্রচারণায় লিপ্ত থাকাকে “মুসলিম সমাজে বিভেদ সৃষ্টির মাধ্যমে নতুন দল ও নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করারই উপসর্গ গণ্য করা যায়”।
হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে বিদআত থেকে সতর্ক হওয়ার ও সুন্নাতে রাসূলকে আঁকড়ে থাকার তাওফীক দান কর। (আমীন)
পর্যালোচনা - ৩৩: কুরআন ও সহীহ হাদীসের মধ্যকার বিভিন্ন বর্ণনার মধ্যে বিরোধ নিরসণে পূর্ববর্তী মু’মিনদের বিশ্বস্ত ইলমের অধিকারী ব্যক্তিদের ঐক্যবদ্ধ (ইজমা‘) সিদ্ধান্ত অবশ্যই গ্রহণ করতে যে কোনো মুসলিম বাধ্য। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَمَنْ يُّشَاقِقِ الرَّسُوْلَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهَدى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيْلِ الْمُؤْمِنِيْنَ نَوَلِّه مَا تَوَلّى وَنُصْلِه جَهَنَّمَ ـ وَسَاءَتْ مَصِيْرًا
‘‘আর যে ব্যক্তি রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে, তাঁর নিকট হিদায়াত সুস্পষ্ট হওয়ার পর এবং মু’মিনদের পথ ব্যতীত অন্য পথ অনুসরণ করে, তবে সে যেদিকে ফিরে যায়, সেদিকেই তাকে ফিরিয়ে দেবো এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবো। আর তা কত মন্দ আবাস।’’[সূরা নিসা: ১১৫ আয়াত]
আমাদের বিশ্লেষণে প্রমাণিত হয়েছে, লেখক যে আমলটিকে বিদআত বলেছেন - সেটা কুরআন, সহীহ হাদীস, সাহাবীদের আসার ও আমল, তাবেঈদের বক্তব্য ও আমল এবং মুহাদ্দিসগণের সিদ্ধান্ত থেকে প্রমাণিত। যে আমলটি কুরআন ও সহীহ হাদীসের বিরোধ নিরসণ করে - সেটাকে কিভাবে বিদআত বলা যেতে পারে। আমাদের কাছে সাকতার দ্বারা সমন্বয় করার পদ্ধতিটিকে অস্বীকার করাটাই বিদআত - যেভাবে তাবেঈদের থেকে সাহাবীদের আমলের কথা প্রসঙ্গে বর্ণিত হয়েছে। [দ্র: ‘পর্যালোচনা-৩২’]
আমরা দেখেছি, সাকতার মধ্যে সূরা ফাতিহা পাঠ কুরআনের সূরা আ‘রাফের: ২০৪ আয়াত, সূরা ক্বিয়ামাহ: ১৮ নং আয়াত, নবী (স)-এর হাদীস - ইমামের পাঠের সময় চুপ থাকার বিভিন্ন বর্ণনা, যার কোনো কোনোটি সূরা ফাতিহাকেও সুনির্দিষ্ট করে, সাহাবীদের নবী (স)-এর পাঠের সময় চুপ থাকা ও বিরতিতে সূরা ফাতিহা পড়া, সাকতার বিভিন্ন মারফু ও মওকুফ হাদীস, তাবেঈদের সেগুলোর প্রতি আমল এবং ইমাম ও মুহাদ্দিসগণের ঐকমত্য সিদ্ধান্ত সূরা নিসার ১১৫ নং আয়াতটির দাবি পূরণ করে। কেননা, এই সিদ্ধান্তে লেখকের দাবিকৃত মূল মাসআলা সূরা ফাতিহা পাঠের মৌলিক সিদ্ধান্তটি আমল হয়ে যাচ্ছে। পক্ষান্তরে লেখকের সিদ্ধান্তটি কুরআন ও সহীহ হাদীসের মধ্যে বিরোধ স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকার একটি মতামত মাত্র। যা মুসলিমদের মধ্যে দলাদলি ও বিভেদ স্থায়ী রাখার সর্বনাশা সিদ্ধান্ত। আল্লাহ সত্য বুঝার তাওফিক্ব দিন। আমীন!!
এই বইয়ের মাসআলাটির সাথে সম্পর্কিত আরও দু’টি মাসআলা:
1) ইমামের ক্বিরআত মুক্তাদির ক্বিরাআত
2) রুকু‘ পেলে রাকআত পাওয়া হবে কি?
বিস্তারিত জানার জন্য পড়ুন ‘ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পাঠ ও মাসায়েলে সাকতা’ - অনুবাদ ও সঙ্কলন: কামাল আহমাদ (ঢাকা: আতিফা পাবলিকেশন্স)। যা পাঠকের উপরোক্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে সন্দেহ নিরসণে যথেষ্ট হবে, ইনঁশাআল্লাহ।
এ অবস্থায় ইমামের রুকুর পূর্বের সাকতায়ই মুক্তাদীকে সূরা ফাতিহা পড়তে হবে বলে অভিমত করা বা এর স্বপক্ষে প্রচারণায় লিপ্ত থাকাকে “মুসলিম সমাজে বিভেদ সৃষ্টির মাধ্যমে নতুন দল ও নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করারই উপসর্গ গণ্য করা যায়”।
হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে বিদআত থেকে সতর্ক হওয়ার ও সুন্নাতে রাসূলকে আঁকড়ে থাকার তাওফীক দান কর। (আমীন)
পর্যালোচনা - ৩৩: কুরআন ও সহীহ হাদীসের মধ্যকার বিভিন্ন বর্ণনার মধ্যে বিরোধ নিরসণে পূর্ববর্তী মু’মিনদের বিশ্বস্ত ইলমের অধিকারী ব্যক্তিদের ঐক্যবদ্ধ (ইজমা‘) সিদ্ধান্ত অবশ্যই গ্রহণ করতে যে কোনো মুসলিম বাধ্য। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَمَنْ يُّشَاقِقِ الرَّسُوْلَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهَدى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيْلِ الْمُؤْمِنِيْنَ نَوَلِّه مَا تَوَلّى وَنُصْلِه جَهَنَّمَ ـ وَسَاءَتْ مَصِيْرًا
‘‘আর যে ব্যক্তি রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে, তাঁর নিকট হিদায়াত সুস্পষ্ট হওয়ার পর এবং মু’মিনদের পথ ব্যতীত অন্য পথ অনুসরণ করে, তবে সে যেদিকে ফিরে যায়, সেদিকেই তাকে ফিরিয়ে দেবো এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবো। আর তা কত মন্দ আবাস।’’[সূরা নিসা: ১১৫ আয়াত]
আমাদের বিশ্লেষণে প্রমাণিত হয়েছে, লেখক যে আমলটিকে বিদআত বলেছেন - সেটা কুরআন, সহীহ হাদীস, সাহাবীদের আসার ও আমল, তাবেঈদের বক্তব্য ও আমল এবং মুহাদ্দিসগণের সিদ্ধান্ত থেকে প্রমাণিত। যে আমলটি কুরআন ও সহীহ হাদীসের বিরোধ নিরসণ করে - সেটাকে কিভাবে বিদআত বলা যেতে পারে। আমাদের কাছে সাকতার দ্বারা সমন্বয় করার পদ্ধতিটিকে অস্বীকার করাটাই বিদআত - যেভাবে তাবেঈদের থেকে সাহাবীদের আমলের কথা প্রসঙ্গে বর্ণিত হয়েছে। [দ্র: ‘পর্যালোচনা-৩২’]
আমরা দেখেছি, সাকতার মধ্যে সূরা ফাতিহা পাঠ কুরআনের সূরা আ‘রাফের: ২০৪ আয়াত, সূরা ক্বিয়ামাহ: ১৮ নং আয়াত, নবী (স)-এর হাদীস - ইমামের পাঠের সময় চুপ থাকার বিভিন্ন বর্ণনা, যার কোনো কোনোটি সূরা ফাতিহাকেও সুনির্দিষ্ট করে, সাহাবীদের নবী (স)-এর পাঠের সময় চুপ থাকা ও বিরতিতে সূরা ফাতিহা পড়া, সাকতার বিভিন্ন মারফু ও মওকুফ হাদীস, তাবেঈদের সেগুলোর প্রতি আমল এবং ইমাম ও মুহাদ্দিসগণের ঐকমত্য সিদ্ধান্ত সূরা নিসার ১১৫ নং আয়াতটির দাবি পূরণ করে। কেননা, এই সিদ্ধান্তে লেখকের দাবিকৃত মূল মাসআলা সূরা ফাতিহা পাঠের মৌলিক সিদ্ধান্তটি আমল হয়ে যাচ্ছে। পক্ষান্তরে লেখকের সিদ্ধান্তটি কুরআন ও সহীহ হাদীসের মধ্যে বিরোধ স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকার একটি মতামত মাত্র। যা মুসলিমদের মধ্যে দলাদলি ও বিভেদ স্থায়ী রাখার সর্বনাশা সিদ্ধান্ত। আল্লাহ সত্য বুঝার তাওফিক্ব দিন। আমীন!!
এই বইয়ের মাসআলাটির সাথে সম্পর্কিত আরও দু’টি মাসআলা:
1) ইমামের ক্বিরআত মুক্তাদির ক্বিরাআত
2) রুকু‘ পেলে রাকআত পাওয়া হবে কি?
বিস্তারিত জানার জন্য পড়ুন ‘ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পাঠ ও মাসায়েলে সাকতা’ - অনুবাদ ও সঙ্কলন: কামাল আহমাদ (ঢাকা: আতিফা পাবলিকেশন্স)। যা পাঠকের উপরোক্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে সন্দেহ নিরসণে যথেষ্ট হবে, ইনঁশাআল্লাহ।