১
মন দিয়ে নামায পড়ার উপায়
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১০
মুনাফিকদের নামায
মুনাফিকরা নামাযে গাফলতি করে :
﴿اِنَّ الْمُنَافِقِيْنَ يُخَادِعُوْنَ اللهَ وَهُوَ خَادِعُهُمْ وَاِذَا قَامُوْاۤ اِلَى الصَّلَاةِ قَامُوْا كُسَالٰى يُرَآءُوْنَ النَّاسَ وَلَا يَذْكُرُوْنَ اللهَ اِلَّا قَلِيْلًا﴾
নিশ্চয় মুনাফিকরা আল্লাহর সাথে প্রতারণা করছে; মূলত আল্লাহই তাদেরকে প্রতারণায় ফেলে দিচ্ছেন, তারা যখন নামাযে দাঁড়ায়, তখন অলসভাবে দাঁড়ায়, তারা মানুষকে দেখাতে চায়। মূলত তারা আল্লাহকে খুব কমই স্মরণ করে। (সূরা নিসা- ১৪২)
তারা লোক দেখানো নামায আদায় করে :
﴿فَوَيْلٌ لِّلْمُصَلِّيْنَ ‐ اَلَّذِيْنَ هُمْ عَنْ صَلَاتِهِمْ سَاهُوْنَ ‐ الَّذِيْنَ هُمْ يُرَآءُوْنَ ‐ وَيَمْنَعُوْنَ الْمَاعُوْنَ﴾
ঐ সকল নামায আদায়কারীদের জন্য দুর্ভোগ, যারা তাদের নামাযের ব্যাপারে গাফিল, যারা লোক দেখানোর জন্য আমল করে। আর তারা তুচ্ছ জিনিসও কাউকে দিতে চায় না। (সূরা মাউন : ৪-৭)
উল্লেখিত আয়াতসমূহে মুনাফিকদের নামাযের যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে তা হলো :
১। তারা যখন নামাযে দাঁড়ায় তখন অলসভাবে দাঁড়ায়। তাদের ঈমান, নিয়ত কিছুই সঠিক থাকে না এবং তারা আল্লাহকে ভয় করে না।
২। তারা নামাযের মধ্যে আল্লাহকে খুব কমই স্মরণ করে। নামাযের মধ্যে কী পড়ছে তা কিছুই বুঝে না। তাদের নামাযে মনোযোগ থাকে না।
৩। তারা নামাযের আরকান-আহকাম, রুকূ-সিজদা সঠিকভাবে আদায় করে না; বরং কাকের মতো কয়েকটা ঠোকর মেরে নামাযের দায় থেকে মুক্ত হতে চায়। তাদের নামাযে স্থিরতা থাকে না।
৪। তাদের নামাযে ইখলাস থাকে না, তারা লোক দেখানো নামায আদায় করে। মানুষের সামনে নিজেদেরকে নামায আদায়কারী হিসেবে তুলে ধরাই হলো তাদের নামাযের উদ্দেশ্য।
এশা ও ফজরের নামাযে উপস্থিত হতে তাদের বেশি কষ্ট হয় :
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, নিশ্চয় মুনাফিকদের কাছে সবচেয়ে ভারী নামায হচ্ছে এশা ও ফজরের নামায। যদি তারা জানত যে, এ দুটির মধ্যে কি পরিমাণ ফযীলত রয়েছে, তবে তারা অবশ্যই উক্ত নামাযদ্বয়ে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও উপস্থিত হতো। [ইবনে মাজাহ, হা/৭৯৭; মুসনাদে আহমাদ, হা/১০১০২; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/১৪৮৪; সহীহ ইবনে হিববান, হা/২০৯৮।]
তারা নামাযকে নির্ধারিত সময় থেকে পিছিয়ে দেয় :
আলা ইবনে আবদুর রহমান (রহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি একদিন আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) এর বসরায় অবস্থিত বাড়িতে গেলেন। আর সে বাড়িটি মসজিদের পাশেই অবস্থিত ছিল। তিনি (আলা ইবনে আবদুর রহমান) তখন সবেমাত্র যোহরের নামায আদায় করেছেন। আলা ইবনে আবদুর রহমান বলেন, আমরা তাঁর (আনাস ইবনে মালিকের) কাছে গেলে তিনি আমাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কি আসরের নামায আদায় করেছ? আমরা জবাবে বললাম, আমরা এইমাত্র যোহরের নামায আদায় করে আসলাম। এ কথা শুনে তিনি বললেন, যাও- আসরের নামায আদায় করে আসো। এরপর আমরা গিয়ে আসরের নামায আদায় করে তার কাছে ফিরে আসলে তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেছেন- ঐ নামায হলো মুনাফিকের নামায, যে বসে বসে সূর্যের প্রতি তাকাতে থাকে। আর যখন তা প্রায় অস্ত হয়ে যায় তখন উঠে গিয়ে ৪ বার ঠোকর মেরে আসে। এভাবে সে আল্লাহকে কমই স্মরণ করতে পারে। [সহীহ মুসলিম, হা/১৪৪৩, মুয়াত্তা ইমাম মালিক, হা/৫১৪; আবু দাউদ, হা/৪১৩; তিরমিযী, হা/১৬০; নাসাঈ, হা/৫১১; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২০১৮।]
﴿اِنَّ الْمُنَافِقِيْنَ يُخَادِعُوْنَ اللهَ وَهُوَ خَادِعُهُمْ وَاِذَا قَامُوْاۤ اِلَى الصَّلَاةِ قَامُوْا كُسَالٰى يُرَآءُوْنَ النَّاسَ وَلَا يَذْكُرُوْنَ اللهَ اِلَّا قَلِيْلًا﴾
নিশ্চয় মুনাফিকরা আল্লাহর সাথে প্রতারণা করছে; মূলত আল্লাহই তাদেরকে প্রতারণায় ফেলে দিচ্ছেন, তারা যখন নামাযে দাঁড়ায়, তখন অলসভাবে দাঁড়ায়, তারা মানুষকে দেখাতে চায়। মূলত তারা আল্লাহকে খুব কমই স্মরণ করে। (সূরা নিসা- ১৪২)
তারা লোক দেখানো নামায আদায় করে :
﴿فَوَيْلٌ لِّلْمُصَلِّيْنَ ‐ اَلَّذِيْنَ هُمْ عَنْ صَلَاتِهِمْ سَاهُوْنَ ‐ الَّذِيْنَ هُمْ يُرَآءُوْنَ ‐ وَيَمْنَعُوْنَ الْمَاعُوْنَ﴾
ঐ সকল নামায আদায়কারীদের জন্য দুর্ভোগ, যারা তাদের নামাযের ব্যাপারে গাফিল, যারা লোক দেখানোর জন্য আমল করে। আর তারা তুচ্ছ জিনিসও কাউকে দিতে চায় না। (সূরা মাউন : ৪-৭)
উল্লেখিত আয়াতসমূহে মুনাফিকদের নামাযের যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে তা হলো :
১। তারা যখন নামাযে দাঁড়ায় তখন অলসভাবে দাঁড়ায়। তাদের ঈমান, নিয়ত কিছুই সঠিক থাকে না এবং তারা আল্লাহকে ভয় করে না।
২। তারা নামাযের মধ্যে আল্লাহকে খুব কমই স্মরণ করে। নামাযের মধ্যে কী পড়ছে তা কিছুই বুঝে না। তাদের নামাযে মনোযোগ থাকে না।
৩। তারা নামাযের আরকান-আহকাম, রুকূ-সিজদা সঠিকভাবে আদায় করে না; বরং কাকের মতো কয়েকটা ঠোকর মেরে নামাযের দায় থেকে মুক্ত হতে চায়। তাদের নামাযে স্থিরতা থাকে না।
৪। তাদের নামাযে ইখলাস থাকে না, তারা লোক দেখানো নামায আদায় করে। মানুষের সামনে নিজেদেরকে নামায আদায়কারী হিসেবে তুলে ধরাই হলো তাদের নামাযের উদ্দেশ্য।
এশা ও ফজরের নামাযে উপস্থিত হতে তাদের বেশি কষ্ট হয় :
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, নিশ্চয় মুনাফিকদের কাছে সবচেয়ে ভারী নামায হচ্ছে এশা ও ফজরের নামায। যদি তারা জানত যে, এ দুটির মধ্যে কি পরিমাণ ফযীলত রয়েছে, তবে তারা অবশ্যই উক্ত নামাযদ্বয়ে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও উপস্থিত হতো। [ইবনে মাজাহ, হা/৭৯৭; মুসনাদে আহমাদ, হা/১০১০২; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/১৪৮৪; সহীহ ইবনে হিববান, হা/২০৯৮।]
তারা নামাযকে নির্ধারিত সময় থেকে পিছিয়ে দেয় :
আলা ইবনে আবদুর রহমান (রহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি একদিন আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) এর বসরায় অবস্থিত বাড়িতে গেলেন। আর সে বাড়িটি মসজিদের পাশেই অবস্থিত ছিল। তিনি (আলা ইবনে আবদুর রহমান) তখন সবেমাত্র যোহরের নামায আদায় করেছেন। আলা ইবনে আবদুর রহমান বলেন, আমরা তাঁর (আনাস ইবনে মালিকের) কাছে গেলে তিনি আমাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কি আসরের নামায আদায় করেছ? আমরা জবাবে বললাম, আমরা এইমাত্র যোহরের নামায আদায় করে আসলাম। এ কথা শুনে তিনি বললেন, যাও- আসরের নামায আদায় করে আসো। এরপর আমরা গিয়ে আসরের নামায আদায় করে তার কাছে ফিরে আসলে তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেছেন- ঐ নামায হলো মুনাফিকের নামায, যে বসে বসে সূর্যের প্রতি তাকাতে থাকে। আর যখন তা প্রায় অস্ত হয়ে যায় তখন উঠে গিয়ে ৪ বার ঠোকর মেরে আসে। এভাবে সে আল্লাহকে কমই স্মরণ করতে পারে। [সহীহ মুসলিম, হা/১৪৪৩, মুয়াত্তা ইমাম মালিক, হা/৫১৪; আবু দাউদ, হা/৪১৩; তিরমিযী, হা/১৬০; নাসাঈ, হা/৫১১; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২০১৮।]