১
মন দিয়ে নামায পড়ার উপায়
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৬
নামাযের মধ্যে মন এদিক সেদিক যায় কেন?
নামাযের মধ্যে বান্দার মন কোথা হতে কোথায় বিচরণ করে নামায আদায়কারী তা টেরও পায় না। তার কারণ হলো মানব মন কল্পনার রাজ্যে স্বাধীনভাবে বিচরণ করতে অভ্যস্ত। মনকে গভীর মনোযোগের সাথে কোন কাজে নিয়োজিত না রাখলে তা স্থির থাকে না। তাছাড়া শয়তান মানুষের চিরশত্রু, সে বান্দার নামায নষ্ট করার জন্য বিভিন্ন বিষয় নিয়ে উপস্থিত হয়। হাদীসে এসেছে,
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যখন নামাযের জন্য আযান দেয়া হয়, তখন শয়তান বায়ু ছাড়তে ছাড়তে পালিয়ে যায় যাতে আযানের শব্দ শুনতে না পায়। আযান শেষ হলে পুনরায় ফিরে আসে, পরে যখন ইকামত হয় তখন আবার পালিয়ে যায়। ইকামত শেষ হলে পুনরায় ফিরে আসে এবং বান্দার মনে নানা সন্দেহ-সংশয় সৃষ্টি করে বলতে থাকে- ‘‘এটা মনে করো, ঐটা মনে করো’’ অথচ এ সকল বিষয় নামাযে দাঁড়ানোর আগে মনে ছিল না, শেষ পর্যন্ত বান্দা কত রাক‘আত নামায আদায় করেছে তাও মনে থাকে না। [মুয়াত্তা ইমাম মালিক, হা/১৫২; সহীহ বুখারী, হা/৬০৮; সহীহ মুসলিম, হা/৮৮৫; আবু দাউদ, হা/৫১৬; মুসনাদে আহমাদ, হা/৮১২৪; সহীহ ইবনে হিববান, হা/১৭৫৪; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১৪০; মিশকাত, হা/৬৫৫।]
عَنْ عُثْمَانَ بْنَ اَبِى الْعَاصِ اَتَى النَّبِىَّ - - فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ اِنَّ الشَّيْطَانَ قَدْ حَالَ بَيْنِىْ وَبَيْنَ صَلَاتِىْ وَقِرَاءَتِىْ يَلْبِسُهَا عَلَىَّ . فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ -: ذَاكَ شَيْطَانٌ يُقَالُ لَهٗ خِنْزِبٌ فَاِذَا اَحْسَسْتَهٗ فَتَعَوَّذْ بِاللهِ مِنْهُ وَاتْفِلْ عَلٰى يَسَارِكَ ثَلَاثًا ‐ قَالَ فَفَعَلْتُ ذٰلِكَ فَاَذْهَبَهُ اللهُ عَنِّىْ
উসমান বিন আবুল আস (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদা তিনি নবী ﷺ এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! শয়তান আমার ও আমার নামায এবং কিরাআতের মাঝে গোলমাল সৃষ্টি করে। (বাঁচার উপায় কী?) নবী বললেন, ওটা হলো ‘খিনযাব’ নামক শয়তান। তুমি ঐরূপ অনুভব করলে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করবে এবং তোমার বাম দিকে তিন বার থুথু ফেলবে।’’ উসমান (রাঃ) বলেন, এরূপ করাতে আল্লাহ আমার নিকট থেকে শয়তানের কুমন্ত্রণা দূর করে দেন। [সহীহ মুসলিম, হা/৫৮৬৮; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৭৯২৮; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৭৫১৪; মু‘জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/৮২৮৩; মিশকাত, হা/৭৭।]
অতএব মনের স্বাধীন বিচরণ এবং শয়তানের কুমন্ত্রণার কারণে নামাযে মনোযোগ আসে না। তবে নামাযে মনকে আঁকড়ে ধরে রাখা একেবারে অসম্ভব কিছু নয়। কুরআনে আল্লাহ তা‘আলা বলেন-
﴿وَاسْتَعِيْنُوْا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ وَاِنَّهَا لَكَبِيْرَةٌ اِلَّا عَلَى الْخَاشِعِيْنَ ‐ - اَلَّذِيْنَ يَظُنُّوْنَ اَنَّهُمْ مُّلَاقُوْ رَبِّهِمْ وَاَنَّهُمْ اِلَيْهِ رَاجِعُوْنَ﴾
তোমরা ধৈর্য ও নামাযের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। আর এটি কষ্টকর কাজ, তবে যারা বিনয়ী তাদের জন্য কঠিন নয়। (বিনয়ী তারা) যারা এ কথা মনে করে যে, তাদের রবের সাথে তাদের সাক্ষাৎ করতে হবে এবং তার দিকেই ফিরে যেতে হবে। (সূরা বাকারা- ৪৫, ৪৬)
সুতরাং এ রোগের ঔষধ অনুযায়ী যারা খুশু-খুযূ ও মনের স্থিরতার সাথে নামায আদায় করে এবং এ জন্য কিছুটা চেষ্টা সাধনা করে তাদের পক্ষে নামাযে মনকে আটকিয়ে রাখা সম্ভব। মানুষের মন একসাথে দুটি কাজ করতে পারে না, একটি কাজ করলে সে অন্যটি ছাড়তে বাধ্য। তাই নামাযে দাঁড়ালে তাকে একটি কাজ করতে হবে। আর সে কাজ হলো নামায আদায়কারী নামাযের মধ্যে যা কিছু পড়বে- মন তা বুঝবে।
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যখন নামাযের জন্য আযান দেয়া হয়, তখন শয়তান বায়ু ছাড়তে ছাড়তে পালিয়ে যায় যাতে আযানের শব্দ শুনতে না পায়। আযান শেষ হলে পুনরায় ফিরে আসে, পরে যখন ইকামত হয় তখন আবার পালিয়ে যায়। ইকামত শেষ হলে পুনরায় ফিরে আসে এবং বান্দার মনে নানা সন্দেহ-সংশয় সৃষ্টি করে বলতে থাকে- ‘‘এটা মনে করো, ঐটা মনে করো’’ অথচ এ সকল বিষয় নামাযে দাঁড়ানোর আগে মনে ছিল না, শেষ পর্যন্ত বান্দা কত রাক‘আত নামায আদায় করেছে তাও মনে থাকে না। [মুয়াত্তা ইমাম মালিক, হা/১৫২; সহীহ বুখারী, হা/৬০৮; সহীহ মুসলিম, হা/৮৮৫; আবু দাউদ, হা/৫১৬; মুসনাদে আহমাদ, হা/৮১২৪; সহীহ ইবনে হিববান, হা/১৭৫৪; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১৪০; মিশকাত, হা/৬৫৫।]
عَنْ عُثْمَانَ بْنَ اَبِى الْعَاصِ اَتَى النَّبِىَّ - - فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ اِنَّ الشَّيْطَانَ قَدْ حَالَ بَيْنِىْ وَبَيْنَ صَلَاتِىْ وَقِرَاءَتِىْ يَلْبِسُهَا عَلَىَّ . فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ -: ذَاكَ شَيْطَانٌ يُقَالُ لَهٗ خِنْزِبٌ فَاِذَا اَحْسَسْتَهٗ فَتَعَوَّذْ بِاللهِ مِنْهُ وَاتْفِلْ عَلٰى يَسَارِكَ ثَلَاثًا ‐ قَالَ فَفَعَلْتُ ذٰلِكَ فَاَذْهَبَهُ اللهُ عَنِّىْ
উসমান বিন আবুল আস (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদা তিনি নবী ﷺ এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! শয়তান আমার ও আমার নামায এবং কিরাআতের মাঝে গোলমাল সৃষ্টি করে। (বাঁচার উপায় কী?) নবী বললেন, ওটা হলো ‘খিনযাব’ নামক শয়তান। তুমি ঐরূপ অনুভব করলে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করবে এবং তোমার বাম দিকে তিন বার থুথু ফেলবে।’’ উসমান (রাঃ) বলেন, এরূপ করাতে আল্লাহ আমার নিকট থেকে শয়তানের কুমন্ত্রণা দূর করে দেন। [সহীহ মুসলিম, হা/৫৮৬৮; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৭৯২৮; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৭৫১৪; মু‘জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/৮২৮৩; মিশকাত, হা/৭৭।]
অতএব মনের স্বাধীন বিচরণ এবং শয়তানের কুমন্ত্রণার কারণে নামাযে মনোযোগ আসে না। তবে নামাযে মনকে আঁকড়ে ধরে রাখা একেবারে অসম্ভব কিছু নয়। কুরআনে আল্লাহ তা‘আলা বলেন-
﴿وَاسْتَعِيْنُوْا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ وَاِنَّهَا لَكَبِيْرَةٌ اِلَّا عَلَى الْخَاشِعِيْنَ ‐ - اَلَّذِيْنَ يَظُنُّوْنَ اَنَّهُمْ مُّلَاقُوْ رَبِّهِمْ وَاَنَّهُمْ اِلَيْهِ رَاجِعُوْنَ﴾
তোমরা ধৈর্য ও নামাযের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। আর এটি কষ্টকর কাজ, তবে যারা বিনয়ী তাদের জন্য কঠিন নয়। (বিনয়ী তারা) যারা এ কথা মনে করে যে, তাদের রবের সাথে তাদের সাক্ষাৎ করতে হবে এবং তার দিকেই ফিরে যেতে হবে। (সূরা বাকারা- ৪৫, ৪৬)
সুতরাং এ রোগের ঔষধ অনুযায়ী যারা খুশু-খুযূ ও মনের স্থিরতার সাথে নামায আদায় করে এবং এ জন্য কিছুটা চেষ্টা সাধনা করে তাদের পক্ষে নামাযে মনকে আটকিয়ে রাখা সম্ভব। মানুষের মন একসাথে দুটি কাজ করতে পারে না, একটি কাজ করলে সে অন্যটি ছাড়তে বাধ্য। তাই নামাযে দাঁড়ালে তাকে একটি কাজ করতে হবে। আর সে কাজ হলো নামায আদায়কারী নামাযের মধ্যে যা কিছু পড়বে- মন তা বুঝবে।