hadith book logo

মন দিয়ে নামায পড়ার উপায়

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬৬

সূরা নাসর

নাযিলের সময়কাল : পূর্ণাঙ্গ সূরা হিসেবে নাযিলকৃত সর্বশেষ সূরা হচ্ছে এটি। এটি রাসূলুল্লাহ ﷺ এর ইন্তেকালের কিছু দিন পূর্বে নাযিল হয়। ইবনে আববাস (রাঃ) বর্ণনা করেন এটি কুরআনের সর্বশেষ সূরা। এর পরে আর কোন পূর্ণাঙ্গ সূরা নাযিল হয়নি। [সহীহ মুসলিম, হা/৭৭৩১; মু‘জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/১০৫৮৮।]

সূরার শানে নুযূল ও আলোচ্য বিষয় : মহান আল্লাহ বিশ্বনবী ﷺ কে যে বিরাট দায়িত্ব দিয়ে দুনিয়াতে প্রেরণ করেছিলেন, নবী ﷺ নিষ্ঠার সাথে সে দায়িত্ব পালন করেন। ইসলামের বিজয় শুরু হতে লাগল। মক্কা বিজয়ের ফলে সমগ্র মক্কা ইসলামের দখলে আসলো। আগে মানুষ একা একা ইসলামে দাখিল হতো- এখন তারা দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করতে লাগল। মদিনায় ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম হলো, রাসূলুল্লাহ ﷺ রাষ্ট্র প্রধান হলেন। লক্ষ লক্ষ সাহাবীকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ বিদায় হজ্জ পালন করলেন। এভাবে আল্লাহ তা‘আলা ইসলামকে পূর্ণতায় পৌঁছে দিলেন।

এবার আল্লাহ তা‘আলা নবী ﷺ কে দুনিয়া থেকে উঠিয়ে নিবেন, ঠিক এমন সময় তিনি এ সূরাটি নাযিল করে নবী ﷺ কে বলে দিলেন যে, দুনিয়ার রাজা-বাদশাদের বিজয় হলে তারা উৎসব পালন করে, আমোদ-প্রমোদে ব্যস্ত হয়ে যায়; আর আপনার ব্যাপার কিন্তু আলাদা। আমি আপনাকে বিজয় দিয়েছি, এখন আপনি আমার প্রশংসা করুন- আর আমার কাছে ইস্তিগফার করুন।

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ ‐ اِذَا جَآءَ نَصْرُ اللهِ وَالْفَتْحُ ‐ وَرَاَيْتَ النَّاسَ يَدْخُلُوْنَ فِيْ دِيْنِ اللهِ اَفْوَاجًا ‐ فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرْهُ اِنَّهٗ كَانَ تَوَّابًا

উচ্চারণ : বিসমিল্লা-হির রাহমা-নির রাহীম- (১) ইযা জা-আ নাস্রুল্লাহি ওয়াল্ ফাত্হু, (২) ওয়ারা আইতান্নাসা ইয়াদ্খুলূনা ফী দ্বীনিল্লাহি আফ্ওয়াজা, (৩) ফাসাব্বিহ বিহাম্দি রাবিবকা ওয়াস্তাগ্ফিরহু ইন্নাহূ কানা তাও্ওয়াবা।

শাব্দিক অর্থ : اِذَا جَآءَ যখন আসবে نَصْرُ اللهِ আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য وَالْفَتْحُ ও বিজয় । وَرَاَيْتَ النَّاسَ তখন মানুষদেরকে তুমি দেখবে, يَدْخُلُوْنَ তারা প্রবেশ করছে فِيْ دِيْنِ اللهِ আল্লাহর দ্বীনে اَفْوَاجًا দলে দলে। فَسَبِّحْ অতএব তুমি তাসবীহ পাঠ করো بِحَمْدِ প্রশংসার সাথে رَبِّكَ তোমার মালিকের وَاسْتَغْفِرْهُ এবং তার কাছেই ক্ষমা প্রার্থনা করো; اِنَّهٗ অবশ্যই তিনি كَانَ تَوَّابًا তওবা কবুলকারী।

অর্থ : পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি। ১. যখন আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য ও বিজয় আসবে। ২. তখন মানুষদেরকে তুমি দেখবে, তারা দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করছে। ৩. অতঃপর তুমি তোমার মালিকের প্রশংসা করো এবং তার কাছেই ক্ষমা প্রার্থনা করো; অবশ্যই তিনি তওবা কবুলকারী।

সূরার মৌলিক শিক্ষা :

(১) সফলতা ও বিজয় শুধুমাত্র শক্তি ও জনবলের মাধ্যমে অর্জিত হয় না; বরং আল্লাহর সাহায্য দ্বারাই অর্জিত হয়।

(২) আল্লাহ কোন বান্দাকে নিয়ামত দান করলে সেজন্য গর্বিত না হয়ে বরং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা উচিত।

(৩) কোন ব্যক্তি ইসলামের যত বড় খেদমতই করুক না কেন- এজন্য তার পক্ষে গর্ব করা উচিত নয়; বরং একে আল্লাহর অনুগ্রহ জেনে তাঁর কাছে নত হয়ে থাকা ও তাঁর শুকরিয়া আদায় করাই ইসলামের শিক্ষা।

(৪) এ সূরা নাযিল হওয়ার পর নবী ﷺ রুকূ ও সিজদায় ‘‘সুবহানাকা আল্লা-হুম্মা রাববানা ওয়াবিহাম্দিকা আল্লা-হুম্মাগ্ ফিরলী’’ বেশি বেশি পড়তেন। আমরাও এ দু‘আটির উপর আমল করব। [সহীহ বুখারী, হা/৮১৭; সহীহ মুসলিম, হা/১১১৩; নাসাঈ, হা/১০৪৭।]