hadith book logo

তাওহীদ পুনরুদ্ধার

লেখকঃ আবদুল্লাহ্‌ আল কাফী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪১

খ) সূর্য-চন্দ্র মারেফতী পীরদের কথা শুনে থাকে!

তাবরিজী সাহেবকে কষ্ট না দেয়ার জন্যে সূর্য অন্ধকার হয়ে গেল, আবার তার হাতের ইশারায় আলো দিতে লাগল, এটিও একটি জঘণ্য মিথ্যাচারিতা। যার কোন সূত্র ও প্রমাণ নেই। আর তা বিশ্বাস করা এবং বর্ণনা করাও সুস্পষ্ট কুফরী। কারণ সূর্য-চন্দ্র ইত্যাদি আল্লাহর আজ্ঞাবহ, কোন মানুষের আজ্ঞাবহ নয়। এগুলো আল্লাহর বড় বড় নিদর্শন। আল্লাহ্‌ বলেনঃ

وَمِنْ آيَاتِهِ اللَّيْلُ وَالنَّهَارُ وَالشَّمْسُ وَالْقَمَرُ “

এবং তাঁর নিদর্শন সমূহের মধ্যে রয়েছে- দিবস, রজনী, সূর্য ও চন্দ্র। (সূরা হা-মীম আস্‌ সাজদাহ্‌ : ৩৭)

أَلَمْ تَرَوْا كَيْفَ خَلَقَ اللَّهُ سَبْعَ سَمَوَاتٍ طِبَاقًا، وَجَعَلَ الْقَمَرَ فِيهِنَّ نُورًا وَجَعَلَ الشَّمْسَ سِرَاجًا

তোমরা কি লক্ষ্য করো না যে, কিভাবে আল্লাহ্‌ সপ্ত আকাশ স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন। এবং সেখানে চন্দ্রকে করেছেন আলো স্বরূপ ও এবং সূর্যকে করেছেন প্রদীপ স্বরূপ।’’ (সূরা নূহঃ ১৬-১৭)

সূর্য-চন্দ্রসহ পৃথিবীর সবকিছুই আল্লাহকে সিজদা করে থাকে। আল্লাহ্‌ বলেনঃ

أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ يَسْجُدُ لَهُ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ وَالشَّمْسُ وَالْقَمَرُ وَالنُّجُومُ وَالْجِبَالُ وَالشَّجَرُ وَالدَّوَابُّ وَكَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ “

আপনি কি দেখেন না, আকাশ সমূহে যা কিছু আছে এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে সকলেই আল্লাহকে সিজদা করে, আল্লাহকে আরো সিজদা করে সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্র, পাহাড়, বৃক্ষ, প্রাণীকুল এবং অনেক মানুষ..। (সূরা হাজ্জঃ ১৮)

এই সূর্য-চন্দ্র-নক্ষত্র আল্লাহর নির্দেশে চলে। আল্লাহর নির্দেশেই তাদের গতি থেমে যাবে, তাদের আলো নিভে যাবে। আল্লাহ্‌ বলেনঃ

إِذَا الشَّمْسُ كُوِّرَتْ، وَإِذَا النُّجُومُ انْكَدَرَتْ

যখন সূর্য আলোহীন হয়ে পড়বে, যখন নক্ষত্র মলিন হয়ে যাবে...। (সূরা তাকভীরঃ ১-২) সন্দেহ নেই যে কিয়ামতের সময়ই চন্দ্র-সূর্যের এই অবস্থা হবে, তার পূর্বে নয়। আল্লাহ্‌ বলেন,

يَسْأَلُ أَيَّانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ، فَإِذَا بَرِقَ الْبَصَرُ، وَخَسَفَ الْقَمَرُ، وَجُمِعَ الشَّمْسُ وَالْقَمَرُ، يَقُولُ الْإِنْسَانُ يَوْمَئِذٍ أَيْنَ الْمَفَرُّ

সে আপনাকে জিজ্ঞেস করে, কিয়ামত কখন হবে? যখন দৃষ্টি চমকে উঠবে, চন্দ্র জ্যোতিহীন হয়ে যাবে এবং সূর্য ও চন্দ্রকে একত্রিত করা হবে। সেদিন মানুষ বলবে, পালানোর জায়গা কোথায়?চ (সূরা কিয়ামাহ্‌ : ৬-১০)

অতএব সূর্যকে আদেশ-নিষেধ করার ক্ষমতা কোন মানুষের নেই এবং এরূপ দাবী কেউ করলে নিঃসন্দেহে তা কুফরী বলে গণ্য হবে। আমাদের বুঝে আসে না চরমোনাই পীর সাহেব কিভাবে এই কুফরী কথা নিজের পুস্তকে উল্লেখ করে এরকম একটি সুস্পষ্ট গোমরাহী মূলক কথাকে বৈধতা দেয়ার জন্যে সাফাই গাইলেন! আল্লাহ্‌ আমাদের সবাইকে তাওহীদের সঠিক জ্ঞান দান করুন এবং সেই পথে পরিচালিত করুন।