hadith book logo

তাওহীদ পুনরুদ্ধার

লেখকঃ আবদুল্লাহ্‌ আল কাফী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৬

শয়তান মানব জাতির বড় শত্রুঃ

শয়তান মানব জাতির সবচেয়ে বড় ও প্রকাশ্য শত্রু। আদম সৃষ্টির সূচনা লগ্ন থেকে তার সাথে মানব জাতির শত্রুতার উৎপত্তি। আদমকে সিজদা না করার অপরাধে সে আল্লাহর রহমত থেকে বিতাড়িত হয়। কিন্তু সে আল্লাহর কাছে আবেদন করে যে, ক্বিয়ামত পর্যন্ত তাকে যেন হায়াত দেয়া হয়; সে তার সকল প্রচেষ্টা ও সর্বশক্তি নিয়োগ করবে আদমের সন্তানদের বিভ্রান্ত করার জন্যে। কুফরী ও শির্কে লিপ্ত করে তাদেরকে জাহান্নামে তার সাথী বানানোর জন্যে। তার কথা আল্লাহ্‌ কুরআনে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেনঃ

قَالَ أَرَأَيْتَكَ هَذَا الَّذِي كَرَّمْتَ عَلَيَّ لَئِنْ أَخَّرْتَنِ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ لَأَحْتَنِكَنَّ ذُرِّيَّتَهُ إِلاَّ قَلِيلاً، قَالَ اذْهَبْ فَمَنْ تَبِعَكَ مِنْهُمْ فَإِنَّ جَهَنَّمَ جَزَاؤُكُمْ جَزَاءً مَوْفُورًا، وَاسْتَفْزِزْ مَنِ اسْتَطَعْتَ مِنْهُمْ بِصَوْتِكَ وَأَجْلِبْ عَلَيْهِمْ بِخَيْلِكَ وَرَجِلِكَ وَشَارِكْهُمْ فِي الأَمْوَالِ وَالأَوْلادِ وَعِدْهُمْ وَمَا يَعِدُهُمُ الشَّيْطَانُ إِلا غُرُورًا . “

শয়তান বলল, আপনি কী মনে করেন, তাকে যে আপনি আমার উপর মর্যাদা দান করলেন, যদি ক্বিয়ামত দিবস পর্যন্ত আপনি আমাকে অবকাশ দেন, তাহলে তার বংশধরদের মধ্যে থেকে অল্প কয়জন ছাড়া সকলকে সমূলে আমি বিনষ্ট (বিভ্রান্ত) করে ফেলব। আল্লাহ্‌ বললেন, ঠিক আছে যাও, তোমার এবং তোমার যারা অনুসরণ করবে সকলের জন্য পরিপূর্ণ শাস্তি হল জাহান্নাম। তাদের মধ্যে যাকে পার তোমার আহ্বান দ্বারা পদস্খলিত কর, তোমার অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী দ্বারা তাদেরকে (কুফরী, শির্ক, বিভ্রান্তি ও অন্যায়ের পথে ধাবিত করার জন্য) আক্রমণ কর এবং তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে শরীক হয়ে যাও। [. অর্থাৎ মানুষের ধন-সম্পদে শয়তানের শরীক হওয়ার অর্থ হচ্ছে সুদ-ঘুষ, আত্মসাত, চুরি-ডাকাতি, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির মাধ্যমে তা অর্জন করা এবং অন্যায় পথে তা ব্যয় করা। সন্তানে শরীক হওয়ার অর্থ হচ্ছে ব্যভিচারের মাধ্যমে জারজ সন্তান পয়দা হওয়া। শয়তানের প্রতিশ্রুতি হচ্ছেঃ দুনিয়াটাই আসল, কোন পুনরুত্থান নেই, কোন হিসাব-নিকাশ বা প্রতিদান নেই, জান্নাত-জাহান্নাম বলতে কিছু নেই। (তাফসীর ইবনে কাসীর, দ্রঃ সূরা বানী ইসরাঈলের ৬৩ ও ৬৪ নং আয়াতের তাফসীর)] আর তাদেরকে (যা ইচ্ছা) প্রতিশ্রুতি দাও। বস্তুতঃ শয়তান তাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দেয় তা শুধু ধোকা ও ছলনা। (সূরা বানী ইসরাঈলঃ ৬২-৬৪)

এই শত্রু এবং তার চক্রান্ত থেকে রক্ষা পাওয়া মানুষের জন্য অনেকটা অসাধ্য। এর অনিষ্ট থেকে বাঁচানোর মালিক একমাত্র আল্লাহ্‌ তাআলা। তিনি ছাড়া পৃথিবীর কোন শক্তি শয়তান থেকে মানুষকে রক্ষা করার ক্ষমতা রাখে না। তিনিই শয়তানকে সৃষ্টি করেছেন, তিনিই জানেন কিভাবে একে প্রতিহত করতে হয়।

ইমাম ইবনে কাছীর (রহঃ) বলেন, মানুষরূপী শয়তানের সাথে সদ্ভাব গড়ে তুললে, তাদের সাথে সদাচরণ দেখালে অনেক সময় তাদের চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র থেকে বাঁচা যায়। কিন্তু ইবলিস শয়তান থেকে বাঁচার কোন কৌশল কাজে লাগে না। এই জন্যে যিনি তাকে সৃষ্টি করে তোমার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছেন, তাঁর স্মরণাপন্ন হলে তাঁর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করলে তিনি তাকে প্রতিহত করবেন এবং তোমাকে তার ওয়াসওয়াসা থেকে বাঁচিয়ে দিবেন তোমার বিরুদ্ধে তার ষড়যন্ত্রকে বানচাল করে দিবেন। [. তাফসীর ইবেন কাছীর ৭/১৮১ পৃঃ সূরা ফুস্সেলাত ৩৬ নং আয়াতের তাফসীর।]

এই জন্যে আল্লাহ্‌ তাআলা তাঁর নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে শয়তান থেকে বাঁচার পথ বাতলে দিয়েছেন। তিনি এরশাদ করেনঃ

وَإِمَّا يَنْزَغَنَّكَ مِنَ الشَّيْطَانِ نَزْغٌ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ إِنَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ، إِنَّ الَّذِينَ اتَّقَوْا إِذَا مَسَّهُمْ طَائِفٌ مِنَ الشَّيْطَانِ تَذَكَّرُوا فَإِذَا هُمْ مُبْصِرُونَ “

শয়তানের কুমন্ত্রনা যদি তোমাকে প্ররোচিত করে তবে তুমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা কর, তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ। যারা আল্লাহকে ভয় করে চলে, শয়তান যখন তাদেরকে কুমন্ত্রনা দিয়ে খারাপ কাজে নিমগ্ন করে, সাথে সাথে তারা আত্মসচেতন হয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে। ফলে তৎক্ষণাৎ তাদের জ্ঞান চক্ষু খুলে যায়। (সূরা আরাফঃ ২০০-২০১)

শয়তান থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্যে আল্লাহ্‌ তাঁর নবীজীকে আরো তালীম দিচ্ছেনঃ

وَقُلْ رَبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ، وَأَعُوذُ بِكَ رَبِّ أَنْ يَحْضُرُونِ

আর আপনি বলুন! হে আমার পালনকর্তা! আমি আপনার কাছে শয়তানের প্ররোচনা ও কুমন্ত্রনা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি এবং আপনার কাছে আরো আশ্রয় কামনা করছি যে তারা (শয়তানরা) যেন আমার কাছে উপস্থিত হতে না পারে। (সূরা মু'মেনূনঃ ৯৭-৯৮)