hadith book logo

মন দিয়ে নামায পড়ার উপায়

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪৭

তাশাহ্হুদ

اَلتَّحِيَّاتُ لِلّٰهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ اَلسَّلَامُ عَلَيْكَ اَيُّهَا النَّبِىُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهٗ، اَلسَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلٰى عِبَادِ اللهِ الصَّالِحِيْنَ اَشْهَدُ اَنْ لَّا اِلٰهَ اِلَّا اللهُ وَاَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهٗ وَرَسُوْلُهٗ

উচ্চারণ : আত্তাহিয়্যা-তু লিল্লা-হি ওয়াস্সালাওয়া-তু ওয়াত্ব ত্বায়্যিবা-ত, আসসালামু ‘আলাইকা আয়্যুহান্নাবিয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লা-হি ওয়াবারাকা-তুহ। আসসালা-মু ‘আলাইনা ওয়া‘আলা ‘ইবাদিল্লা-হিস সা-লিহীন। আশহাদু আল্লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান ‘আবদুহু ওয়ারাসূলুহ।

শাব্দিক অর্থ : اَلتَّحِيَّاتُ সকল সম্মান, لِلّٰهِ আল্লাহর জন্য, وَالصَّلَوَاتُ সকল প্রার্থনা, وَالطَّيِّبَاتُ সকল পবিত্র বাণীসমূহ (সবই আল্লাহর জন্য), اَلسَّلَامُ শামিত্ম, عَلَيْكَ আপনার প্রতি (বর্ষিত হোক), اَيُّهَا النَّبِىُّ হে নবী! وَرَحْمَةُ اللهِ এবং আল্লাহর রহমত, وَبَرَكَاتُهٗ এবং তাঁর বরকত (আপনার উপর বর্ষিত হোক), اَلسَّلَامُ عَلَيْنَا শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের উপর, وَعَلٰى عِبَادِ اللهِ الصَّالِحِيْنَ আর আল্লাহর সকল নেক বান্দাদের উপর, اَشْهَدُ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, اَنْ لَّا اِلٰهَ কোন প্রকৃত মাবুদ নেই, اِلَّا اللهُ আল্লাহ ছাড়া, وَاَشْهَدُ আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি, اَنَّ مُحَمَّدًا অবশ্যই মুহাম্মাদ, عَبْدُهٗ তাঁর বান্দা, وَرَسُوْلُهٗ এবং তাঁর রাসূল।

অর্থ : (আমার মৌখিক ও দৈহিক) সকল প্রশংসা, নামায ও পবিত্র বাক্যসমূহ আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার উপর আল্লাহর শান্তি, রহমত ও বরকত অবতীর্ণ হোক। আমাদের উপর এবং নেক বান্দাদের উপরও শান্তি অবতীর্ণ হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন প্রকৃত মাবুদ নেই এবং আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ ﷺ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। [সহীহ বুখারী, হা/৮৩১; সহীহ মুসলিম, হা/৯২৪; তিরমিযী, হা/২৮৯; নাসাঈ, হা/১১৬২; ইবনে মাজাহ, হা/৮৯৯; মিশকাত, হা/৯০৯; আবু দাউদ, হা/৯৬৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/৪০০৬; ।]

তাশাহ্হুদ পড়ার সময় বিনয়ের সাথে বসে প্রথমে আল্লাহর গুণগান করতে হয় এভাবে اَلتَّحِيَّاتُ للهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ ‘‘(আমার মৌখিক ও দৈহিক) সকল প্রশংসা, নামায ও পবিত্র বাক্যসমূহ সবই আল্লাহর জন্য।’’ এরপর নবী ﷺ এর কথা স্মরণ করে তাঁর প্রতি সালাম জানাই এভাবে اَلسَّلَامُ عَلَيْكَ اَيُّهَا النَّبِىُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهٗ ‘‘হে নবী! আপনার প্রতি শান্তি (বর্ষিত হোক), আল্লাহর রহমত ও বরকত অবতীর্ণ হোক।’’ এরপর আমরা নিজেদের প্রতি এবং সকল সৎকর্মশীল বান্দাদের প্রতি সালাম পেশ করি : اَلسَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلٰى عِبَادِ اللهِ الصَّالِحِيْنَ ‘‘শান্তি নাযিল হোক আমাদের প্রতি এবং আল্লাহর সকল নেক বান্দাদের প্রতি।’’ নবী ﷺ বলেন, এ দু‘আ আসমান ও জমিনে যত নেক বান্দা আছেন, সকলকে অন্তর্ভুক্ত করে। [সহীহ বুখারী, হা/৮৩১; সহীহ মুসলিম, হা/৯২৪।]

তারপর আমরা আল্লাহর একত্ববাদ ও নবী ﷺ এর নবুওতের স্বীকৃতি দিয়ে আমাদের ঈমানকে তাজা করি - اَشْهَدُ اَنْ لَّا اِلٰهَ اِلَّا اللهُ وَاَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهٗ وَرَسُوْلُهٗ ‘‘আমি সাক্ষ্য দিচিছ যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মাবুদ নেই, মুহাম্মাদ ﷺ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।’’