hadith book logo

তাওহীদ পুনরুদ্ধার

লেখকঃ আবদুল্লাহ্‌ আল কাফী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৯

কিয়ামতের দিন তাওহীদ ছাড়া উপায় নাইঃ

আল্লাহ্‌ তাআলা পবিত্র কুরআনে যারা আল্লাহ্‌র প্রতি ঈমান রাখে, তাঁর তাওহীদকে বাস্তবায়ন করে, তাঁর সাথে কাউকে শরীক করে না, আখেরাতকে বিশ্বাস করে, সে দিন হিসাবের সম্মুখিন হওয়ার ভয় করে তাদেরকে আহ্বান করে এরশাদ করেনঃ

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا أَنْفِقُوا مِمَّا رَزَقْنَاكُمْ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَ يَوْمٌ لَا بَيْعٌ فِيهِ وَلَا خُلَّةٌ وَلَا شَفَاعَةٌ “

হে ঈমানদারগণ! আমি তোমাদেরকে যে রুযী দিয়েছে তা থেকে আল্লাহর পথে খরচ কর সেই দিন আসার পূর্বে যখন না আছে বেচা-কেনা, না আছে বন্ধুত্ব আর না আছে কোন সুপারিশ। (সূরা বাকারাঃ ২৫৪)

আল্লাহ্‌ আরো বলেনঃ

وَأَنْذِرْ بِهِ الَّذِينَ يَخَافُونَ أَنْ يُحْشَرُوا إِلَى رَبِّهِمْ لَيْسَ لَهُمْ مِنْ دُونِهِ وَلِيٌّ وَلَا شَفِيعٌ “

হে মুহাম্মাদ (সাঃ) আপনি এই কুরআন দ্বারা তাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করুন যারা তাদের পালনকর্তার কাছে একত্রিত হওয়াকে ভয় করে, সেদিন তিনি (আল্লাহ্‌) ব্যতীত তাদের কোন সাহায্যকারী বন্ধু থাকবে না এবং কোন সুপারিশকারী হবে না। (সূরা আনআমঃ ৫১) ইমাম ইবনে কাছীর (রহঃ) বলেনঃ অর্থাৎ আল্লাহ্‌ যদি তাদেরকে শাস্তি দেয়ার ইচ্ছা করেন তবে তা থেকে রক্ষা করার জন্যে কোন বন্ধু, কোন আত্মীয়, কোন সুপারিশকারী থাকবে না। (তাফসীর ইবনে কাছীরঃ ৩/২৫৯)

যারা তাওহীদপন্থী প্রকৃত ঈমানদার তাদের একটা পরিচয় আল্লাহ্‌ পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেনঃ وَيَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ وَيَخَافُونَ سُوءَ الْحِسَابِ তারা তাদের পালনকর্তাকে ভয় করে এবং তারা কিয়ামত দিবসে কঠিন হিসাবের সম্মুখিন হওয়ার আশংকা করে। (সূরা রাদঃ ২১)

এই পীর সাহেবগণ কি কিয়ামত দিবসে আল্লাহর সামনে দন্ডায়মান হওয়ার ভয় করেন না? তারা কি আল্লাহর হিসাবের সম্মুখিন হওয়ার ব্যাপারে শংকামুক্ত ও নিরাপদ হয়ে গেছেন? তারা নিজেরাই যদি হিসাবের সম্মুখিন হন তবে অন্যের ওকালতী করবেন কিভাবে? আল্লাহ্‌ বলেন,

أَفَأَمِنُوا مَكْرَ اللَّهِ فَلَا يَأْمَنُ مَكْرَ اللَّهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْخَاسِرُونَ

ওরা কি আল্লাহর পাকড়াও থেকে নিরাপদ হয়ে গেছে? ক্ষতিগ্রস্থ জাতি ছাড়া কেউ আল্লাহর পাকড়াও থেকে নিজেকে নিরাপদ ভাবতে পারে না। (সূরা আরাফঃ ৯৯)

আয়াতুল কুরসীর মধ্যে আল্লাহ্‌ বলেনঃ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ কে সেই এমন ব্যক্তি যে আল্লাহর কাছে তাঁর অনুমতি ব্যতীরেকে কারো জন্যে সুপারিশ করতে পারবে?চ (সূরা বাকারাঃ ২৫৫)

আল্লাহ্‌ আরো বলেনঃ مَا مِنْ شَفِيعٍ إِلا مِنْ بَعْدِ إِذْنِهِ তাঁর অনুমতি ব্যতীত কেউ কারো জন্যে সুপারিশ করতে পারবে না। (সূরা ইউনুসঃ ৩)

মুরীদদের সাহায্য বা সুপারিশ করার জন্যে পীর সাহেবগণ কি দুনিয়াতেই আল্লাহর কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে নিয়েছেন? কোথায় সেই অনুমতি পত্র, দয়া করে তারা দেখাবেন কি?

আল্লাহ্‌ ব্যতীত সুপারিশের কেউ মালিক নয়, অধিকারী নয়, অতএব তাঁর অনুমতি ব্যতীত কেউ সুপারিশ করার ক্ষমতা রাখে না। কেউ যদি আল্লাহর অনুমতি না পেয়েই নিশ্চিতভাবে আখেরাতে সুপারিশ করতে পারবে এমন দাবী দুনিয়াতে করে বসে, তবে সে যে নিজেকে আল্লাহর সমকক্ষ নির্ধারণ করে নিল এবং মুশিরক হয়ে গেল তাতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই।

আল্লাহ্‌ বলেনঃ

أَمِ اتَّخَذُوا مِنْ دُونِ اللَّهِ شُفَعَاءَ قُلْ أَوَلَوْ كَانُوا لَا يَمْلِكُونَ شَيْئًا وَلَا يَعْقِلُونَ، قُلْ لِلَّهِ الشَّفَاعَةُ جَمِيعًا لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ثُمَّ إِلَيْهِ تُرْجَعُونَ

তারা কি আল্লাহ্‌ ব্যতীত অন্যকে সুপারিশকারী গ্রহণ করেছে? তাদেরকে জিজ্ঞেস করুন! তাদের কোন কিছুতে মালিকানা না থাকলেও এবং তারা না বুঝলেও (সুপারিশ করতে পারবে)? বলে দিন, যাবতীয় সুপারিশ আল্লাহরই আয়ত্বাধীন, আসমান ও যমীনে তাঁরই সম্রাজ্য। অতঃপর তাঁরই কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে। (সূরা যুমারঃ ৪৩-৪৪)