hadith book logo

তাওহীদ পুনরুদ্ধার

লেখকঃ আবদুল্লাহ্‌ আল কাফী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৮

আখেরাতের মুক্তি আসল মুক্তিঃ

সম্মানিত পাঠক! পূর্বের কথাগুলো আপনাদের কাছে অস্পষ্ট নয়। কঠিন হাশরের দিনে পীর-দরবেশগণ তাদের মুরীদদের সাহায্য করবেন, তাদের পক্ষে ওকালতী করবেন, তাদের গুনাহ্‌ মাফ করিয়ে দিবেন, তাদের নিয়ে পুলসিরাত পার হবেন, তাদেরকে হাওযে কাউছারের কাছে পৌঁছিয়ে দিবেন। অতএব মুরীদদের আর কোন চিন্তা নাই। সব সমস্যার সমাধান তো তারা করেই দিলেন। কারণ আখেরাতের সমস্যাই তো বড় সমস্যা। আখেরাতের বিপদই তো বড় বিপদ। মুমিনের জন্যে আখেরাতের জীবনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তার কাঙ্খিত কামনা হচ্ছে জান্নাত লাভ। তাই যখন কিনা পীরদের কাছে বায়আত করলে, তাদের পাগড়ি ধরলে তাদের কথা মত যিকির-ফিকির ও ওযীফার আমল করলে এই উদ্দেশ্য হাসিল হয়ে যাবে, কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছা যাবে তখন আর চিন্তা কিসের? এই জন্যেই মনে হয় লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের হাতে মুরীদ হওয়ার জন্যে প্রতিযোগিতা করেন এবং তাদের সাহায্য ও শুপারিশ লাভের আশায় তাদেরকে সন্তুষ্ট রাখার যাবতীয় ব্যবস্থা করেন। নানান রকমের হাদিয়া, নযরানা, মানত ইত্যাদি পেশ করে তাদের মন তুষ্ট করার চেষ্টা করেন। কেননা পীর সাহেব অসন্তুষ্ট হলে বিপদ। তিনি তখন আর ওকালতি করবেন না। অতএব যাবতীয় কাকুতি-মিনতী তাঁর কাছে নিবেদন করা ছাড়া উপায় নাই।

যখন কিনা এই পীর সাহেবগণ কঠিন আখেরাতের মাঠে মহা প্রতাপশালী আল্লাহর দরবারে মুরীদদের উপকার করতে পারবেন, আল্লাহর ক্রোধ থেকে বাঁচানোর জন্যে তাদেরকে সাহায্য করার ক্ষমতা রাখেন, তখন দুনিয়ার জীবনে মুরীদদের সাহায্য করা তো খুবই সামান্য ও সাধারণ ব্যাপার! অতএব বিপদ উদ্ধার, রোগ মুক্তি, মামলায় জেতা, শত্রুকে পরাজিত করা, গযব-আযাব থেকে রক্ষা, গুনাহ মাফ, সন্তান লাভ, জিন-ভুতের উপদ্রব থেকে বাঁচা প্রভৃতি উদ্দেশ্যে তাদের কাছে না যাওয়া ও তাদেরকে আহ্বান না করার তো প্রশ্নই উঠে না। এই কারণেই মনে হয় মানুষ উক্ত উদ্দেশ্যে অহর্ণিশ তাদের দরবারে ছুটে চলেছেন। তারা যে ঐ সমস্ত কাজেরও দায়িত্ব পালনের দাবী করে থাকেন তার বিবরণ কিছুক্ষণ পরে দেয়া হবে ইনশাআল্লাহ।

জনাব পীর সাহেবদের প্রতি আমার প্রশ্ন হচ্ছে, একবারও কি আপনারা চিন্তা করেছেন আপনাদেরকে সেই কঠিন হাশরের দিনে কে সাহায্য করবে? কে আপনাদের জন্যে সুপারিশ করবে? কে আপনাদেরকে পুলসিরাত পার করাবে? কে আপনাদের গুনাহ মাফ করিয়ে দিবে? নাকি আপনারা আল্লাহর নিকট থেকে অগ্রিম ছাড়পত্র পেয়ে গেছেন যে আপনাদের কোন গুনাহ্‌ হবে না? আপনারা নবী-রাসূলদের মত নিষ্পাপ? নাকি এমন কোন গ্যরান্টিবার্তা পেয়ে গেছেন বা আপনাদের কাছে ওহী হয়েছে যে হাশরের মাঠে আপনাদের কোন সাহায্যের দরকার পড়বে না- আপনারা বিনা হিসেবে মুক্তি পেয়ে যাবেন? আপনারা কি নিশ্চিতভাবে জান্নাতের টিকেট খরীদ করে নিয়েছেন? কে বিক্রি করল আপনাদের কাছে জান্নাতের টিকেট? কোথায় পেলেন এই ক্ষমতা? আল্লাহ্‌ কি আপনাদেরকে তাঁর ক্ষমতার অংশ বিশেষ দান করে আরাম করছেন? (নাউযুবিল্লাহ্‌) আপনারা কি আল্লাহর পাকড়াও থেকে নিরাপদ হয়ে গেছেন? কে আপনাদেরকে নিরাপত্তা বার্তা পৌঁছালো? আল্লাহ্‌ কি বলেন নি?

فَلَا تُزَكُّوا أَنْفُسَكُمْ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنِ اتَّقَى

অতএব তোমরা নিজেদেরকে পবিত্র করো না। তিনিই বেশী জানেন কে বেশী আল্লাহকে ভয় করে। (সূরা নাজমঃ ৩২)

প্রিয় পাঠক! জনাব পীর সাহেবসহ তার মুরীদান ও সমগ্র মুসলমান জাতিকে নিম্নের আয়াত সমূহ ও হাদীছগুলো গভীরভাবে অনুধাবন ও পর্যবেক্ষণ করার আহ্বান জানাচ্ছিঃ