hadith book logo

মন দিয়ে নামায পড়ার উপায়

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬১

সূরা ফীল

নাযিল হওয়ার প্রেক্ষাপট : এ সূরাটি মুহাম্মাদ ﷺ এর মক্কী জীবনের প্রথম দিকে নাযিল হয়েছে। মুহাম্মাদ ﷺ ইসলামের দাওয়াত দেয়া আরম্ভ করলে মক্কার কাফির ও মুশরিকরা নবী ﷺ এর বিরোধিতা শুরু করে দেয়। তারা নবী ﷺ এর মিশনকে বন্ধ করার জন্য নানা ধরনের কৌশল ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলো। এ কঠিন পরিস্থিতিতে আল্লাহ তা‘আলা নবী ﷺ কে সান্ত্বনা দেয়ার জন্য এ সূরাটি নাযিল করেন।

সূরার আলোচ্য বিষয় : নবী ﷺ এর জন্মের বছর ইয়ামানের খ্রিস্টান বাদশা আবরাহা বিশাল হস্তী বাহিনী নিয়ে কাবাঘর ধ্বংস করার জন্য মক্কার দিকে আসে। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর অসীম শক্তি দিয়ে এ বাহিনীকে ধ্বংস করে দেন। সেই ঐতিহাসিক ঘটনাটি সংক্ষেপে অত্র সূরায় আলোচনা করা হয়েছে।

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ ‐ اَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِاَصْحَابِ الْفِيْلِ ‐ اَلَمْ يَجْعَلْ كَيْدَهُمْ فِيْ تَضْلِيْلٍ ‐ وَاَرْسَلَ عَلَيْهِمْ طَيْرًا اَبَابِيْلَ ‐ تَرْمِيْهِمْ بِحِجَارَةٍ مِّنْ سِجِّيْلٍ ‐ فَجَعَلَهُمْ كَعَصْفٍ مَّأْكُوْلٍ

উচ্চারণ : বিসমিল্লা-হির রাহমা-নির রাহীম- (১) আলাম্তারা কাইফা ফা‘আলা রাববুকা বিআস হা-বিল্ফীল। (২) আলাম্ ইয়াজ্‘আল্ কাইদাহুম্ ফী তায্ লীল। (৩) ওয়া আরসালা ‘আলাইহিম্ ত্বাইরান্ আবা-বীল। (৪) তারমীহিম্ বিহিজা-রাতিম্ মিন সিজ্জীল। (৫) ফাজা‘আলাহুম কা‘আস্ফিম্ মা’কূল।

শাব্দিক অর্থ : بِسْمِ اللهِ (শুরু করছি) আল্লাহর নামে, اَلرَّحْمٰنِ যিনি পরম করুণাময়, اَلرَّحِيْمِ অতি দয়ালু। اَلَمْ تَرَ তুমি কি দেখনি, كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ তোমার প্রতিপালক কী রকম ব্যবহার করেছেন بِاَصْحَابِ الْفِيْلِ হাতিওয়ালাদের সাথে? اَلَمْ يَجْعَلْ তিনি কি করে দেননি كَيْدَهُمْ তাদের ষড়যন্ত্রসমূহকে فِيْ تَضْلِيْلٍ নস্যাৎ? وَاَرْسَلَ عَلَيْهِمْ এবং তিনি তাদের উপর পাঠিয়েছেন طَيْرًا اَبَابِيْلَ আবাবীল পাখি। تَرْمِيْهِمْ তারা নিক্ষেপ করেছিল بِحِجَارَةٍ مِّنْ سِجِّيْلٍ পাথরের টুকরা। فَجَعَلَهُمْ অতঃপর তিনি তাদেরকে করে দিলেন كَعَصْفٍ مَّأْكُوْلٍ জন্তু-জানোয়ারের চর্বিত ঘাসের মতো।

অর্থ : পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি। ১. তুমি কি দেখনি, তোমার রব (কাবাঘর ধ্বংসের জন্য আগত) হাতিওয়ালাদের সাথে কী রকম ব্যবহার করেছেন? ২. তিনি কি (সে সময়) তাদের যাবতীয় ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দেননি? ৩. এবং তিনি তাদের উপর আবাবীল নামক (ঝাঁকে-ঝাঁকে) পাখি পাঠিয়েছেন। ৪. ঐ পাখিগুলো সেই সুসজ্জিত বাহিনীর উপর পাথরের টুকরা নিক্ষেপ করেছিল। ৫. অতঃপর তিনি তাদেরকে জন্তু-জানোয়ারের চর্বিত ঘাসের মতো করে দিলেন।

সূরার মৌলিক শিক্ষা :

(১) এ সূরাটি নাযিল করে নবী ﷺ কে এ মর্মে সান্ত্বনা দেয়া হয়েছে যে, তোমার বিরোধীরা ইসলামকে ধ্বংস করার জন্য যে ষড়যন্ত্র করছে, এতে তারা সফল হতে পারবে না; বরং শেষ পর্যন্ত তারা নিজেরাই ধ্বংস হবে।

(২) অপর দিকে ইসলাম বিরোধীদেরকে এ মর্মে শিক্ষা দেয়া হয়েছে যে, তোমরা নবী ﷺ এর সাথে যতই ষড়যন্ত্র কর না কেন, তোমরা সফল হতে পারবে না। লক্ষ্য করে দেখো! ইতিপূর্বে আবরাহার বাহিনী কাবাঘর ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করে সফল হতে পারেনি।

(৩) এ সূরা থেকে আজও আমরা এ শিক্ষা নিতে পারি যে, ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থানকারীরা যতই শক্তির অধিকারী হোক না কেন, একদিন তারা পরাজিত হবেই। আর ইসলামপন্থীরাই একদিন বিজয়ী হবে, কারণ তাদের সাথে রয়েছে আল্লাহর সাহায্য নামের এমন এক শক্তি, যা এসে গেলে সারা পৃথিবী একজোট হলেও তা ঠেকাতে পারবে না। যেমন আহযাবের যুদ্ধে গোটা আরবের সকল ইসলাম বিরোধী শক্তি একজোট হয়েও ইসলামের অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে রাখতে পারেনি।