১
মন দিয়ে নামায পড়ার উপায়
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪১
রুকূর তাসবীহসমূহ
নবী ﷺ রুকূ অবস্থায় যেসব দু‘আ পাঠ করতেন সেগুলো নিম্নে উল্লেখ করা হলো :
১। হুযায়ফা (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদা তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সাথে নামায আদায় করেন। আর তখন তিনি রুকূতে এ দু‘আ পাঠ করেন,
سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيْمِ
উচ্চারণ : সুব্হা-না রাবিবয়াল ‘আযীম।
শাব্দিক অর্থ : سُبْحَانَ আমি পবিত্রতা বর্ণনা করছি, رَبِّيَ الْعَظِيْمِ আমার মহান প্রভুর।
অর্থ : আমি আমার মহান রবের পবিত্রতা বর্ণনা করছি (তিনবার)। [আবু দাঊদ, হা/৮৭১; সহীহ মুসলিম, হা/১৮৫০; তিরমিযী, হা/২৬১; নাসাঈ, হা/১০০৮; ইবনে মাজাহ, হা/৮৮৮; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৩২৮৮; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/৫৪২; সহীহ ইবনে হিববান, হা/১৮৯৭; মুসনাদুল বাযযার, হা/২৯২৩।]
২। আয়েশা (রাঃ) বলেন, সূরা নাসর নাযিল হওয়ার পর নবী ﷺ বেশি করে রুকূ ও সিজদার মধ্যে এ দু‘আ পড়তেন,
سُبْحَانَكَ اَللّٰهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِيْ
উচ্চারণ : সুব্হা-নাকা আল্লা-হুম্মা রাববানা ওয়াবিহামদিকা আল্লা-হুম্মাগ্ফিরলী।
শাব্দিক অর্থ : سُبْحَانَكَ আমি তোমার পবিত্রতা ঘোষণা করছি, اَللّٰهُمَّ হে আল্লাহ! رَبَّنَا তুমি আমাদের প্রতিপালক وَبِحَمْدِكَ এবং তোমার প্রশংসার সাথে, اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِيْ হে আল্লাহ! তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও।
অর্থ : হে আমাদের প্রতিপালক! তোমার প্রশংসার সাথে আমরা তোমার পবিত্রতা ঘোষণা করছি। হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দাও। [সহীহ বুখারী, হা/৭৯৪; সহীহ মুসলিম, হা/১১১৩; আবু দাউদ, হা/৮৭৭; নাসাঈ, হা/১১২২; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪২০৯; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/৬০৫।]
৩। আয়েশা (রাঃ) আরো বলেন, নবী ﷺ রুকূ ও সিজদার মধ্যে এ দু‘আ পড়তেন,
سُبُّوْحٌ قُدُّوْسٌ رَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَ الْرُّوْحِ
উচ্চারণ : সুববূহুন কুদ্দূসুন, রাববুল মালা-ইকাতি ওয়ার রূহ।
শাব্দিক অর্থ : سُبُّوْحٌ (আল্লাহ) পবিত্র, قُدُّوْسٌ ত্রুটিমুক্ত, رَبُّ তিনি রব الْمَلَائِكَةِ ফেরেশতাদের وَ الْرُّوْحِ এবং রুহ তথা জিবরাঈল (আঃ) এরও (রব)।
অর্থ : আল্লাহ পবিত্র ও ত্রুটিমুক্ত; তিনি জিবরাঈল (আঃ) সহ সকল ফেরেশতার রব। [সহীহ মুসলিম, হা/১১১৯; আবু দাউদ, হা/৮৭২; নাসাঈ, হা/১০৪৮; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪১০৯; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/৬০৬; সহীহ ইবনে হিববান, হা/১৮৯৯; দার কুতনী, হা/১৩০০; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪০৬৩।]
৪। আওফ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি নবী ﷺ এর সাথে নামাযে দাঁড়ালাম। সে নামাযে তিনি সূরা বাকারা পড়ার পরিমাণ সময় রুকূর মধ্যে ছিলেন। এ সময় তিনি এ তাসবীহ পাঠ করেন,
سُبْحَانَ ذِى الْجَبَرُوْتِ وَ الْمَلَكُوْتِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَ الْعَظْمَةِ
উচ্চারণ : সুব্হানা যিল্ যাবারূতি ওয়াল্ মালাকূতি ওয়াল্ কিব্রিয়াই ওয়াল্ ‘আয্মাতি।
শাব্দিক অর্থ : سُبْحَانَ আমি পবিত্রতা বর্ণনা করছি ذِى (সেই মহান সত্তার) যিনি মালিক الْجَبَرُوْتِ প্রতাপের, وَالْمَلَكُوْتِ রাজত্বের, وَالْكِبْرِيَاءِ বড়ত্বের وَالْعَظْمَةِ ও মহত্বের ।
অর্থ : আমি পবিত্রতা বর্ণনা করছি সেই মহান সত্তার যিনি প্রতাপশালী, রাজত্ব, বড়ত্ব ও মহত্বের মালিক। [আবু দাঊদ, হা/৮৭৩, নাসাঈ, হা/১১৩২; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪০২৬; মুসনাদুল বাযযার, হা/২৭৫০; মু‘জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/১৫৪৫০।]
৫। আলী (রাঃ) বলেন, নবী ﷺ যখন রুকূতে যেতেন, তখন এ দু‘আ পড়তেন,
اَللّٰهُمَّ لَكَ رَكَعْتُ وَبِكَ اٰمَنْتُ وَ لَكَ اَسْلَمْتُ خَشَعَ لَكَ سَمْعِىْ وَ بَصَرِىْ وَ مُخِّىْ وَ عَظْمِىْ وَ عَصَبِىْ
উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মা লাকা রাকা‘তু, ওয়াবিকা আ-মানতু, ওয়ালাকা আসলামতু, খাশা‘আ লাকা সাম্য়ী ওয়া বাসারী ওয়া মুখ্খী ওয়া ‘আয্মী ওয়া ‘আসাবী।
শাব্দিক অর্থ : اَللّٰهُمَّ হে আল্লাহ! لَكَ رَكَعْتُ আমি আপনার জন্য রুকূ করছি, وَبِكَ اٰمَنْتُ আপনার প্রতি ঈমান এনেছি, وَ لَكَ اَسْلَمْتُ আপনার কাছে আত্মসমর্পণ করেছি। خَشَعَ لَكَ আপনার জন্য বিনয় প্রকাশ করছে سَمْعِىْ আমার কান, وَبَصَرِىْ আমার চোখ, وَمُخِّىْ আমার মগজ, وَعَظْمِىْ আমার হাড় وَعَصَبِىْ এবং আমার শিরা-উপশিরা ।
অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার জন্য রুকূ করছি, আপনার প্রতি ঈমান এনেছি, আপনার কাছে আত্মসমর্পণ করেছি। আমার কান, চোখ, মগজ, হাড় এবং শিরা-উপশিরা সবই আপনার জন্য বিনয় প্রকাশ করছে। [সহীহ মুসলিম, হা/১৮৪৮; আবু দাউদ, হা/৭৬০; তিরমিযী, হা/৩৪২১; নাসাঈ, হা/১০৫০; মুসনাদে আহমাদ, হা/৯৬০; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/৬০৭; সহীহ ইবনে হিববান, হা/১৯০১; মুসনাদুল বাযযার, হা/৫৩৬; মুসনাদে আবু ই‘আলা, হা/৫৭৪; দার কুতনী, হা/১২৯৪; মু‘জামুল আওসাত, হা/৪৫৫২; সুনানে সুগরা লি বায়হাকী, হা/২৬৭।]
১। হুযায়ফা (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদা তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সাথে নামায আদায় করেন। আর তখন তিনি রুকূতে এ দু‘আ পাঠ করেন,
سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيْمِ
উচ্চারণ : সুব্হা-না রাবিবয়াল ‘আযীম।
শাব্দিক অর্থ : سُبْحَانَ আমি পবিত্রতা বর্ণনা করছি, رَبِّيَ الْعَظِيْمِ আমার মহান প্রভুর।
অর্থ : আমি আমার মহান রবের পবিত্রতা বর্ণনা করছি (তিনবার)। [আবু দাঊদ, হা/৮৭১; সহীহ মুসলিম, হা/১৮৫০; তিরমিযী, হা/২৬১; নাসাঈ, হা/১০০৮; ইবনে মাজাহ, হা/৮৮৮; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৩২৮৮; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/৫৪২; সহীহ ইবনে হিববান, হা/১৮৯৭; মুসনাদুল বাযযার, হা/২৯২৩।]
২। আয়েশা (রাঃ) বলেন, সূরা নাসর নাযিল হওয়ার পর নবী ﷺ বেশি করে রুকূ ও সিজদার মধ্যে এ দু‘আ পড়তেন,
سُبْحَانَكَ اَللّٰهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِيْ
উচ্চারণ : সুব্হা-নাকা আল্লা-হুম্মা রাববানা ওয়াবিহামদিকা আল্লা-হুম্মাগ্ফিরলী।
শাব্দিক অর্থ : سُبْحَانَكَ আমি তোমার পবিত্রতা ঘোষণা করছি, اَللّٰهُمَّ হে আল্লাহ! رَبَّنَا তুমি আমাদের প্রতিপালক وَبِحَمْدِكَ এবং তোমার প্রশংসার সাথে, اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِيْ হে আল্লাহ! তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও।
অর্থ : হে আমাদের প্রতিপালক! তোমার প্রশংসার সাথে আমরা তোমার পবিত্রতা ঘোষণা করছি। হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দাও। [সহীহ বুখারী, হা/৭৯৪; সহীহ মুসলিম, হা/১১১৩; আবু দাউদ, হা/৮৭৭; নাসাঈ, হা/১১২২; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪২০৯; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/৬০৫।]
৩। আয়েশা (রাঃ) আরো বলেন, নবী ﷺ রুকূ ও সিজদার মধ্যে এ দু‘আ পড়তেন,
سُبُّوْحٌ قُدُّوْسٌ رَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَ الْرُّوْحِ
উচ্চারণ : সুববূহুন কুদ্দূসুন, রাববুল মালা-ইকাতি ওয়ার রূহ।
শাব্দিক অর্থ : سُبُّوْحٌ (আল্লাহ) পবিত্র, قُدُّوْسٌ ত্রুটিমুক্ত, رَبُّ তিনি রব الْمَلَائِكَةِ ফেরেশতাদের وَ الْرُّوْحِ এবং রুহ তথা জিবরাঈল (আঃ) এরও (রব)।
অর্থ : আল্লাহ পবিত্র ও ত্রুটিমুক্ত; তিনি জিবরাঈল (আঃ) সহ সকল ফেরেশতার রব। [সহীহ মুসলিম, হা/১১১৯; আবু দাউদ, হা/৮৭২; নাসাঈ, হা/১০৪৮; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪১০৯; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/৬০৬; সহীহ ইবনে হিববান, হা/১৮৯৯; দার কুতনী, হা/১৩০০; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪০৬৩।]
৪। আওফ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি নবী ﷺ এর সাথে নামাযে দাঁড়ালাম। সে নামাযে তিনি সূরা বাকারা পড়ার পরিমাণ সময় রুকূর মধ্যে ছিলেন। এ সময় তিনি এ তাসবীহ পাঠ করেন,
سُبْحَانَ ذِى الْجَبَرُوْتِ وَ الْمَلَكُوْتِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَ الْعَظْمَةِ
উচ্চারণ : সুব্হানা যিল্ যাবারূতি ওয়াল্ মালাকূতি ওয়াল্ কিব্রিয়াই ওয়াল্ ‘আয্মাতি।
শাব্দিক অর্থ : سُبْحَانَ আমি পবিত্রতা বর্ণনা করছি ذِى (সেই মহান সত্তার) যিনি মালিক الْجَبَرُوْتِ প্রতাপের, وَالْمَلَكُوْتِ রাজত্বের, وَالْكِبْرِيَاءِ বড়ত্বের وَالْعَظْمَةِ ও মহত্বের ।
অর্থ : আমি পবিত্রতা বর্ণনা করছি সেই মহান সত্তার যিনি প্রতাপশালী, রাজত্ব, বড়ত্ব ও মহত্বের মালিক। [আবু দাঊদ, হা/৮৭৩, নাসাঈ, হা/১১৩২; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪০২৬; মুসনাদুল বাযযার, হা/২৭৫০; মু‘জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/১৫৪৫০।]
৫। আলী (রাঃ) বলেন, নবী ﷺ যখন রুকূতে যেতেন, তখন এ দু‘আ পড়তেন,
اَللّٰهُمَّ لَكَ رَكَعْتُ وَبِكَ اٰمَنْتُ وَ لَكَ اَسْلَمْتُ خَشَعَ لَكَ سَمْعِىْ وَ بَصَرِىْ وَ مُخِّىْ وَ عَظْمِىْ وَ عَصَبِىْ
উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মা লাকা রাকা‘তু, ওয়াবিকা আ-মানতু, ওয়ালাকা আসলামতু, খাশা‘আ লাকা সাম্য়ী ওয়া বাসারী ওয়া মুখ্খী ওয়া ‘আয্মী ওয়া ‘আসাবী।
শাব্দিক অর্থ : اَللّٰهُمَّ হে আল্লাহ! لَكَ رَكَعْتُ আমি আপনার জন্য রুকূ করছি, وَبِكَ اٰمَنْتُ আপনার প্রতি ঈমান এনেছি, وَ لَكَ اَسْلَمْتُ আপনার কাছে আত্মসমর্পণ করেছি। خَشَعَ لَكَ আপনার জন্য বিনয় প্রকাশ করছে سَمْعِىْ আমার কান, وَبَصَرِىْ আমার চোখ, وَمُخِّىْ আমার মগজ, وَعَظْمِىْ আমার হাড় وَعَصَبِىْ এবং আমার শিরা-উপশিরা ।
অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার জন্য রুকূ করছি, আপনার প্রতি ঈমান এনেছি, আপনার কাছে আত্মসমর্পণ করেছি। আমার কান, চোখ, মগজ, হাড় এবং শিরা-উপশিরা সবই আপনার জন্য বিনয় প্রকাশ করছে। [সহীহ মুসলিম, হা/১৮৪৮; আবু দাউদ, হা/৭৬০; তিরমিযী, হা/৩৪২১; নাসাঈ, হা/১০৫০; মুসনাদে আহমাদ, হা/৯৬০; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/৬০৭; সহীহ ইবনে হিববান, হা/১৯০১; মুসনাদুল বাযযার, হা/৫৩৬; মুসনাদে আবু ই‘আলা, হা/৫৭৪; দার কুতনী, হা/১২৯৪; মু‘জামুল আওসাত, হা/৪৫৫২; সুনানে সুগরা লি বায়হাকী, হা/২৬৭।]