১
মন দিয়ে নামায পড়ার উপায়
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৬৩
সূরা মাউন
শানে নুযূল : মক্কার কাফিররা পরকাল বিশ্বাস করত না। আবু জাহেল, আবু সুফিয়ান, আস ইবনে ওয়াইল এ জাতীয় বড় বড় কাফিররা এতীমের হক আদায় করত না, গরীব-মিসকীনদেরকে দান করত না। তাদের এ সকল অভ্যাসের নিন্দা করে আল্লাহ তা‘আলা প্রথম তিনটি আয়াত নাযিল করেন। আর মদিনায় মুনাফিকী স্বভাবের কিছু লোক ছিল- তারা লোক দেখানো ইবাদাত করত, নামাযে অবহেলা করত, তাদেরকে সতর্ক করে শেষ চারটি আয়াত নাযিল হয়। [আসবাবুন নুযুল, আবুল হাসান, ১/৪৫৬।]
সূরা মাউনের আলোচ্য বিষয় : আখিরাতে আল্লাহর সামনে উপস্থিত হয়ে দুনিয়ার কাজকর্মের হিসাব দিতে হবে- এ বিশ্বাস যাদের নেই তারা যে কেমন খারাপ চরিত্রের অধিকারী হতে পারে এ সূরায় সে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে এবং মুনাফিকী আচরণকারীদেরকে সতর্ক করে শাস্তির বাণী শোনানো হয়েছে।
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ ‐ اَرَاَيْتَ الَّذِيْ يُكَذِّبُ بِالدِّيْنِ ‐ فَذٰلِكَ الَّذِيْ يَدُعُّ الْيَتِيْمَ ‐ وَلَا يَحُضُّ عَلٰى طَعَامِ الْمِسْكِيْنِ ‐ فَوَيْلٌ لِّلْمُصَلِّيْنَ ‐ اَلَّذِيْنَ هُمْ عَنْ صَلَاتِهِمْ سَاهُوْنَ ‐ اَلَّذِيْنَ هُمْ يُرَآءُوْنَ ‐ وَيَمْنَعُوْنَ الْمَاعُوْنَ
উচ্চারণ : বিসমিল্লা-হির রাহমা-নির রাহীম- (১) আরাআইতাল্লাযী ইউকায্যিবু বিদ্দীন, (২) ফাযা-লিকাল্লাযী ইয়াদুও্‘উল ইয়াতীম, (৩) ওয়ালা ইয়াহুয্যু ‘আলা ত্ব‘আ-মিল মিসকীন, (৪) ফাওয়াইলুল লিল মুসাল্লীন, (৫) আল্লাযীনা হুম ‘আন্ সালাতিহিম্ সা-হূন, (৬) আল্লাযীনাহুম ইউরা-উন, (৭) ওয়াইয়াম্না‘উনাল্ মা-‘উন।
শাব্দিক অর্থ : اَرَاَيْتَ তুমি কি তাকে দেখনি اَلَّذِيْ يُكَذِّبُ بِالدِّيْنِ যে শেষ বিচারের দিনকে অস্বীকার করে? فَذٰلِكَ এ তো হচ্ছে সেই ব্যক্তি, اَلَّذِيْ يَدُعُّ যে গলা ধাক্কা দেয় اَلْيَتِيْمَ এতীমকে। وَلَا يَحُضُّ সে (অন্যদের) উৎসাহ দেয় না عَلٰى طَعَامِ খাবার দিতে اَلْمِسْكِيْنِ মিসকীনদেরকে। فَوَيْلٌ (মর্মান্তিক) দুর্ভোগ রয়েছে لِّلْمُصَلِّيْنَ সেসব নামায আদায়কারীদের জন্য। اَلَّذِيْنَ هُمْ যারা عَنْ صَلَاتِهِمْ নিজেদের নামায থেকে سَاهُوْنَ উদাসীন থাকে। الَّذِيْنَ هُمْ যারা يُرَآءُوْنَ (যাবতীয় কাজকর্ম শুধু) প্রদর্শনীর জন্যই করে। وَيَمْنَعُوْنَ এবং তারা বিরত থাকে اَلْمَاعُوْنَ ছোটখাটো জিনিসপত্র (সাহায্য দেয়া) দেয়া থেকে।
অর্থ : পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি। ১. তুমি কি সে ব্যক্তির কথা (কখনো) ভেবে দেখেছ! যে শেষ বিচারের দিনকে অস্বীকার করে। ২. সে হচ্ছে ঐ ব্যক্তি, যে (নিরীহ) এতীমকে গলা ধাক্কা দেয়, ৩. মিসকীনদের খাবার দিতে কখনো সে (অন্যদের) উৎসাহ দেয় না, ৪. (মর্মান্তিক) দুর্ভোগ রয়েছে সেসব নামায আদায়কারীদের জন্য। ৫. যারা নিজেদের নামায থেকে উদাসীন থাকে। ৬. তারা যাবতীয় কাজকর্ম শুধু প্রদর্শনীর জন্যই করে। ৭. এবং ছোটখাটো জিনিস পর্যন্ত (অন্যদেরকে) দেয়া থেকে বিরত থাকে।
সূরার মৌলিক শিক্ষা :
(১) আখিরাতের হিসাব-নিকাশের বিশ্বাস এবং ভয় সকলেরই থাকতে হবে; নতুবা মানুষের চরিত্র সংশোধন হবে না।
(২) এতীমের হক আদায় করা অভিভাবকদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। গরীবদের হক আদায় করতে হবে এবং তাদেরকে সহযোগিতা করতে হবে। এ কাজে একে অপরকে উৎসাহিত করতে হবে।
(৩) ইবাদাতের ক্ষেত্রে লোক দেখানো মনোভাব ও মুনাফিকী আচরণ পরিহার করতে হবে।
(৪) কৃপণতার অভ্যাস দূর করতে হবে। যাকাত, উশর ও ফিতরা এসব আদায় করতেই হবে- এছাড়াও মানবতার খাতিরে পরস্পরের মধ্যে যেসকল জিনিস আদান-প্রদান করতে হয় বা যেসব সহযোগিতা করতে হয় তাতেও সংকীর্ণমনা হওয়া উচিত নয়।
সূরা মাউনের আলোচ্য বিষয় : আখিরাতে আল্লাহর সামনে উপস্থিত হয়ে দুনিয়ার কাজকর্মের হিসাব দিতে হবে- এ বিশ্বাস যাদের নেই তারা যে কেমন খারাপ চরিত্রের অধিকারী হতে পারে এ সূরায় সে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে এবং মুনাফিকী আচরণকারীদেরকে সতর্ক করে শাস্তির বাণী শোনানো হয়েছে।
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ ‐ اَرَاَيْتَ الَّذِيْ يُكَذِّبُ بِالدِّيْنِ ‐ فَذٰلِكَ الَّذِيْ يَدُعُّ الْيَتِيْمَ ‐ وَلَا يَحُضُّ عَلٰى طَعَامِ الْمِسْكِيْنِ ‐ فَوَيْلٌ لِّلْمُصَلِّيْنَ ‐ اَلَّذِيْنَ هُمْ عَنْ صَلَاتِهِمْ سَاهُوْنَ ‐ اَلَّذِيْنَ هُمْ يُرَآءُوْنَ ‐ وَيَمْنَعُوْنَ الْمَاعُوْنَ
উচ্চারণ : বিসমিল্লা-হির রাহমা-নির রাহীম- (১) আরাআইতাল্লাযী ইউকায্যিবু বিদ্দীন, (২) ফাযা-লিকাল্লাযী ইয়াদুও্‘উল ইয়াতীম, (৩) ওয়ালা ইয়াহুয্যু ‘আলা ত্ব‘আ-মিল মিসকীন, (৪) ফাওয়াইলুল লিল মুসাল্লীন, (৫) আল্লাযীনা হুম ‘আন্ সালাতিহিম্ সা-হূন, (৬) আল্লাযীনাহুম ইউরা-উন, (৭) ওয়াইয়াম্না‘উনাল্ মা-‘উন।
শাব্দিক অর্থ : اَرَاَيْتَ তুমি কি তাকে দেখনি اَلَّذِيْ يُكَذِّبُ بِالدِّيْنِ যে শেষ বিচারের দিনকে অস্বীকার করে? فَذٰلِكَ এ তো হচ্ছে সেই ব্যক্তি, اَلَّذِيْ يَدُعُّ যে গলা ধাক্কা দেয় اَلْيَتِيْمَ এতীমকে। وَلَا يَحُضُّ সে (অন্যদের) উৎসাহ দেয় না عَلٰى طَعَامِ খাবার দিতে اَلْمِسْكِيْنِ মিসকীনদেরকে। فَوَيْلٌ (মর্মান্তিক) দুর্ভোগ রয়েছে لِّلْمُصَلِّيْنَ সেসব নামায আদায়কারীদের জন্য। اَلَّذِيْنَ هُمْ যারা عَنْ صَلَاتِهِمْ নিজেদের নামায থেকে سَاهُوْنَ উদাসীন থাকে। الَّذِيْنَ هُمْ যারা يُرَآءُوْنَ (যাবতীয় কাজকর্ম শুধু) প্রদর্শনীর জন্যই করে। وَيَمْنَعُوْنَ এবং তারা বিরত থাকে اَلْمَاعُوْنَ ছোটখাটো জিনিসপত্র (সাহায্য দেয়া) দেয়া থেকে।
অর্থ : পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি। ১. তুমি কি সে ব্যক্তির কথা (কখনো) ভেবে দেখেছ! যে শেষ বিচারের দিনকে অস্বীকার করে। ২. সে হচ্ছে ঐ ব্যক্তি, যে (নিরীহ) এতীমকে গলা ধাক্কা দেয়, ৩. মিসকীনদের খাবার দিতে কখনো সে (অন্যদের) উৎসাহ দেয় না, ৪. (মর্মান্তিক) দুর্ভোগ রয়েছে সেসব নামায আদায়কারীদের জন্য। ৫. যারা নিজেদের নামায থেকে উদাসীন থাকে। ৬. তারা যাবতীয় কাজকর্ম শুধু প্রদর্শনীর জন্যই করে। ৭. এবং ছোটখাটো জিনিস পর্যন্ত (অন্যদেরকে) দেয়া থেকে বিরত থাকে।
সূরার মৌলিক শিক্ষা :
(১) আখিরাতের হিসাব-নিকাশের বিশ্বাস এবং ভয় সকলেরই থাকতে হবে; নতুবা মানুষের চরিত্র সংশোধন হবে না।
(২) এতীমের হক আদায় করা অভিভাবকদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। গরীবদের হক আদায় করতে হবে এবং তাদেরকে সহযোগিতা করতে হবে। এ কাজে একে অপরকে উৎসাহিত করতে হবে।
(৩) ইবাদাতের ক্ষেত্রে লোক দেখানো মনোভাব ও মুনাফিকী আচরণ পরিহার করতে হবে।
(৪) কৃপণতার অভ্যাস দূর করতে হবে। যাকাত, উশর ও ফিতরা এসব আদায় করতেই হবে- এছাড়াও মানবতার খাতিরে পরস্পরের মধ্যে যেসকল জিনিস আদান-প্রদান করতে হয় বা যেসব সহযোগিতা করতে হয় তাতেও সংকীর্ণমনা হওয়া উচিত নয়।