১
তাওহীদ পুনরুদ্ধার
লেখকঃ আবদুল্লাহ্ আল কাফী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৫
মৃত্যুর সময় পীর কি শয়তান থেকে বাঁচাবে?
চরমোনাই পীর মাওলানা এছহাক সাহেব লিখেছেনঃ মৃত্যুর সময় যখন শয়তান ঈমান লুটিবার জন্য আসিবে, তখন পীর ছাড়া উপাই নাই.....। [. এখানে পীর সাহেব একটি ঘটনা উল্লেখ করেছেনঃ ‘‘ইমাম ফখরুদ্দীন রাযী একজন কামেল পীরের কাছে মুরীদ হতে চাইলেন। পীরের দরবারে উপস্থিত হলে পীর সাহেব বলিলেন, বাবা, আপনার মধ্যে এত এলেম যে এলমে মারেফত ঢুকিবার জায়গা নাই। কাজেই আপনাকে মুরীদ করিতে আমি অক্ষম। ইমাম সাহেব বলিলেন, হুজুর তবে আমার উপাই কি? হুজুর বলিলেন, ‘‘বাবা এক কাজ করুন, এক বৎসর যাবৎ কিতাব দেখা বন্ধ করিয়া দেন, তাহাতে যতটুকু জায়গা খালি হইবে, ঐখানে কিছু এলমে মা'রেফত রাখিতে চেষ্টা করিব।’’ অতঃপর ইমাম সাহেব জঙ্গলে গিয়ে এক বছর যাবত কোন কিতাব না দেখে একটি তাফসীরের কিতাব রচনা করিলেন। এক বছর শেষে হুজুরের কাছে ফেরত এলে হুজুর বলিলেন, আপনি এতবড় কিতাব না দেখিয়া লিখিয়াছেন ইহাতে আপনার এলেম আরো বৃদ্ধি পাইয়াছে, তাই আপনাকে আমি মুরীদ করিতে পারিব না, আপনাকে আমি দু’আ করিব।’’ ইমাম সাহেব দুঃখিত মন নিয়ে রাওয়ানা করিলেন এবং চিন্তা করিলেন যে, মৃত্যুর সময় যখন শয়তান ঈমান লুটিবার জন্য আসিবে, তখন পীর ছাড়া উপাই নাই, পীর সাহেব তো আমাকে মুরীদ করিলেন না- এখন আমার উপায় কি?... এরপর ইমাম সাহেব শয়তানকে পরাজিত করার জন্যে আল্লাহর অস্তিত্ব প্রমাণে এক হাজার দলীল উপস্থাপন করিলেন। কিন্তু শয়তানের সাথে তর্ক করে তার সকল দলীল শেষ হইয়া গেল। এবার ইমাম সাহেব বিপদে পড়িয়া গেলেন এবং তার ঈমান হারানোর সম্ভাবনা দেখা দিল। এমন সময় ঐ পীর সাহেব বদনা হাতে নিয়ে ওজু করিতেছিলেন। তিনি ইমাম সাহেবের এই ভয়ানক অবস্থা দেখিতে পাইলেন। অতঃপর পীর সাহেব ইমাম সাহেবের বাড়ীর দিকে কিছু পানি নিক্ষেপ করিয়া বলিলেন, ইমাম ফখরুদ্দীন রাযী তুমি শয়তানকে বলিয়া দাও, বিনা দলীলে আল্লাহ্ পাক এক, তিনি এক হইবার জন্যে কোন দলীলের দরকার হয় না। কয়েক মাসের রাস্তা দূর হইতে আল্লাহ্ পাকের রহমতে ঐ আওয়াজ ইমাম সাহেবের কর্ণে পৌঁছিবা মাত্র ইমাম সাহেব বলিলেন, শয়তান এখান থেকে ভাগ এবং জানিয়া রাখ, বিনা দলীলে আল্লাহ্ এক। শয়তান এই কথা শুনিয়া এই বলিয়া চলিয়া গেল, তোমার ভাগ্য ভাল যে, একদিন কামেল পীরের দু’আ নিয়াছিলা, নচেৎ তোমাকে বেঈমান করে আমার সঙ্গে জাহান্নামে নিয়া যাইতাম।’’ (ভেদে মারেফতঃ ৩১-৩২ পৃষ্ঠা)সুবিজ্ঞ পাঠক! এই ঘটনা পড়ে যা বুঝা যায় তা হচ্ছেঃ (১) মারেফত পেতে হলে শরীয়তের জ্ঞান অর্জন থেকে বিরত থাকতে হবে। (২) শরীয়তের এলেম থাকলে সেখানে মারেফতের এলেম ঢুকবে না। অন্য কথায় মূর্খতা হচ্ছে এলমে মারেফতের বড় বন্ধু। (৩) মৃত্যুর সময় পীর সাহেব ঈমান বাঁচানোর জন্যে মুরীদদের কাছে হাযির হবেন। (৪) মুরীদ যেখানেই থাক, তাকে তার পীর দেখতে পান এবং তাকে সাহায্য করতে পারেন। (৫) যারা পীরের কাছে মুরীদ হয়নি বা তার দু’আ নেয়নি, তাদের বেঈমান হয়ে জাহান্নামে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। (নাউযুবিল্লাহ্)] (ভেদে মা'রেফত ৩২ পৃঃ)
তিনি আরো লিখেছেনঃ পীর যদি সনদ বিহীন বা বেদআতী হয়, তবে সে মৃত্যুর সময় কোন কাজে আসিবে না। (ভেদে মা'রেফতঃ ৬২ পৃঃ)
তিনি আরো লিখেছেনঃ পীর যদি সনদ বিহীন বা বেদআতী হয়, তবে সে মৃত্যুর সময় কোন কাজে আসিবে না। (ভেদে মা'রেফতঃ ৬২ পৃঃ)