hadith book logo

মন দিয়ে নামায পড়ার উপায়

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১১

জামাআতে নামায আদায়ের গুরুত্ব

প্রত্যেকটি কাজ করার একটি নির্দিষ্ট নিয়ম থাকে। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের উপর নামায ফরয করেছেন এবং মসজিদে গিয়ে জামাআতের সাথে তা আদায় করতে বলেছেন। বিশেষ কল্যাণ ও উপকারিতার দিকে লক্ষ্য রেখেই আল্লাহ তা‘আলা এ বিধান দিয়েছেন। নবী ﷺ ও তাঁর সাহাবীরা জামাআতে নামায কায়েম করতেন। আল্লাহ তা‘আলা সাহাবীদের প্রশংসা করে বলেন,

﴿فِيْ بُيُوْتٍ اَذِنَ اللهُ اَنْ تُرْفَعَ وَيُذْكَرَ فِيْهَا اسْمُهٗ يُسَبِّحُ لَهٗ فِيْهَا بِالْغُدُوِّ وَالْاٰصَالِ ‐ - رِجَالٌ لَّا تُلْهِيْهِمْ تِجَارَةٌ وَّلَا بَيْعٌ عَنْ ذِكْرِ اللهِ وَاِقَامِ الصَّلَاةِ وَاِيْتَآءِ الزَّكَاةِ يَخَافُوْنَ يَوْمًا تَتَقَلَّبُ فِيْهِ الْقُلُوْبُ وَالْاَبْصَارُ﴾

যেসকল ঘরকে আল্লাহ তা‘আলা সমুন্নত করার এবং তাতে তাঁর নাম স্মরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন, সেখানে সকাল-সন্ধ্যায় তাঁর তাসবীহ পাঠ করে এমনসব লোক, যাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় তাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে, নামায কায়েম করা থেকে এবং যাকাত আদায় করা থেকে বিরত রাখতে পারে না। তারা ভয় করে এমন একটি দিনকে যে দিন অন্তর ও দৃষ্টিসমূহ উলটপালট (বিপর্যস্ত) হয়ে যাবে। অর্থাৎ কিয়ামতের কঠিন দিনকে। (সূরা নূর- ৩৬, ৩৭)

জামাআতে নামায আদায়ের মাধ্যমে মুসলিমদের মধ্যে ভালোবাসা ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি পায়। সবাই মসজিদে গিয়ে একত্র হয় এবং একে অপরকে দেখতে পায়। পরস্পরের খবরাখবর জানতে পারে। এর ফলে সাম্যের এক জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত দেখতে পাওয়া যায়। সাদা-কালো, ধনী-গরীব, রাজা-প্রজা, উঁচু-নীচু সবাই একই কাতারে দাঁড়ায়। জামাআতে নামায পড়লে নামায কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে এবং নামাযে ভুলত্রুটি কম হয়। অনেক সময় নামাযের পরে দ্বীনী আলোচনা হয়, এতে করে ইসলাম সম্পর্কে জানার সুযোগ হয়। এছাড়াও দুনিয়া-আখিরাতের অগণিত কল্যাণ রয়েছে জামাআতে নামায আদায়ের মধ্যে। জামাআতে নামায আদায়ের নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَاَقِيْمُوْا الصَّلَاةَ وَاٰتُوا الزَّكَاةَ وَارْكَعُوْا مَعَ الرَّاكِعِيْنَ﴾

তোমরা নামায কায়েম করো, যাকাত আদায় করো এবং রুকূকারীদের সাথে রুকূ করো; অর্থাৎ জামাআতে নামায আদায় করো। (সূরা বাকারা- ৪৩)

যুদ্ধের সময়ও জামাআতে নামায আদায়ের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আল্লাহ বলেন,

﴿وَاِذَا كُنْتَ فِيْهِمْ فَاَقَمْتَ لَهُمُ الصَّلَاةَ فَلْتَقُمْ طَآئِفَةٌ مِّنْهُمْ مَّعَكَ﴾

(হে নবী!) তুমি যখন (জিহাদের ময়দানে) তোমার সাথিদের সাথে থাকবে এবং তাদের জন্য নামায কায়েম করবে, তখন তাদের একটি দল যেন তোমার সাথে দাঁড়ায়। (সূরা নিসা- ১০২)

এ আয়াতে যুদ্ধের সময়ও জামাআতে নামায আদায় করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এখন চিন্তা করুন, যুদ্ধের সময়ও জামাআতে নামাযের নির্দেশ দেয়া হয়ে থাকলে, অন্য সময় তা আরো কত গুরুত্বপূর্ণ কাজ।