hadith book logo

আল্লাহর বাণী আল-কুরআন ও আধুনিক বিজ্ঞান

লেখকঃ মোহাম্মদ ওসমান গনি • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৮

আকাশের পরিধি ও আল-কুরআন :

এই বিশ্বজগতের সৃষ্টিকর্তা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা এই সৃষ্টিতে তার কোন শরীক নেই। আকাশ-পাতাল সাগর ভূমিসহ সকল স্তরে সেই সৃষ্টিকর্তার অসংখ্য নিদর্শন রয়েছে।

আল্লাহ তা’আলা বলেন:

لَتَرْكَبُنَّ طَبَقًا عَنْ طَبَقٍ ( سورة الانشقاق .১৯)

‘‘তোমরা অবশ্যই (জ্ঞান-বিজ্ঞানে) ধাপে ধাপে উন্নতির সোপানে আরোহণ করবে।’’ (সূরা ইনশিকাক ১৯)

নিউটন আবিস্কার করেছে যে, মহা শুন্যে সব কিছুই এক বিশেষ ব্যবস্থাপনায় সুপরিমিতভাবে সুনিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। আর তা হচ্ছে সুপরিকল্পিতভাবে গ্রহ নক্ষত্র পরস্পরের আকর্ষণের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে, পবিত্র কুরআন তাদের এই আবিষ্কারের বহু পূর্বে জানিয়ে দিচ্ছে।

وَالسَّمَاءَ رَفَعَهَا وَوَضَعَ الْمِيزَانَ ( سورة الرحمن ৭)

‘‘তিনি আল্লাহ আকাশকে করেছেন সমুন্নত ও সুপরিমাপ যন্ত্র।’’ (সূরা রাহমান ৭)

মানুষ যখন স্বাভাবিক দৃষ্টিতে উপরের দিকে তাকায় তখন আসমানকে অতি নিকটে ধারণা করে। আসলে প্রকৃত অবস্থা তা নয়।

আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ

رَفَعَ سَمْكَهَا فَسَوَّاهَا ( سورة النازعات .২৮ )

‘‘তিনি আকাশকে উঁচু করেছেন ও সুবিন্যস্ত করেছেন।’’ (সূরা নাযিআত-২৮)

আজকের বিজ্ঞান আমাদেরকে মূল্যবান তথ্যাদি সরবরাহ করছে যে, আমরা যে মহাবিশ্বের অধীন, সেই মহাবিশ্বটি প্রায় ২০,০০০ বিলিয়ন আলোক বর্ষ বিস্তৃত হয়ে মহাশূন্যে অবস্থান করছে। এই মহাবিশ্বের বড় বড় বসুতসম্ভার হচ্ছে গ্যালাক্সিসমূহ। যে গ্যালাক্সি গড়ে প্রায় প্রতিটি ২০,০০০ কোটি নক্ষত্র ধারণ করে ক্রমান্বয়ে প্রবল থেকে প্রবলতর বেগে সম্প্রসারিত হয়ে মহাশূন্যের মাঝে উড়ে যাচ্ছে। এক একটা গ্যালাক্সি প্রায় গড়ে এক লক্ষ আলোক বর্ষ জায়গা নিয়ে মহাশূন্যে ছড়িয়ে আছে। একটি গ্যালাক্সি থেকে অপর গ্যালাক্সির গড় দুরত্ব হচ্ছে প্রায় ২ মিলিয়ন (২০ লক্ষ) আলোক বর্ষ।

এ পর্যন্ত প্রায় ১৩,০০০ মিলিয়ন আলোকবর্ষ পর্যন্ত সীমারেখায় ১০০ কোটির মত গ্যালাক্সি আবিস্কৃত হয়েছে।

যার ইঙ্গিত করে সৃষ্টিকর্তা বলেনঃ

فَلَا أُقْسِمُ بِمَوَاقِعِ النُّجُومِ ﴿75﴾ وَإِنَّهُ لَقَسَمٌ لَوْ تَعْلَمُونَ عَظِيمٌ ﴿76﴾ ( سورة الواقعة ৭৫-৭৬)

‘‘অতএব আমি তারকারাজির অস্তাচলের শপথ করছি, নিশ্চয়ই এটা এক মহা শপথ যদি তোমরা জানতে।’’ (সূরা ওয়াকিয়া ৭৫-৭৬)