hadith book logo

তাওহীদ পুনরুদ্ধার

লেখকঃ আবদুল্লাহ্‌ আল কাফী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১১

শাফাআতের শর্তঃ

সহীহ্‌ হাদীছ মোতাবেক সন্দেহ নেই যে, আল্লাহর অনুমতি পেয়ে আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুপারিশ করবেন। অন্যান্য নবী-রাসূল, সত্যবাদীগণ, শহীদগণ এবং নেককারগণ সুপারিশ করবেন।

কিন্তু এই প্রকার শাফায়াতের জন্য ৩টি শর্ত রয়েছে। যথাঃ

১- শাফায়াতকারীর উপর আল্লাহর সন্তুষ্টি থাকা।

২- যার জন্য সুপারিশ করা হবে, তার উপরও আল্লাহর সন্তুষ্টি থাকা। আর তাওহীদ ও রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর তরীকায় প্রতিষ্ঠিত থাকা ব্যতীত করো উপর আল্লাহ্‌ সন্তুষ্ট হবেন না।

৩- শাফায়াতকারীর জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে শাফায়াত করার অনুমতি থাকা।

প্রথম শর্তের দলীলঃ আল্লাহ্‌ পাক বলেন, يَوْمَئِذٍ لَا تَنْفَعُ الشَّفَاعَةُ إِلَّا مَنْ أَذِنَ لَهُ الرَّحْمَنُ وَرَضِيَ لَهُ قَوْلًا দয়াময় আল্লাহ্‌ যাকে অনুমতি দেবেন এবং যার কথায় সন্তুষ্ট হবেন সে ছাড়া কারো সুপারিশ সেদিন (কিয়ামতের দিন) কোন উপকারে আসবে না। (সূরা ত্বাহাঃ ১০৯)

দ্বিতীয় শর্তের দলীলঃ আল্লাহ্‌ বলেনঃ

وَكَمْ مِنْ مَلَكٍ فِي السَّمَاوَاتِ لَا تُغْنِي شَفَاعَتُهُمْ شَيْئًا إِلَّا مِنْ بَعْدِ أَنْ يَأْذَنَ اللَّهُ لِمَنْ يَشَاءُ وَيَرْضَى “

আকাশে অনেক ফেরেশতা আছে। তাদের সুপারিশ কোন কাজে আসবে না, যতক্ষণ আল্লাহ্‌ যার জন্যে ইচ্ছা ও যাকে পছন্দ করেন, অনুমতি না দেন। (সূরা নাজমঃ ২৬)

সুবহানাল্লাহ্‌! ফেরেশতাদের সুপারিশও আল্লাহর দরবারে তাঁর অনুমতি ব্যতীরেকে ফলপ্রসূ হবে না? অথচ ফেরেশতারা তো নিষ্পাপ। অবশ্য হাদীছে প্রমাণিত হয়েছে যে ফেরেশতারাও মুমিন বান্দাদের জন্যে সুপারিশ করবেন। কিন্তু তা হবে আল্লাহর নিকট থেকে অনুমতি পাওয়ার পরই। পীর সাহেবগণ কি ফেরেশতাদের চেয়েও আল্লাহর নিকট পবিত্র ও সম্মানিত? যার কারণে তারা নিশ্চিতভাবে বলতে পারেন যে, সেই দিন নিঃসন্দেহে পীরগণ থেকে সাহায্য পাওয়ার আশা করা যায়চ!?

আল্লাহ পাক বলেনঃ وَلَا يَشْفَعُونَ إِلَّا لِمَنِ ارْتَضَى আল্লাহ্‌ যার প্রতি সন্তুষ্ট সে ছাড়া কারো জন্য সুপারিশ করা হবে না। (সূরা আম্বিয়াঃ ২৮) তিনি আরো বলেনঃ

وَلا تَنْفَعُ الشَّفَاعَةُ عِنْدَهُ إِلا لِمَنْ أَذِنَ لَهُ “

যার জন্যে অনুমতি দেয়া হবে সে ছাড়া তাঁর নিকট কারো জন্যে সুপারিশ ফলপ্রসূ হবে না। (সূরা সাবাঃ ২৩) অর্থাৎ মুওমিন ছাড়া কারো জন্যে সুপারিশ করার অনুমতি দেয়া হবে না। কিন্তু যারা আল্লাহর সাথে শরীক করে তারা কারো সুপারিশ পাওয়ার যোগ্যতা রাখে না। তাই তাদের ব্যাপারে সুপারিশ করারও কোন অনুমতি দেয়া হবে না।

তৃতীয় শর্তের দলীলঃ

আল্লাহ্‌ বলেনঃ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ কে সেই এমন ব্যক্তি যে আল্লাহর কাছে তাঁর অনুমতি ব্যতীরেকে কারো জন্যে সুপারিশ করতে পারবে?চ (সূরা বাকারাঃ ২৫৫)

আল্লাহ্‌ আরো বলেনঃ مَا مِنْ شَفِيعٍ إِلا مِنْ بَعْدِ إِذْنِهِ তাঁর অনুমতি ব্যতীত কেউ কারো জন্যে সুপারিশ করতে পারবে না। (সূরা ইউনুসঃ ৩)

যদি ধরে নেয়া যায় যে, পীরদের উপর আল্লাহ্‌ সন্তুষ্ট হয়ে তাদেরকে সুপারিশ করার অনুমতি দিবেন। (যদিও তা সুদূর পরাহত) কিন্তু পীর সাহেবরা কি করে জানলেন যে তাদের মুরীদদের উপরও আল্লাহ্‌ সন্তুষ্ট হয়ে যাবেন ফলে তাদেরকে সুপারিশ করে জান্নাতে নিয়ে যাবেন? যার কারণে তারা মুরীদদেরকে কামেল পীর হইলেন আখেরাতের উকীল স্বরূপ।’’ অথবা সেই দিন নিঃসন্দেহে পীরগণ থেকে সাহায্য পাওয়ার আশা করা যায়। ইত্যাদি কথা বলে তাদের কাছ থেকে বায়আত নিয়ে থাকেন? (হে আল্লাহ্‌ তুমি আমাদেরকে ঈমান ব্যবসায়ীদের কবল থেকে রক্ষা কর)

মক্কার কাফের-মুশরিকরা মুর্তিদের নিকট থেকে এই সাহায্য বা সুপারিশ পাওয়া ব্যতীত অন্য কোন আশা করেছিল কি? তাদের সম্পর্কে আল্লাহ্‌ বলেন, وَيَقُولُونَ هَؤُلَاءِ شُفَعَاؤُنَا عِنْدَ اللَّهِ তারা বলে, এরা (মুর্তিগুলো) আমাদের জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশকারী। (সূরা ইউনুসঃ ১৮)

অতএব যে সমস্ত মুসলমান অজ্ঞতা বশতঃ এ সমস্ত পীরের ধোকাপূর্ণ কথা বিশ্বাস করে তাদের হাতে বায়আত করে তাদের কাছ থেকে সাহায্য বা শাফাআতের আশা করেছেন তাদেরকে বলতে চাই এই শাফাআত তাদের কোন কাজে আসবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন,

فَمَا تَنْفَعُهُمْ شَفَاعَةُ الشَّافِعِينَ “

কোন সুপারিশকারীর সুপারিশ তাদের উপকারে আসবে না। (সূরা মুদ্দাস্‌সিরঃ ৪৮) কারণ আল্লাহ তাআলা মুশরিকদের শির্কের উপরে সন্তুষ্ট নন। তাদেরকে শাফায়াতের অনুমতি দেয়াও সম্ভব নয়। আল্লাহ যার উপর সন্তুষ্ট হবেন, কেবল তার জন্যই সুপারিশ বৈধ হবে।