১
মন দিয়ে নামায পড়ার উপায়
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৬২
সূরা কুরাইশ
নাযিলের প্রেক্ষাপট ও আলোচ্য বিষয় :
এ সূরাটিও নবীর মক্কী জীবনের প্রথম দিকের একটি সূরা। মক্কার একটি বিখ্যাত গোত্রের নাম ‘কুরাইশ’। আল্লাহ তা‘আলা কুরাইশ বংশকে বিশেষ কিছু নিয়ামত দিয়ে গুণান্বিত করেছিলেন। যেমন- মুহাম্মাদ ﷺ এ গোত্রেই জন্মগ্রহণ করেন, এ গোত্রের লোকেরাই হাজীদেরকে পানি পান করানোর সৌভাগ্য লাভ করেছিল, হস্তী বাহিনীর উপর তারা বিজয়ী হয়েছিল, আরবে যখন জান-মালের কোন নিরাপত্তা ছিল না, তখন কাবাঘরের প্রতিবেশী হওয়ার কারণে তাদের বিশেষ সম্মান ছিল, তারা নিরাপদে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারত। তাদের প্রতি আল্লাহর এত অনুগ্রহ থাকা সত্ত্বেও তাদেরই বংশে জন্ম নেয়া নবী ﷺ যখন দ্বীনের দাওয়াত দিতে লাগলেন, তখন তারা নবী ﷺ এর সহযোগিতা করার পরিবর্তে তাঁর বিরোধিতা শুরু করে দিল- এমন সময় আল্লাহ তা‘আলা এ সূরা নাযিল করে তাদেরকে উপদেশ দিলেন যে, দেখো! আমার কতইনা অনুগ্রহ তোমরা ভোগ করছ। নিরাপদে ব্যবসা পরিচালনা করছ। সুতরাং যে কাবাঘরের প্রতিবেশী হওয়ার কারণে তোমাদের এত সম্মান এবং তোমরা যেজন্য গর্ববোধ করে থাক সেই কাবার মালিকের ইবাদাত করাই তোমাদের কর্তব্য। তাই আমার নবীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়াটা তোমাদের জন্য মোটেই সমীচীন নয়।
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ ‐ لِاِيْلَافِ قُرَيْشٍ ‐ اِيْلَافِهِمْ رِحْلَةَ الشِّتَآءِ وَالصَّيْفِ ‐ فَلْيَعْبُدُوْا رَبَّ هٰذَا الْبَيْتِ ‐ اَلَّذِيْۤ اَطْعَمَهُمْ مِّنْ جُوْعٍ وَّاٰمَنَهُمْ مِّنْ خَوْفٍ
উচ্চারণ : বিসমিল্লা-হির রাহমা-নির রাহীম- (১) লিইলা-ফি কুরাইশ, (২) ইলা-ফিহিম রিহ্লাতাশ্ শিতা-ই ওয়াস্ সায়ীফ, (৩) ফালইয়া‘বুদূ রাববাহাযাল্ বাইত, (৪) আল্লাযী আত্ব‘আমাহুম্ মিন্ জূ‘য়িওঁ ওয়া আ-মানাহুম মিন খাওফ।
শাব্দিক অর্থ : لِاِيْلَافِ অনুকূল (ও নিরাপদ) হওয়ার কারণে قُرَيْشٍ কুরাইশদের। اِيْلَافِهِمْ তাদের অনুকূল হওয়ার কারণে رِحْلَةَ الشِّتَآءِ وَالصَّيْفِ শীত ও গ্রীষ্ম কালের (ব্যবসায়িক) সফর। فَلْيَعْبُدُوْا অতএব তাদের ইবাদাত করা উচিত رَبَّ هٰذَا الْبَيْتِ এ ঘরের মালিকেরই। اَلَّذِيْۤ اَطْعَمَهُمْ যিনি তাদের খাবার সরবরাহ করেছেন مِّنْ جُوْعٍ ক্ষুধার্ত অবস্থায় وَاٰمَنَهُمْ এবং যিনি তাদেরকে নিরাপদ রেখেছেন مِّنْ خَوْفٍ ভয়-ভীতি থেকে।
অর্থ : পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি। ১. পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি।কুরাইশদের অনুকূল (ও নিরাপদ) হওয়ার কারণে। ২. অনুকূল হওয়ার কারণে তাদের শীত ও গ্রীষ্ম কালের (ব্যবসায়িক) সফর। ৩. অতএব তাদের এ ঘরের মালিকেরই ইবাদাত করা উচিত। ৪. যিনি ক্ষুধায় তাদের খাবার সরবরাহ করেছেন এবং তাদেরকে ভয়-ভীতি থেকে নিরাপদ রেখেছেন।
সূরার মৌলিক শিক্ষা :
(১) সত্যকে জানার পরও সত্যের বিরোধিতা করাটা উচিত নয়।
(২) যার প্রতি আল্লাহর নিয়ামত যতবেশি হবে, তার ততবেশি শুকরিয়া আদায় করা উচিত। আর শুকরিয়া আদায় করতে হবে আল্লাহর হুকুম পালন ও ইবাদাত বন্দেগীর মাধ্যমে।
(৩) যে আন্তরিকতার সহিত আল্লাহর ইবাদাত করবে, সে দুনিয়া ও আখিরাতে শান্তি ও নিরাপত্তা লাভ করবে। আর যে আল্লাহর দাসত্ব থেকে দূরে থাকবে, সে উভয় জগতের শান্তি ও নিরাপত্তা হারাবে।
এ সূরাটিও নবীর মক্কী জীবনের প্রথম দিকের একটি সূরা। মক্কার একটি বিখ্যাত গোত্রের নাম ‘কুরাইশ’। আল্লাহ তা‘আলা কুরাইশ বংশকে বিশেষ কিছু নিয়ামত দিয়ে গুণান্বিত করেছিলেন। যেমন- মুহাম্মাদ ﷺ এ গোত্রেই জন্মগ্রহণ করেন, এ গোত্রের লোকেরাই হাজীদেরকে পানি পান করানোর সৌভাগ্য লাভ করেছিল, হস্তী বাহিনীর উপর তারা বিজয়ী হয়েছিল, আরবে যখন জান-মালের কোন নিরাপত্তা ছিল না, তখন কাবাঘরের প্রতিবেশী হওয়ার কারণে তাদের বিশেষ সম্মান ছিল, তারা নিরাপদে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারত। তাদের প্রতি আল্লাহর এত অনুগ্রহ থাকা সত্ত্বেও তাদেরই বংশে জন্ম নেয়া নবী ﷺ যখন দ্বীনের দাওয়াত দিতে লাগলেন, তখন তারা নবী ﷺ এর সহযোগিতা করার পরিবর্তে তাঁর বিরোধিতা শুরু করে দিল- এমন সময় আল্লাহ তা‘আলা এ সূরা নাযিল করে তাদেরকে উপদেশ দিলেন যে, দেখো! আমার কতইনা অনুগ্রহ তোমরা ভোগ করছ। নিরাপদে ব্যবসা পরিচালনা করছ। সুতরাং যে কাবাঘরের প্রতিবেশী হওয়ার কারণে তোমাদের এত সম্মান এবং তোমরা যেজন্য গর্ববোধ করে থাক সেই কাবার মালিকের ইবাদাত করাই তোমাদের কর্তব্য। তাই আমার নবীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়াটা তোমাদের জন্য মোটেই সমীচীন নয়।
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ ‐ لِاِيْلَافِ قُرَيْشٍ ‐ اِيْلَافِهِمْ رِحْلَةَ الشِّتَآءِ وَالصَّيْفِ ‐ فَلْيَعْبُدُوْا رَبَّ هٰذَا الْبَيْتِ ‐ اَلَّذِيْۤ اَطْعَمَهُمْ مِّنْ جُوْعٍ وَّاٰمَنَهُمْ مِّنْ خَوْفٍ
উচ্চারণ : বিসমিল্লা-হির রাহমা-নির রাহীম- (১) লিইলা-ফি কুরাইশ, (২) ইলা-ফিহিম রিহ্লাতাশ্ শিতা-ই ওয়াস্ সায়ীফ, (৩) ফালইয়া‘বুদূ রাববাহাযাল্ বাইত, (৪) আল্লাযী আত্ব‘আমাহুম্ মিন্ জূ‘য়িওঁ ওয়া আ-মানাহুম মিন খাওফ।
শাব্দিক অর্থ : لِاِيْلَافِ অনুকূল (ও নিরাপদ) হওয়ার কারণে قُرَيْشٍ কুরাইশদের। اِيْلَافِهِمْ তাদের অনুকূল হওয়ার কারণে رِحْلَةَ الشِّتَآءِ وَالصَّيْفِ শীত ও গ্রীষ্ম কালের (ব্যবসায়িক) সফর। فَلْيَعْبُدُوْا অতএব তাদের ইবাদাত করা উচিত رَبَّ هٰذَا الْبَيْتِ এ ঘরের মালিকেরই। اَلَّذِيْۤ اَطْعَمَهُمْ যিনি তাদের খাবার সরবরাহ করেছেন مِّنْ جُوْعٍ ক্ষুধার্ত অবস্থায় وَاٰمَنَهُمْ এবং যিনি তাদেরকে নিরাপদ রেখেছেন مِّنْ خَوْفٍ ভয়-ভীতি থেকে।
অর্থ : পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি। ১. পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি।কুরাইশদের অনুকূল (ও নিরাপদ) হওয়ার কারণে। ২. অনুকূল হওয়ার কারণে তাদের শীত ও গ্রীষ্ম কালের (ব্যবসায়িক) সফর। ৩. অতএব তাদের এ ঘরের মালিকেরই ইবাদাত করা উচিত। ৪. যিনি ক্ষুধায় তাদের খাবার সরবরাহ করেছেন এবং তাদেরকে ভয়-ভীতি থেকে নিরাপদ রেখেছেন।
সূরার মৌলিক শিক্ষা :
(১) সত্যকে জানার পরও সত্যের বিরোধিতা করাটা উচিত নয়।
(২) যার প্রতি আল্লাহর নিয়ামত যতবেশি হবে, তার ততবেশি শুকরিয়া আদায় করা উচিত। আর শুকরিয়া আদায় করতে হবে আল্লাহর হুকুম পালন ও ইবাদাত বন্দেগীর মাধ্যমে।
(৩) যে আন্তরিকতার সহিত আল্লাহর ইবাদাত করবে, সে দুনিয়া ও আখিরাতে শান্তি ও নিরাপত্তা লাভ করবে। আর যে আল্লাহর দাসত্ব থেকে দূরে থাকবে, সে উভয় জগতের শান্তি ও নিরাপত্তা হারাবে।