hadith book logo

আল্লাহর বাণী আল-কুরআন ও আধুনিক বিজ্ঞান

লেখকঃ মোহাম্মদ ওসমান গনি • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬২

الحكيم হাকীম বা প্রজ্ঞাময়

আমরা যদি সৃষ্টিকুলের আকৃতি সম্পর্কে চিন্তা ও গবেষণা করি তাহলে আমরা অবশ্যই দেখতে পাব যে, প্রত্যেক জাতিকে মহান সৃষ্টিকর্তা স্বীয় বিজ্ঞতার সাথে এক ধরনের সৃষ্টির কাঠামো নির্ধারণ করেছেন।

মানুষের চেহারায় দুটি চক্ষু রয়েছে। তার মাঝে একটি নাক রয়েছে। দুই পার্শ্বে দুটি হাত রয়েছে। নিচের দিকে দুটি পা রয়েছে। আমরা এমন কোন মানুষ পাই না যে, তার ঘাড়ের মাঝে চক্ষু উদ্ভব হয়েছে অথবা কোন হাত তার মাথায় প্রকাশ পেয়েছে। আর এগুলো প্রমাণ করে যে,এটা প্রজ্ঞাময় আল্লাহর সৃষ্টি যিনি মানুষকে নিপুণতা ও বিজ্ঞতার সাথে একই ধরনের সৃষ্টির কাঠামো নির্ধারণ করেছেন। এমনই ভাবে প্রত্যেক জাতের জন্তু ও গাছ পালাকে সুকৌশলে ও বিজ্ঞতার সাথে একই আকৃতি ও একই ধরনের করেছেন।

তিনি বলেনঃ

ওও الحكيم ،،وهو الذي يصوركم في الأرحام كيف يشاء لا إله إلا هو العزيز الحكيم ( سورة العمران ৬ )

তিনি স্বীয় ইচ্ছানুযায়ী জরায়ুর মধ্যে তোমাদের আকৃতি গঠন করেছেন সেই পরাক্রান্ত বিজ্ঞানময় ব্যতীত কোনই উপাস্য নেই। (সূরা আল-ইমরান ৬)

আমরা যদি বাতাসকে নিয়ে চিন্তা করি, যে বাতাস সব সময় শ্বাস প্রশ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করি, আমরা দেখতে পাব যে, বিশুদ্ধ বাতাসকে নষ্ট করে দিচ্ছি অর্থাৎ অক্সিজেনকে কার্বনডাই অক্সাইড এ পরিবর্তন করে দিচ্ছি। তারপরও এই বিশুদ্ধ বাতাসের পরিমাণ কম হচ্ছে না। কেন কমতেছে না? কারণ হচ্ছে মহান সৃষ্টিকর্তা গাছপালা তরুলতা সৃষ্টি করেছেন, যারা এই কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে পরিবর্তন করে অক্সিজেন বানিয়ে দিচ্ছে। আর এর মাধ্যমেই বাতাসের নির্ধারিত পরিমাণ সমন্বয় সাধিত হচ্ছে নিপুণতা ও বিজ্ঞতার সাথে। এমন ভাবে আসমান ও জমিনের প্রতিটা বস্ত্তর মাঝে মহান প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পরিচয় রয়েছে।

তিনি বলেনঃ

وهو الذي في السماء إله وفي الأرض إله وهو الحكيم العليم ( سورة الزخرف ৪৮ )

তিনিই মা‘বুদ নভোমন্ডলে, তিনিই মাবুদ ভূতলে এবং তিনি প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ। (সূরা যুখরুফ-৪৮)