১
মন দিয়ে নামায পড়ার উপায়
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৬৭
সূরা লাহাব
শানে নুযূল : এ সূরাটি নবুওয়াতের প্রথম দিকে মক্কায় অবতীর্ণ হয়। ইবনে আববাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী ﷺ এর প্রতি যখন এ আয়াত নাযিল হয়-
﴿وَاَنْذِرْ عَشِيْرَتَكَ الْاَقْرَبِيْنَ﴾
আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দেরকে আল্লাহর আযাবের ভয় দেখান। (সূরা শু‘আরা- ২১৪)
তখন মহানবী ﷺ সাফা পাহাড়ে আরোহণ করে চিৎকার করে বলেন, صَبَاحَاهْ يَا (হায়রে সকাল বেলার বিপদ!) সে সময় আরবের নিয়ম ছিল কোন গোত্রের উপর আক্রমণের ভয় হলে লোকেরা সকালে পাহাড়ে উঠে এ রকম চিৎকার দিত। এতে সবাই একস্থানে সমবেত হয়ে যেত।
নবীর এ শব্দ শুনে তারা পাহাড়ের পাশে এসে জমা হলে নবী ﷺ বললেন, হে বনু হাশেম! হে বনু আবদুল মুত্তালিব! হে অমুক...! আমি যদি তোমাদেরকে এ সংবাদ দেই যে, পাহাড়ের ঐ পাশে এক শত্রু বাহিনী তোমাদের উপর আক্রমণ চালানোর জন্য এসেছে তবে তোমরা আমার কথা বিশ্বাস করবে কি? তারা বলল, করব। কারণ আমরা তোমাকে কোনদিন মিথ্যা বলতে শুনিনি। এরপর নবী ﷺ বললেন,
فَاِنِّىْ نَذِيْرٌ لَّكُمْ بَيْنَ يَدَىْ عَذَابٍ شَدِيْدٌ
তাহলে আমি তোমাদেরকে সতর্ক করে দিচ্ছি, আগামীতে কঠিন আযাব আসছে (তোমাদের শির্ক ও কুফ্রের কারণে)।
তখন আবু লাহাব বলে উঠল, তোমার সর্বনাশ হোক! তুমি কি এ জন্য আমাদেরকে ডেকেছিলে? [সহীহ বুখারী, হা/৪৮০১; তিরমিযী, হা/৩৩৬৩।] এপ্রসঙ্গে সূরাটি নাযিল হয়।
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ ‐ تَبَّتْ يَدَاۤ اَبِيْ لَهَبٍ وَّتَبَّ ‐ مَاۤ اَغْنٰى عَنْهُ مَالُهٗ وَمَا كَسَبَ ‐ سَيَصْلٰى نَارًا ذَاتَ لَهَبٍ ‐ وَّامْرَاَتُهٗ حَمَّالَةَ الْحَطَبِ ‐ فِيْ جِيْدِهَا حَبْلٌ مِّنْ مَّسَدٍ
উচ্চারণ : বিসমিল্লা-হির রাহমা-নির রাহীম- (১) তাব্বাত্ ইয়াদা আবী লাহাবিওঁ ওয়া তাববা, (২) মা আগ্না-আন্হু মা-লুহূ ওয়ামা-কাসাব, (৩) সাইয়াস্লা না-রান্ যা-তা লাহাব, (৪) ওয়াম্রাআতুহূ হাম্মা-লাতাল হাত্বাব, (৫) ফী জীদিহা হাব্লুম মিম্ মাসাদ।
শাব্দিক অর্থ : تَبَّتْ ধ্বংস হয়ে যাক يَدَا দু’হাতই اَبِيْ لَهَبٍ আবু লাহাবের, وَّتَبَّ সে নিজেও। مَاۤ اَغْنٰى عَنْهُ তার কোন কাজে আসেনি مَالُهٗ তার ধনসম্পদ وَمَا كَسَبَ ও যা সে আয়-উপার্জন করেছিল। سَيَصْلٰى অচিরেই সে প্রবেশ করবে نَارًا আগুনে ذَاتَ لَهَبٍ যা লেলিহান শিখা বিশিষ্ট। وَّامْرَاَتُهٗ সাথে থাকবে তার স্ত্রীও حَمَّالَةَ যে বহন করত اَلْحَطَبِ কাঠের বোঝা। فِيْ جِيْدِهَا তার গলায় থাকবে حَبْلٌ রশি مِّنْ مَّسَدٍ খেজুর পাতার পাকানো।
অর্থ : পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি। ১. আবু লাহাবের (দুনিয়া-আখিরাতে) দু’হাতই ধ্বংস হয়ে যাক, ধবংস হয়ে যাক সে নিজেও। ২. তার ধনসম্পদ ও আয়-উপার্জন তার কোন কাজে আসেনি। ৩. অচিরেই সে লেলিহান শিখা বিশিষ্ট আগুনে প্রবেশ করবে। ৪. সাথে থাকবে জ্বালানি কাঠের বোঝা বহনকারিণী তার স্ত্রীও। ৫. (অবস্থা দেখে মনে হবে) তার গলায় যেন খেজুর পাতার পাকানো শক্ত কোন রশি জড়িয়ে আছে।
সূরা লাহাবের হেদায়াত ও মৌলিক শিক্ষা :
(১) ইসলাম ও মুসলিমদের সাথে দুশমনি করার পরিণাম হলো উভয় জগতে নিজের ধ্বংস ডেকে আনা।
(২) মাল আর সন্তান কোন কাজে আসবে না- যদি এসব আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের কাজে ব্যবহার না করা হয়।
(৩) পাপ কাজে যারা একে অন্যের সহযোগী হয় কিয়ামতের দিন তাদের সকলকে একত্র করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
(৪) নিজের ঈমান ও আমল না থাকলে হাশরের দিনে আত্মীয়স্বজন কোন উপকারে আসবে না।
(৫) যারাই এ পৃথিবীতে ইসলামের বিরোধিতা করেছে, তারা কেউই এ দুনিয়া থেকে সম্মানে বিদায় নিতে পারেনি। ভবিষ্যতেও কেউ পারবে না, আর পরকালের শাস্তি তো আছেই।
﴿وَاَنْذِرْ عَشِيْرَتَكَ الْاَقْرَبِيْنَ﴾
আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দেরকে আল্লাহর আযাবের ভয় দেখান। (সূরা শু‘আরা- ২১৪)
তখন মহানবী ﷺ সাফা পাহাড়ে আরোহণ করে চিৎকার করে বলেন, صَبَاحَاهْ يَا (হায়রে সকাল বেলার বিপদ!) সে সময় আরবের নিয়ম ছিল কোন গোত্রের উপর আক্রমণের ভয় হলে লোকেরা সকালে পাহাড়ে উঠে এ রকম চিৎকার দিত। এতে সবাই একস্থানে সমবেত হয়ে যেত।
নবীর এ শব্দ শুনে তারা পাহাড়ের পাশে এসে জমা হলে নবী ﷺ বললেন, হে বনু হাশেম! হে বনু আবদুল মুত্তালিব! হে অমুক...! আমি যদি তোমাদেরকে এ সংবাদ দেই যে, পাহাড়ের ঐ পাশে এক শত্রু বাহিনী তোমাদের উপর আক্রমণ চালানোর জন্য এসেছে তবে তোমরা আমার কথা বিশ্বাস করবে কি? তারা বলল, করব। কারণ আমরা তোমাকে কোনদিন মিথ্যা বলতে শুনিনি। এরপর নবী ﷺ বললেন,
فَاِنِّىْ نَذِيْرٌ لَّكُمْ بَيْنَ يَدَىْ عَذَابٍ شَدِيْدٌ
তাহলে আমি তোমাদেরকে সতর্ক করে দিচ্ছি, আগামীতে কঠিন আযাব আসছে (তোমাদের শির্ক ও কুফ্রের কারণে)।
তখন আবু লাহাব বলে উঠল, তোমার সর্বনাশ হোক! তুমি কি এ জন্য আমাদেরকে ডেকেছিলে? [সহীহ বুখারী, হা/৪৮০১; তিরমিযী, হা/৩৩৬৩।] এপ্রসঙ্গে সূরাটি নাযিল হয়।
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ ‐ تَبَّتْ يَدَاۤ اَبِيْ لَهَبٍ وَّتَبَّ ‐ مَاۤ اَغْنٰى عَنْهُ مَالُهٗ وَمَا كَسَبَ ‐ سَيَصْلٰى نَارًا ذَاتَ لَهَبٍ ‐ وَّامْرَاَتُهٗ حَمَّالَةَ الْحَطَبِ ‐ فِيْ جِيْدِهَا حَبْلٌ مِّنْ مَّسَدٍ
উচ্চারণ : বিসমিল্লা-হির রাহমা-নির রাহীম- (১) তাব্বাত্ ইয়াদা আবী লাহাবিওঁ ওয়া তাববা, (২) মা আগ্না-আন্হু মা-লুহূ ওয়ামা-কাসাব, (৩) সাইয়াস্লা না-রান্ যা-তা লাহাব, (৪) ওয়াম্রাআতুহূ হাম্মা-লাতাল হাত্বাব, (৫) ফী জীদিহা হাব্লুম মিম্ মাসাদ।
শাব্দিক অর্থ : تَبَّتْ ধ্বংস হয়ে যাক يَدَا দু’হাতই اَبِيْ لَهَبٍ আবু লাহাবের, وَّتَبَّ সে নিজেও। مَاۤ اَغْنٰى عَنْهُ তার কোন কাজে আসেনি مَالُهٗ তার ধনসম্পদ وَمَا كَسَبَ ও যা সে আয়-উপার্জন করেছিল। سَيَصْلٰى অচিরেই সে প্রবেশ করবে نَارًا আগুনে ذَاتَ لَهَبٍ যা লেলিহান শিখা বিশিষ্ট। وَّامْرَاَتُهٗ সাথে থাকবে তার স্ত্রীও حَمَّالَةَ যে বহন করত اَلْحَطَبِ কাঠের বোঝা। فِيْ جِيْدِهَا তার গলায় থাকবে حَبْلٌ রশি مِّنْ مَّسَدٍ খেজুর পাতার পাকানো।
অর্থ : পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি। ১. আবু লাহাবের (দুনিয়া-আখিরাতে) দু’হাতই ধ্বংস হয়ে যাক, ধবংস হয়ে যাক সে নিজেও। ২. তার ধনসম্পদ ও আয়-উপার্জন তার কোন কাজে আসেনি। ৩. অচিরেই সে লেলিহান শিখা বিশিষ্ট আগুনে প্রবেশ করবে। ৪. সাথে থাকবে জ্বালানি কাঠের বোঝা বহনকারিণী তার স্ত্রীও। ৫. (অবস্থা দেখে মনে হবে) তার গলায় যেন খেজুর পাতার পাকানো শক্ত কোন রশি জড়িয়ে আছে।
সূরা লাহাবের হেদায়াত ও মৌলিক শিক্ষা :
(১) ইসলাম ও মুসলিমদের সাথে দুশমনি করার পরিণাম হলো উভয় জগতে নিজের ধ্বংস ডেকে আনা।
(২) মাল আর সন্তান কোন কাজে আসবে না- যদি এসব আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের কাজে ব্যবহার না করা হয়।
(৩) পাপ কাজে যারা একে অন্যের সহযোগী হয় কিয়ামতের দিন তাদের সকলকে একত্র করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
(৪) নিজের ঈমান ও আমল না থাকলে হাশরের দিনে আত্মীয়স্বজন কোন উপকারে আসবে না।
(৫) যারাই এ পৃথিবীতে ইসলামের বিরোধিতা করেছে, তারা কেউই এ দুনিয়া থেকে সম্মানে বিদায় নিতে পারেনি। ভবিষ্যতেও কেউ পারবে না, আর পরকালের শাস্তি তো আছেই।