১
তাওহীদ পুনরুদ্ধার
লেখকঃ আবদুল্লাহ্ আল কাফী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৯
মক্কার লোকদেরকে কেন মুশরিক বলা হয়েছে?
আল্লাহর প্রতি এত বিশ্বাস ও এই ইবাদতের পরেও কিন্তু তাদেরকে মুশরেক ঘোষণা দেয়া হয়েছে। কুরায়শদের আল্লাহকে স্বীকার করা- তিনি জগতের কর্তৃত্বকারী ঘোষণা দেয়া বা তাওহীদে রুবুবিয়্যাকে মান্য করা ইসলামে প্রবেশের জন্য যথেষ্ট ছিল না। তাদেরকে মুশরিক ঘোষণা প্রদান এবং তাদের জান-মাল হালাল করার মূল কারণ ছিল, তারা ফেরেশতা, নবী এবং ওলী-আউলিয়াকে শাফাআতকারী হিসেবে গ্রহণ করেছিল এবং আল্লাহর নৈকট্য পাওয়ার জন্য তাদেরকে উসীলা মনে করেছিল। ওলী-আউলিয়াদেরকে মূর্তী আকারে বানিয়ে তারা কাবা ঘরে বা নিজেদের বাড়ীতে রাখতো এবং ঐ সমস্ত আল্লাহ্ প্রেমিকের উসীলা ধরে আল্লাহকে ডাকতো। উদ্দেশ্য একটাই তারা যেন তাদের জন্যে আল্লাহর কাছে সুপারিশ করে দেন এবং আল্লাহর নৈকট্য পাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন। কেননা আল্লাহর কাছে তাদের বিশেষ মর্যাদা আছে এবং তারা আল্লাহর খাঁটি প্রেমিক। তাদের এই যুক্তিকে আল্লাহ্ পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেনঃ
وَالَّذِينَ اتَّخَذُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى “
আল্লাহকে বাদ দিয়ে যারা অন্যকে ওলী হিসেবে গ্রহণ করেছে, তারা বলেঃ আমরা তো এদের পূজা এজন্যেই করি যে, এরা আমাদেরকে আল্লাহর সান্নিধ্যে এনে দিবে। (সূরা যুমারঃ ৩) মূর্তীগুলোর মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য পাওয়ার আশা করাটাই তাদের ইবাদত করা। অতএব এখনও কেউ যদি বিশ্বাস করে যে, কোন মানুষ তাকে আল্লাহর সান্নিধ্যে এনে দিবে, তবে সে মুশরিক হয়ে যাবে। যেমন মুশরিক ছিল মক্কার মূর্খ লোকেরা।
কেউ হয়তো প্রশ্ন করতে পারে যে, কাফেররা মুর্তিদের নিকট থেকে কল্যাণ পাওয়ার আশা করতো। আর আমি সাক্ষ্য প্রদান করি যে, আল্লাহই শুধুমাত্র উপকার-অপকার ও কর্তৃত্বের মালিক। নেককারদের হাতে কোন কিছু নেই। কিন্তু শুধুমাত্র আল্লাহর কাছে সুপারিশের উদ্দেশ্যে নেককারদের কাছে গমণ করে থাকি।
উত্তরে আমরা বলব এ কথাটি হুবহু কাফেরদের কথার অনুরূপ। তারাও আল্লাহকে সকল কিছুর কর্তৃত্বের মালিক বিশ্বাস করত এবং শুধুমাত্র সুপারিশ পাওয়ার আশায় তাদের কাছে যেত। আল্লাহর বাণীঃ
وَيَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَضُرُّهُمْ وَلَا يَنْفَعُهُمْ وَيَقُولُونَ هَؤُلَاءِ شُفَعَاؤُنَا عِنْدَ اللَّهِ “
ওরা আল্লাহ্ ছাড়া এমন কিছুর উপাসনা করে, যে তাদের কোন উপকার এবং অপকার করার ক্ষমতা রাখে না। তারা বলে, এরা আমাদের জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশকারী। (সূরা ইউনুসঃ ১৮)
অতএব সুস্পষ্ট হয়ে গেল যে, দুআয় পীর সাহেবকে উসীলা করা প্রকাশ্য শির্ক এবং একাজ মক্কার কাফের মুশরিকদের অনুসরণ-অনুকরণ।
আল্লাহ্ কাকে শাস্তি দিবেন কাকে দিবেন না, কাকে কবুল করবেন কাকে কবুল করবেন না এটা একান্ত তাঁর ইচ্ছাধীন বিষয় এখানে কারো কোন অধিকার নেই। আর আল্লাহ্ কারো কাছে সে বিষয়ে কৈফিয়ত দিবেন না। তিনি এরশাদ করেনঃ
رَبُّكُمْ أَعْلَمُ بِكُمْ إِنْ يَشَأْ يَرْحَمْكُمْ أَوْ إِنْ يَشَأْ يُعَذِّبْكُمْ وَمَا أَرْسَلْنَاكَ عَلَيْهِمْ وَكِيلاً
তোমাদের পালনকর্তা ভাল জানেন, তিনি চাইলে তোমাদের প্রতি করুণা করবেন চাইলে তোমাদেরকে শাস্তি দিবেন। হে নবী আপনাকে আমি তাদের উপর কর্তৃত্বকারী হিসেবে প্রেরণ করিনি। (সূরা বানী ইসরাঈলঃ ৫৪)
একটি প্রশ্নঃ পীর সাহেবের দাবী মতে গুনাহগার বান্দাকে আল্লাহ কবুল করতে চান না, তখন তিনি দুআ করে কাকুতি মিনতী করে আল্লাহর কাছে তাকে কবুল করিয়ে দেন। পীর সহেবকে কি আল্লাহ্ কবুল করে নিয়েছেন? জবাব যদি হ্যাঁ হয়, তবে প্রশ্ন কার দুআয় তিনি আল্লাহর কাছে কবুল পেলেন? তর্কের খাতিরে যদি মেনে নেয়া যায় যে, আল্লাহ্ তাকে কবুল করে নিয়েছেন, তবে প্রশ্ন হচ্ছেঃ কিভাবে তিনি জানলেন যে আল্লাহ্ তাকে কবুল করে নিয়েছেন? তার কাছে কোন ওহী নাযিল হয়েছে?
আরেকটি প্রশ্নঃ যদি পীর সাহেবের দুআয় আল্লাহ্ মানুষকে কবুল করে নেন, তবে তো আমলের দরকার পড়ে না? আর যদি বলা হয় যে অধিক আমল ও পীরের দুআর মাধ্যমে আল্লাহ্ কবুল করবেন, তবে তো পূর্বে উল্লেখিত কুরআনের আয়াত ও হাদীছগুলো মিথ্যা হয়ে যায়। কেননা সেখানে তো শুধু আমলকেই কবুল হওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কোন নবী-ওলীকে মাধ্যম ধরতে বলা হয়নি।
অবশ্য নেক লোকেরা আরেকজনের জন্যে আল্লাহর কাছে দুআ করতে পারেন। কিন্তু আল্লাহর কাছে কবুল করাতে পারেন না। কেননা কোন পীরের সাথে আল্লাহর চুক্তি নেই যে, তিনি দুআ করলেই আল্লাহ্ তাকে কবুল করে নিবেন এবং এ ব্যাপারে আল্লাহর কোন বাধ্যবাধকতা নেই।
وَالَّذِينَ اتَّخَذُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى “
আল্লাহকে বাদ দিয়ে যারা অন্যকে ওলী হিসেবে গ্রহণ করেছে, তারা বলেঃ আমরা তো এদের পূজা এজন্যেই করি যে, এরা আমাদেরকে আল্লাহর সান্নিধ্যে এনে দিবে। (সূরা যুমারঃ ৩) মূর্তীগুলোর মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য পাওয়ার আশা করাটাই তাদের ইবাদত করা। অতএব এখনও কেউ যদি বিশ্বাস করে যে, কোন মানুষ তাকে আল্লাহর সান্নিধ্যে এনে দিবে, তবে সে মুশরিক হয়ে যাবে। যেমন মুশরিক ছিল মক্কার মূর্খ লোকেরা।
কেউ হয়তো প্রশ্ন করতে পারে যে, কাফেররা মুর্তিদের নিকট থেকে কল্যাণ পাওয়ার আশা করতো। আর আমি সাক্ষ্য প্রদান করি যে, আল্লাহই শুধুমাত্র উপকার-অপকার ও কর্তৃত্বের মালিক। নেককারদের হাতে কোন কিছু নেই। কিন্তু শুধুমাত্র আল্লাহর কাছে সুপারিশের উদ্দেশ্যে নেককারদের কাছে গমণ করে থাকি।
উত্তরে আমরা বলব এ কথাটি হুবহু কাফেরদের কথার অনুরূপ। তারাও আল্লাহকে সকল কিছুর কর্তৃত্বের মালিক বিশ্বাস করত এবং শুধুমাত্র সুপারিশ পাওয়ার আশায় তাদের কাছে যেত। আল্লাহর বাণীঃ
وَيَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَضُرُّهُمْ وَلَا يَنْفَعُهُمْ وَيَقُولُونَ هَؤُلَاءِ شُفَعَاؤُنَا عِنْدَ اللَّهِ “
ওরা আল্লাহ্ ছাড়া এমন কিছুর উপাসনা করে, যে তাদের কোন উপকার এবং অপকার করার ক্ষমতা রাখে না। তারা বলে, এরা আমাদের জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশকারী। (সূরা ইউনুসঃ ১৮)
অতএব সুস্পষ্ট হয়ে গেল যে, দুআয় পীর সাহেবকে উসীলা করা প্রকাশ্য শির্ক এবং একাজ মক্কার কাফের মুশরিকদের অনুসরণ-অনুকরণ।
আল্লাহ্ কাকে শাস্তি দিবেন কাকে দিবেন না, কাকে কবুল করবেন কাকে কবুল করবেন না এটা একান্ত তাঁর ইচ্ছাধীন বিষয় এখানে কারো কোন অধিকার নেই। আর আল্লাহ্ কারো কাছে সে বিষয়ে কৈফিয়ত দিবেন না। তিনি এরশাদ করেনঃ
رَبُّكُمْ أَعْلَمُ بِكُمْ إِنْ يَشَأْ يَرْحَمْكُمْ أَوْ إِنْ يَشَأْ يُعَذِّبْكُمْ وَمَا أَرْسَلْنَاكَ عَلَيْهِمْ وَكِيلاً
তোমাদের পালনকর্তা ভাল জানেন, তিনি চাইলে তোমাদের প্রতি করুণা করবেন চাইলে তোমাদেরকে শাস্তি দিবেন। হে নবী আপনাকে আমি তাদের উপর কর্তৃত্বকারী হিসেবে প্রেরণ করিনি। (সূরা বানী ইসরাঈলঃ ৫৪)
একটি প্রশ্নঃ পীর সাহেবের দাবী মতে গুনাহগার বান্দাকে আল্লাহ কবুল করতে চান না, তখন তিনি দুআ করে কাকুতি মিনতী করে আল্লাহর কাছে তাকে কবুল করিয়ে দেন। পীর সহেবকে কি আল্লাহ্ কবুল করে নিয়েছেন? জবাব যদি হ্যাঁ হয়, তবে প্রশ্ন কার দুআয় তিনি আল্লাহর কাছে কবুল পেলেন? তর্কের খাতিরে যদি মেনে নেয়া যায় যে, আল্লাহ্ তাকে কবুল করে নিয়েছেন, তবে প্রশ্ন হচ্ছেঃ কিভাবে তিনি জানলেন যে আল্লাহ্ তাকে কবুল করে নিয়েছেন? তার কাছে কোন ওহী নাযিল হয়েছে?
আরেকটি প্রশ্নঃ যদি পীর সাহেবের দুআয় আল্লাহ্ মানুষকে কবুল করে নেন, তবে তো আমলের দরকার পড়ে না? আর যদি বলা হয় যে অধিক আমল ও পীরের দুআর মাধ্যমে আল্লাহ্ কবুল করবেন, তবে তো পূর্বে উল্লেখিত কুরআনের আয়াত ও হাদীছগুলো মিথ্যা হয়ে যায়। কেননা সেখানে তো শুধু আমলকেই কবুল হওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কোন নবী-ওলীকে মাধ্যম ধরতে বলা হয়নি।
অবশ্য নেক লোকেরা আরেকজনের জন্যে আল্লাহর কাছে দুআ করতে পারেন। কিন্তু আল্লাহর কাছে কবুল করাতে পারেন না। কেননা কোন পীরের সাথে আল্লাহর চুক্তি নেই যে, তিনি দুআ করলেই আল্লাহ্ তাকে কবুল করে নিবেন এবং এ ব্যাপারে আল্লাহর কোন বাধ্যবাধকতা নেই।