hadith book logo

মন দিয়ে নামায পড়ার উপায়

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪৪

সিজদা

সিজদার অর্থ ইবাদাতের উদ্দেশ্যে চেহারা মাটিতে রাখা। রুকূ হতে ওঠে কাওমার দু‘আ শেষে اَللهُ اَكْبَرُ (আল্লা-হু আকবার) বলে সিজদায় যেতে হবে। নাক, কপাল, দু’হাত, দু’হাঁটু ও দু’পায়ের আঙ্গুলসমূহের অগ্রভাগসহ মোট ৭টি অঙ্গ মাটিতে লাগিয়ে সিজদা করবে। সিজদার সময় হাত দুটি কিবলামুখী করে মাথার দু’পাশে কাঁধ বা কান বরাবর মাটিতে স্বাভাবিকভাবে রাখবে এবং কনুই ও বগল থেকে ফাঁক রাখবে। হাঁটু বা মাটিতে ঠেস দেবে না। সিজদায় দু’কনুই উঁচু করে রাখবে এবং কোনভাবেই দু’হাত কুকুরের মতো মাটিতে বিছিয়ে দেয়া যাবে না। সিজদার সময় উভয় পায়ের আঙ্গুলি কিবলার দিকে রাখবে। দু’পায়ের গোড়ালী একত্রে মিলিয়ে রাখবে।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, বান্দা যখন সিজদা করে, তখন তার সঙ্গে তার সাতটি অঙ্গ সিজদা করে, তার মুখমন্ডল, উভয় হাত, উভয় হাঁটু এবং দু’পায়ের অগ্রভাগ। [সহীহ মুসলিম, হা/১১২৮; আবু দাউদ, হা/৮৯১; তিরমিযী, হা/২৭২; নাসাঈ, হা/১০৯৯; ইবনে মাজাহ, হা/৮৮৫।]

আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, সিজদায় স্থিরতা অবলম্বন করো এবং তোমাদের মধ্যে কেউ যেন দু’হাত বিছিয়ে কুকুরের মতো না বসে। [সহীহ বুখারী, হা/৮২২; সহীহ মুসলিম, হা/১১৩০; নাসাঈ, হা/১১১০; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২১৭০; বায়হাকী, হা/২৫৩১; জামেউস সগীর, হা/১৯২২; মিশকাত, হা/৮৮৮।]

সিজদার মধ্যে স্থিরতা অবলম্বন করা :

আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) নবী ﷺ হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, তোমরা সিজদার মধ্যে তা‘দীল করো। অর্থাৎ ধীরস্থিরভাবে সিজদা করো। তোমাদের মধ্যে কোন লোক যেন সিজদায় তার বাহুদ্বয় কুকুরের বাহুদ্বয়ের মতো (মাটিতে) বিছিয়ে না দেয়। [সহীহ বুখারী, হা/৮২২; সহীহ মুসলিম, হা/১১৩০; তিরমিযী, হা/২৭৬।]

সিজদা হলো দাসত্ব প্রকাশের সর্বোচ্চ স্তর। বান্দা যতবেশি সিজদা দিতে থাকে, ততবেশি সে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে থাকে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَاسْجُدْ وَاقْتَرِبْ﴾

তুমি সিজদা করো এবং আমার নিকটবর্তী হও। (সূরা আলাক- ১৯)

সিজদার স্বরূপ :

আমরা সিজদায় গিয়ে এটা প্রকাশ করি যে, হে আল্লাহ! আপনার কুদরতের সামনে আমি একেবারে তুচ্ছ। গর্ব-অহংকার করার মতো আমার কিছুই নেই। আমি রুকূতে থাকতে আপনার সামনে মাথা নত করেছিলাম। এখন আমি গোলামীর আরো এক ধাপ অগ্রসর হয়ে আমার শরীরের সবচেয়ে সম্মানিত অঙ্গ কপালকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিলাম। আমার পা, হাঁটু, হাত, নাক ও কপাল আপনাকে সিজদা করছে। আমি নিজেকে আপনার মাহাত্ম্যের সামনে বিলীন করে দিলাম। কারণ আপনি হলেন মহান বাদশা, আমার সৃষ্টিকর্তা ও মালিক।

সিজদার গুরুত্ব :

সিজদা নামাযের খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা বাদ গেলে উক্ত নামায বাতিল হয়ে যায়। এর মাধ্যমে বান্দার মর্যাদা আরো বৃদ্ধি পায়। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, তোমার উচিত আল্লাহকে বেশি বেশি সিজদা করা। কেননা তুমি যখন একটি সিজদা করবে, তখন আল্লাহ তা‘আলা তোমার একটি মর্যাদা বাড়িয়ে দেবেন এবং একটি গোনাহ ক্ষমা করে দেবেন। [সহীহ মুসলিম, হা/১১২১; মুসনাদে আহমাদ, হা/২২৪৩১; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৩৮৫; মিশকাত, হা/৮৯৭।]

অন্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন,

أَقْرَبُ مَا يَكُوْنُ الْعَبْدُ مِنْ رَبِّهٖ وَهُوَ سَاجِدٌ فَأَكْثِرُوا الدُّعَاءَ

অর্থাৎ সিজদা অবস্থায় বান্দা তার প্রতিপালকের সবচেয়ে নিকটবর্তী হয়। অতএব তোমরা সিজদায় অধিক দু‘আ করবে। [সহীহ মুসলিম হা/৯৭০; আবু দাউদ, হা/৮৭৫; নাসাঈ, হা/১১৩৭; মুসনাদে আহমাদ, হা/৯৪৪২; সহীহ ইবনে হিববান, হা/১৭২৮; বায়হাকী, হা/২৫১৭; মিশকাত, হা/৮৯৩।]