hadith book logo

আল্লাহর বাণী আল-কুরআন ও আধুনিক বিজ্ঞান

লেখকঃ মোহাম্মদ ওসমান গনি • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৮

সর্বাগ্রে ফলের বর্ণনা কেন? :

পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে গোস্তের বর্ণনার পূর্বে ফলের কথা আলোচিত হয়েছে। যেমন আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ

وفاكهة مما يتخيرون ولحم طير مما يشتهون ( سورة الواقعة ২০-২১)

‘‘আর তাদের পছন্দ মত ফল মূল নিয়ে এবং রুচিমত পাখির গোস্ত নিয়ে (ঘোরা ফেরা করবে)।’’ (সূরা ওয়াক্বিয়াহ ২০-২১)

অপর এক আয়াতে বর্ণিত হচ্ছেঃ

وأمددناهم بفاكهة ولحم مما يشتهون . ( سورة الطور ২২)

‘‘আমি তাদেরকে ফল-ফুল এবং মাংস দেব যা তারা পছন্দ করে।’’ (সুরা তুর ২২)

অপর দিকে রাসূল (সা.) বর্ণনা করেনঃ

وإذا أفطر أحدكم فليفطر علي تمر فإنه بركة ওও عش في الدنيا كأنك غريب أو عابر سبيل ،،

তোমাদের মধ্যে যদি কেহ ইফতার করতে চায় সে যেন খেজুর দিয়ে ইফতার করে। কেননা তার ভিতর বরকত রয়েছে।

এখন প্রশ্ন হলো, গোস্তের আলোচনার পূর্বে ফলের কথা কেন বর্ণিত হলো? আর কেনইবা ফল দিয়ে ইফতারী করার কথা রাসূল সা. বর্ণনা করলেন? তা হলে ফল কি গোস্তসহ অন্যান্য খাদ্য বস্ত্তর চেয়ে উত্তম? আসুন দেখা যাক, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান এ ব্যাপারে কি বলছে? স্বাস্থ্য বিজ্ঞান বর্ণনা করছে যে খাদ্য খাওয়ার পূর্বে ফল খাওয়াতে স্বাস্থ্যগত দিক দিয়ে অনেক উপকার রয়েছে, কেননা ফলে রয়েছে এমন পরিমাণ সুগার যা সহজেই হজম হয়ে যায়। দ্রুত গলে যায়। অল্প সময়ে কয়েক মিটিটের মধ্যে পাকস্থলি সুগারগুলো চুষে নেয়। শরীর তা গ্রহণ করে সুগারের অভাব পুরণ করে এবং ক্ষুধা নিবারণ করে। অপর দিকে যদি কেউ বিভিন্ন খাবার দিয়ে তার পাকস্থলি পূরণ করে, তবে সেই সব খাদ্য পাকস্থলিতে প্রায় তিন ঘন্টার প্রয়োজন হয় হজম হয়ে সেই খাদ্য থেকে সুগার গ্রহণ করতে। অতএব সহজাত সুগার শরীরের বিভিন্ন কোষসমূহের প্রকৃত শক্তির উৎসে পরিণত হয়। বিশেষ করে পাকস্থলির প্রাচীর কোষ সমূহ অল্প সময়ে দ্রুত এই সমস্ত সুগারের মাধ্যমে সজীব হয়ে যায়। তারা পূর্ণ কার্য ক্ষমতা পেয়ে যায়, যার ফলে তার পর যদি অন্যান্য খাদ্য গ্রহণ করে তা সহজেই হজম করার সাহায্য করে। আর এ কারণেই হয় তো আল্লাহ রাববুল আলামীন গোস্তের পূর্বে ফলের আলোচনা করেছেন। রাসূল সা. এর হাদিসটিও এই হিকমতের প্রতিই ইঙ্গিত বহন করে।