hadith book logo

তাওহীদ পুনরুদ্ধার

লেখকঃ আবদুল্লাহ্‌ আল কাফী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৭

কুরআনে উসীলার অর্থঃ

পূর্বেল্লেখিতি অর্থগুলোই অভিধানে স্বীকৃত। এতে কোন মতবিরোধ নেই। এই কারণে সালাফে ছালেহীন ও তাফসীরের ইমামগণ কুরআনে الوسيلة শব্দটির ব্যাখ্যা সেভাবেই করেছেন, যেভাবে অভিধানে তার অর্থ বর্ণনা করা হয়েছে।

আল্লাহ্‌ বলেন,

يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَابْتَغُوا إِلَيْهِ الْوَسِيلَةَ وَجَاهِدُوا فِي سَبِيلِهِ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ “

হে ঈমানদ্বারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। আর তাঁর নেকট্য অনুসন্ধান কর। তাঁর পথে জিহাদ কর। তাহলে তোমরা সফলতা লাভ করবে। (সূরা ময়েদাহ্‌- ৩৫)

তিনি আরো বলেন,

أُوْلَئِكَ الَّذِينَ يَدْعُونَ يَبْتَغُونَ إِلَى رَبِّهِمْ الْوَسِيلَةَ أَيُّهُمْ أَقْرَبُ وَيَرْجُونَ رَحْمَتَهُ وَيَخَافُونَ عَذَابَهُ إِنَّ عَذَابَ رَبِّكَ كَانَ مَحْذُورًا “

ওরা (মুশরিকগণ) যাদেরকে আহবান করে, তারা নিজেরাই তো তাদের পালনকর্তার নৈকট্য (উসীলা) অনুসন্ধান করে, কোন জিনিসটি সর্বাধিক নিকটবর্তী। তারা তাঁরই করুণার আশা করে এবং তাঁর শাস্তিকে ভয় করে। নিশ্চয় তোমার পালনকর্তার শাস্তি অবধারিত। (সূরা বানী ইসরাঈল- ৫৭)

প্রথম আয়াতের তাফসীর করতে গিয়ে ইমামুল মুফাস্‌সেরীন হাফেয ইবনু জারীর ত্ববারী (রহঃ) বলেন, ওহে তোমরা যারা আল্লাহ্‌ এবং তাঁর রাসূলকে সত্যায়ন করেছো, তাঁদের সংবাদ সমূহ, ছওয়াবের অঙ্গিকার ও শাস্তির ধমক.. ইত্যাদি মেনে নিয়েছো- তোমরা আল্লাহ্‌কে ভয় কর। অর্থাৎ- আনুগত্যের সাথে তাঁর আদেশ-নিষেধ বাস্তবায়ন কর। আর তাঁর কাছে পৌঁছার জন্যে উসীলা অনুসন্ধান কর, অর্থাৎ - واطلبوا القربة إليه بالعمل بما يرضيه তাঁকে সন্তুষ্টকারী কর্মের মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য অনুসন্ধান কর। [. তাফসীরে তাবারীঃ ১০ম খন্ড, ২৯০ পৃঃ।] হাফেয ইবনু কাছীর (রহঃ) উক্ত আয়াতের তাফসীরে ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে যে অর্থ সংকলন করেন, তা হচ্ছে - الوسيلة অর্থঃ নৈকট্য। অনুরূপ অর্থ বর্ণিত হয়েছে তাবেঈ মুজাহিদ, আবু ওয়ায়েল, হাসান বাছরী, আবদুল্লাহ্‌ বিন কাছীর, সুদ্দী, ইবনু যায়দ প্রমুখ থেকে। ইবনে কাছীর ক্বাতাদা থেকে বর্ণনা করেন, ক্বাতাদা বলেন: تقربوا إليه بطاعته والعملِ بما يرضيه ওআল্লাহ্‌র আনুগত্য ও তাঁকে সন্তুষ্টকারী আমল দ্বারা তাঁর নৈকট্য অর্জন কর। এরপর ইবনু কাছীর বলেন, ইমামগণ থেকে বর্ণিত উক্ত তাফসীরগুলোর মধ্যে কোন মতভেদ নেই। কেননা উসীলা হচ্ছে- যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে পৌঁছা সম্ভব। [. ইবনু কাছীর- ৩/১০৩ পৃঃ]

তাফসীরবিদদের মতে দেখা যায়, আল্লাহ্‌ যে উসীলা অনুসন্ধান করতে বলেছেন, তার ওপীর অনুসন্ধান করার অর্থে ব্যবহার হয়নি। এধরণের অর্থ তাফসীরবিদ কেন কোন ইমাম বা মুহাদ্দেছই করেননি। কারণ কোন পীর মানুষকে আল্লাহর কাছে পৌঁছে দিতে পারবে না। একজন মানুষ কিভাবে আরেক মানুষকে আল্লাহর কাছে পৌঁছাতে পারে? যে বস্তুটি মানুষকে আল্লাহর কাছে পৌঁছে দিতে পারে, যে বিষয়টি বান্দাকে তাঁর কাছে কবুল করাতে পারে তা হচ্ছে নিরঙ্কুশ তাওহীদ ও নেক আমল- এছাড়া অন্য কিছু নয়।

দ্বিতীয় আয়াতের তাফসীরে সম্মানিত ছাহাবী আবদুল্লাহ্‌ বিন মাসঊদ (রাঃ) বলেন, আয়াতটি একদল মুশরিক আরবের ব্যাপারে নাযিল হয়েছে। তারা কতিপয় জিনের ইবাদত করত। সেই জিনেরা মুসলমান হয়ে যায়। কিন্তু ঐ মুশরিকরা তাদের ইসলামের কথা জানতো না। [. মুসলিম ৮/২৪৫ নভুবী, অনুরূপভাবে বুখারী ৮/৩২০-৩২১ ফাতহুলবারী। বুখারীর বর্ণনায় বলা হয়, জিনেরা মুসলমান হয়ে গেল কিন্তু মুশরিকগণ তাদের ইবাদত করতেই থাকল।]

হাফেয ইবনু হাজার (রাঃ) বলেন, ওঅর্থাৎ যে সকল মানুষ জিনদের ইবাদত করতো তারা তাদের ইবাদত করতেই থাকলো। কিন্তু জিনেরা সেটা পছন্দ করছিল না, কেননা তারা তো মুসলমান হয়ে গেছে। তাই তাদের ব্যাপারে আল্লাহ বলেন, তারাই তো তাদের পালনকর্তার নৈকট্য লাভের উপায় ও পন্থা অনুসন্ধান করছে। এটাই হচ্ছে এ আয়াতের নির্ভরযোগ্য তাফসীর। [. ফাতহুল বারী ১০/১২, ১৩।]

ইমামদের থেকে উসীলার এই অর্থ বর্ণনা করার পর আমরা দেখব জীবিত বা মৃত কোন মানুষকে আল্লাহর কাছে সুপারিশকারী বিশ্বাস করলে তাওহীদ ঠিক থাকে কি না?