১
আল্লাহর বাণী আল-কুরআন ও আধুনিক বিজ্ঞান
লেখকঃ মোহাম্মদ ওসমান গনি • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২
ভূমিকা
الحمد لله و الصلاة والسلام على رسول الله، أما بعد ...
পবিত্র কুরআন শাশ্বত, তার বাণী চিরন্তন এবং এটি সর্বকালের সর্ব শ্রেষ্ঠ মূ‘জেযা। এ কুরআন দিয়েই সর্ব শেষ নবি মুহম্মদ সা.-কে প্রেরণ করা হয়েছে, শক্তিশালী করা হয়েছে তার নবুয়তকে। এ কুরআনই হচ্ছে তার ধর্মের প্রথম প্রমাণ। বর্তমান বৈজ্ঞানিক যুগে মানুষ তার মধ্য থেকে নতুন নতুন অনেক তত্ত্ব ও উপাত্ত আবিষ্কার করা হচ্ছে, যা তার নবুয়তের সত্যতার অকাট্য প্রমাণ। কী সাহিত্যের উপাদান, কী সামাজিক নীতি ও আদর্শ, কী রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা, সব কিছুই রয়েছে এ কুরআনের মধ্যে। আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ
ما فرطنا في الكتاب من شئ ( سورة الأنعام ৩৮)
আমি এই কিতাবে কোন কিছু লিখতে বাদ দেইনি। (সূরা আনআম : ৩৮)
বলতে দ্বিধা নেই, এ গ্রন্থটি এককভাবে বিজ্ঞানের গ্রন্থ হিসেবে অবতীর্ণ হয়নি, তাই একে একটি বিজ্ঞানের গ্রন্থ মনে করা ঠিক হবে না। হ্যা, এ কুরআন হচ্ছে বিভিন্ন তথ্য ও তত্ত্বে পরিপূর্ণ। এতে বিজ্ঞানের বিস্তারিত বর্ণনা নেই বটে, তবে মহাবিশ্বের আদিলগ্ন থেকে কিয়ামত পর্যন্ত ঘটমান উলেখযোগ্য অনেক ঘটনা ও উপাখ্যানের বিবরণ বিদ্যমান রয়েছে, যা স্বয়ং আল্লাহ তাআলার তরফ থেকে। মূলত এ কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে মানব জাতির জন্য পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা হিসেবে, বিশ্বের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে। মানব জাতির কল্যাণকর সব কিছুর বর্ণনা রয়েছে এতে-কোন সন্দেহ নেই।
আল্লাহ বলেন,
تبيانا لكل شيء ( سورة ا لنحل .৮৯)
তা প্রত্যেক বস্ত্তর সুস্পষ্ট বর্ণনা । (সূরা নাহল ৮৯)
অন্যত্র বলেন,
ولقد صرفنا في هذا القرآن للناس من كل مثل ( الكهف /৫৪)
নিশ্চয়ই আমি এ কুরআনে মানুষকে নানাভাবে বিভিন্ন উপমার দ্বারা আমার বাণী বুঝিয়ে দিয়েছি। মানুষ সব বস্ত্ত থেকে অধিক তর্কপ্রিয় । (সূরা কাহাফ ৫৪)
তাই মহান আল্লাহ মানব জাতিকে এই কুরআনের সত্যতা প্রমাণ করে দেখার জন্য পরীক্ষা নিরীক্ষা পর্যবেক্ষণ ও অনুসন্ধানের আহবান জানিয়েছেন। যেন বিজ্ঞানের আলোতে উদ্ভাসিত মানুষের বিবেক পবিত্র কুরআনকে বাস্তবতার আলোকে যাচাই বাছাই করে এর সত্যতাকে নিরেট সত্য হিসেবে গ্রহণ করে। বর্তমানে প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার সাথে সাথে আল-কুরআনের কৃতিত্ব প্রকাশ পাচ্ছে। কুরআনের মধ্যে বর্ণিত বিজ্ঞানের সাথে সম্পৃক্ত বিষয়গুলো স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর হচ্ছে। আল্লাহ তাআলা এ যুগের চাহিদা অনুযায়ী বিশ্ব নবীর মাধ্যমে আল-কুরআনকে সরাসরি মানব জাতির সামনে পেশ করেছেন, সে সাথে দিয়েছেন তাদেরকে ভাল মন্দ বিচারের ক্ষমতা। সে বুদ্ধি ও বিবেকের সঠিক ব্যবহার করে এ কুরআনের মর্মার্থ অনুধাবন এবং সে অনুযায়ী কর্ম সম্পাদন করতে পারলেই একজন মানুষ সার্থক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সক্ষম হবে। আর কেবল এর মাধ্যমেই বিভ্রান্তির নাগপাশ থেকে বেরিয়ে এসে ইহকালীন ও পরকালীন চূড়ান্ত লক্ষ্যে উপনীত হওয়া সম্ভব। রাসূল সা. এর উপর নাজিলকৃত এ কুরআন-ই হচ্ছে চিরন্তন, স্বয়ং সম্পূর্ণ ও সর্বোত্তম একটি জীবন বিধান। ইহকাল ও পরকালের শান্তি এবং চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনের জন্য আল-কুরআন ও রাসূল সা. এর আদর্শ অনুসরণ ব্যতীত কোন বিকল্প পথ নেই।
যদিও আমি কোন দার্শনিক বা বৈজ্ঞানিক নই, তবে বিজ্ঞান ভিত্তিক আলোচনা আমি ছোট থেকেই পছন্দ করতাম। আর সবচেয়ে বেশী আনন্দ পেতাম তখন, যখন তা কুরআন হাদীসের আলোকে আলোচনা করা হত। তাই সৌদী আরবে মক্কা মোকাররমার ‘উম্মুল কুরআন বিশ্ববিদ্যালয়ে’ অধ্যয়নকালে আমার মনোনীত বিষয় হিসেবে কুরআনের তাফসীরকে গ্রহণ করি। বর্তমান বিজ্ঞানের যুগে কুরআন যে চির সত্য, মহান স্রষ্টার বাণী, তা প্রমাণিত হচ্ছে। তারই কিছু বাস্তব উদাহরণকে সামনে রেখে, বিভিন্ন তাফসীর, পত্র পত্রিকার তথ্য ও বন্ধু বান্ধবের সহযোগিতায় আল্লাহর নামে বইটি আমার মাতৃভাষার পাঠকবৃন্দের হাতে তুলে দিচ্ছি। এমতাবস্থায় সর্ব প্রথম সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর সাহায্য কামনা করছি এবং দৃঢ়তার সাথে এ ঘোষণা দিচ্ছি যে, এতে আমার কোন কৃতিত্ব নেই, সকল কৃতিত্ব মহান স্রষ্টার। মানুষ হিসেবে ভুলত্রুটি হওয়া স্বাভাবিক। তাই সম্মানিত পাঠকবৃন্দের নিকট আমার আকুল আবেদন কোথাও কোন ত্রুটি পরিলক্ষিত হলে অথবা সংযোজন বিয়োজনের প্রয়োজন মনে করলে, দয়া করে আমাদের জানাবেন। ইন্শা আল্লাহ আপনাদের পরামর্শ স্বাদরে গ্রহণ করা হবে।
আমার লিখিত ও অনুদিত ২৪ বইয়ের মধ্যে ‘ইসলামী বিধান ও আধুনিক বিজ্ঞান’ এবং ‘মহান স্রষ্টার একত্ববাদ ও আধুনিক বিজ্ঞানে’র প্রতি প্রথম থেকেই সম্মানিত পাঠক সমাজের যে আগ্রহ দেখেছি, তা আমাকে পূর্বের তুলনায় অনেক বেশী প্রেরণা দিয়েছে এবং এ কাজের প্রতি আমাকে আরো আগ্রহী করে তুলেছে। পরিশেষে তাদের সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানাই যারা আমাকে এ কাজে সাহায্য করেছেন। আল্লাহ তাদেরকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
মোহাম্মদ ওসমান গণি
পবিত্র কুরআন শাশ্বত, তার বাণী চিরন্তন এবং এটি সর্বকালের সর্ব শ্রেষ্ঠ মূ‘জেযা। এ কুরআন দিয়েই সর্ব শেষ নবি মুহম্মদ সা.-কে প্রেরণ করা হয়েছে, শক্তিশালী করা হয়েছে তার নবুয়তকে। এ কুরআনই হচ্ছে তার ধর্মের প্রথম প্রমাণ। বর্তমান বৈজ্ঞানিক যুগে মানুষ তার মধ্য থেকে নতুন নতুন অনেক তত্ত্ব ও উপাত্ত আবিষ্কার করা হচ্ছে, যা তার নবুয়তের সত্যতার অকাট্য প্রমাণ। কী সাহিত্যের উপাদান, কী সামাজিক নীতি ও আদর্শ, কী রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা, সব কিছুই রয়েছে এ কুরআনের মধ্যে। আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ
ما فرطنا في الكتاب من شئ ( سورة الأنعام ৩৮)
আমি এই কিতাবে কোন কিছু লিখতে বাদ দেইনি। (সূরা আনআম : ৩৮)
বলতে দ্বিধা নেই, এ গ্রন্থটি এককভাবে বিজ্ঞানের গ্রন্থ হিসেবে অবতীর্ণ হয়নি, তাই একে একটি বিজ্ঞানের গ্রন্থ মনে করা ঠিক হবে না। হ্যা, এ কুরআন হচ্ছে বিভিন্ন তথ্য ও তত্ত্বে পরিপূর্ণ। এতে বিজ্ঞানের বিস্তারিত বর্ণনা নেই বটে, তবে মহাবিশ্বের আদিলগ্ন থেকে কিয়ামত পর্যন্ত ঘটমান উলেখযোগ্য অনেক ঘটনা ও উপাখ্যানের বিবরণ বিদ্যমান রয়েছে, যা স্বয়ং আল্লাহ তাআলার তরফ থেকে। মূলত এ কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে মানব জাতির জন্য পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা হিসেবে, বিশ্বের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে। মানব জাতির কল্যাণকর সব কিছুর বর্ণনা রয়েছে এতে-কোন সন্দেহ নেই।
আল্লাহ বলেন,
تبيانا لكل شيء ( سورة ا لنحل .৮৯)
তা প্রত্যেক বস্ত্তর সুস্পষ্ট বর্ণনা । (সূরা নাহল ৮৯)
অন্যত্র বলেন,
ولقد صرفنا في هذا القرآن للناس من كل مثل ( الكهف /৫৪)
নিশ্চয়ই আমি এ কুরআনে মানুষকে নানাভাবে বিভিন্ন উপমার দ্বারা আমার বাণী বুঝিয়ে দিয়েছি। মানুষ সব বস্ত্ত থেকে অধিক তর্কপ্রিয় । (সূরা কাহাফ ৫৪)
তাই মহান আল্লাহ মানব জাতিকে এই কুরআনের সত্যতা প্রমাণ করে দেখার জন্য পরীক্ষা নিরীক্ষা পর্যবেক্ষণ ও অনুসন্ধানের আহবান জানিয়েছেন। যেন বিজ্ঞানের আলোতে উদ্ভাসিত মানুষের বিবেক পবিত্র কুরআনকে বাস্তবতার আলোকে যাচাই বাছাই করে এর সত্যতাকে নিরেট সত্য হিসেবে গ্রহণ করে। বর্তমানে প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার সাথে সাথে আল-কুরআনের কৃতিত্ব প্রকাশ পাচ্ছে। কুরআনের মধ্যে বর্ণিত বিজ্ঞানের সাথে সম্পৃক্ত বিষয়গুলো স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর হচ্ছে। আল্লাহ তাআলা এ যুগের চাহিদা অনুযায়ী বিশ্ব নবীর মাধ্যমে আল-কুরআনকে সরাসরি মানব জাতির সামনে পেশ করেছেন, সে সাথে দিয়েছেন তাদেরকে ভাল মন্দ বিচারের ক্ষমতা। সে বুদ্ধি ও বিবেকের সঠিক ব্যবহার করে এ কুরআনের মর্মার্থ অনুধাবন এবং সে অনুযায়ী কর্ম সম্পাদন করতে পারলেই একজন মানুষ সার্থক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সক্ষম হবে। আর কেবল এর মাধ্যমেই বিভ্রান্তির নাগপাশ থেকে বেরিয়ে এসে ইহকালীন ও পরকালীন চূড়ান্ত লক্ষ্যে উপনীত হওয়া সম্ভব। রাসূল সা. এর উপর নাজিলকৃত এ কুরআন-ই হচ্ছে চিরন্তন, স্বয়ং সম্পূর্ণ ও সর্বোত্তম একটি জীবন বিধান। ইহকাল ও পরকালের শান্তি এবং চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনের জন্য আল-কুরআন ও রাসূল সা. এর আদর্শ অনুসরণ ব্যতীত কোন বিকল্প পথ নেই।
যদিও আমি কোন দার্শনিক বা বৈজ্ঞানিক নই, তবে বিজ্ঞান ভিত্তিক আলোচনা আমি ছোট থেকেই পছন্দ করতাম। আর সবচেয়ে বেশী আনন্দ পেতাম তখন, যখন তা কুরআন হাদীসের আলোকে আলোচনা করা হত। তাই সৌদী আরবে মক্কা মোকাররমার ‘উম্মুল কুরআন বিশ্ববিদ্যালয়ে’ অধ্যয়নকালে আমার মনোনীত বিষয় হিসেবে কুরআনের তাফসীরকে গ্রহণ করি। বর্তমান বিজ্ঞানের যুগে কুরআন যে চির সত্য, মহান স্রষ্টার বাণী, তা প্রমাণিত হচ্ছে। তারই কিছু বাস্তব উদাহরণকে সামনে রেখে, বিভিন্ন তাফসীর, পত্র পত্রিকার তথ্য ও বন্ধু বান্ধবের সহযোগিতায় আল্লাহর নামে বইটি আমার মাতৃভাষার পাঠকবৃন্দের হাতে তুলে দিচ্ছি। এমতাবস্থায় সর্ব প্রথম সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর সাহায্য কামনা করছি এবং দৃঢ়তার সাথে এ ঘোষণা দিচ্ছি যে, এতে আমার কোন কৃতিত্ব নেই, সকল কৃতিত্ব মহান স্রষ্টার। মানুষ হিসেবে ভুলত্রুটি হওয়া স্বাভাবিক। তাই সম্মানিত পাঠকবৃন্দের নিকট আমার আকুল আবেদন কোথাও কোন ত্রুটি পরিলক্ষিত হলে অথবা সংযোজন বিয়োজনের প্রয়োজন মনে করলে, দয়া করে আমাদের জানাবেন। ইন্শা আল্লাহ আপনাদের পরামর্শ স্বাদরে গ্রহণ করা হবে।
আমার লিখিত ও অনুদিত ২৪ বইয়ের মধ্যে ‘ইসলামী বিধান ও আধুনিক বিজ্ঞান’ এবং ‘মহান স্রষ্টার একত্ববাদ ও আধুনিক বিজ্ঞানে’র প্রতি প্রথম থেকেই সম্মানিত পাঠক সমাজের যে আগ্রহ দেখেছি, তা আমাকে পূর্বের তুলনায় অনেক বেশী প্রেরণা দিয়েছে এবং এ কাজের প্রতি আমাকে আরো আগ্রহী করে তুলেছে। পরিশেষে তাদের সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানাই যারা আমাকে এ কাজে সাহায্য করেছেন। আল্লাহ তাদেরকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
মোহাম্মদ ওসমান গণি